
গিবত নীরব ঘাতকের মতো। মুসলমানের অজান্তেই নেকির ভাণ্ডার শেষ করে দেয়। এটি চুরি-ডাকাতি, সুদ-ঘুষ, ব্যভিচার ও মরা মানুষের পচা গোশত খাওয়ার চেয়েও মারাত্মক ও নিকৃষ্ট। বিস্ময়ের কথা হলো এ জঘন্য পাপটি মানুষ সব সময়ই করে থাকে।
গিবতের পরিচয়:গিবত আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হলো- পরনিন্দা করা, দোষচর্চা করা, কুৎসা রটনা, পেছনে সমালোচনা করা, কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষগুলো অন্যের সামনে তুলে ধরা। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষায় গিবতের পরিচয় ফুটে উঠেছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা কি জান গিবত কী? সাহাবিরা বললেন, (এ ব্যাপারে) আল্লাহ ও তার রসুলই ভালো জানেন। তখন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, গিবত হচ্ছে- তোমার ভাইয়ের ব্যাপারে এমন কিছু বলা, যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞেস করা হলো- আমি যা বলছি, তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, তাহলে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন, তুমি তার দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে যা বলছ, সেটা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলে তুমি তার গিবত করলে। আর যদি সেই ত্রুটি তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে। (মুসলিম: ২৫৮৯; তিরমিজি: ১৯৩৪)
কারও মধ্যে যদি সত্যিকারার্থেই কোনো দোষ-ত্রুটি থাকে, আর সেটা নিয়ে আলোচনা করা যদি তিনি অপছন্দ করেন, তাহলে সেই সত্যি কথাটা অপরকে বলে দেয়ার নামই হলো গিবত বা পরনিন্দা। আর যদি সেই দোষ তার ভেতরে না থাকে, তবে সেটা ‘বুহতান’ বা অপবাদ। অপবাদের শাস্তিও ভয়ংকর।
গিবত শোনার বিধান :গিবত করা যেমন মহাপাপ তেমনি খুশি মনে গিবত শোনাও পাপ। ইমাম নববি (রহ.) বলেন,গিবত শ্রবণকারীর কর্তব্য হলো গীবতকারীকে প্রতিহত করা এবং তাকে ধমক দেয়া। যদি কথার মাধ্যমে বিরত না রাখতে পারে, তবে হাত দিয়ে বাধা দেবে। যদি হাত বা মুখ দিয়ে বাধা দিতে না পারে, তাহলে সেই মজলিশ পরিত্যাগ করবে। আর বয়স্ক লোক, বাধা দেয়ার অধিকার আছে এমন ব্যক্তি, গণ্য-মান্য লোকের গিবত শোনার ব্যাপারে আলোচিত পরিস্থিতির চেয়ে আরো সজাগ-সতর্ক থাকতে হবে। আল-আযকার: পৃ. ২৯৪।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]