‘এনসিপি ও উপদেষ্টারা সবাই দুর্নীতিবাজ’
হাসনাত-সারজিস-স্লিগ্ধদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৫০
‘এনসিপি ও উপদেষ্টারা সবাই দুর্নীতিবাজ’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

‘জুলাইকে বিক্রি করে এনসিপি থেকে শুরু করে সমন্বয়করা- যারা উপদেষ্টা ছিল, সবগুলো দুর্নীতিবাজ। সরকার যদি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে, এরা সবাই দুর্নীতিবাজ হিসেবে প্রমাণিত হবে জাতির কাছে। এই জাতি কোনোদিন এদের ছাড় দেবে না। সরকারের কাছে আমার একটাই অনুরোধ, দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনেন এবং জুলাইযোদ্ধাদের বিষয়ে ফয়সালা করেন।’


প্রতারণা, মারধর ও জুলাইযোদ্ধার কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার আদালতে মামলা দায়েরের পর কথাগুলো বলেন জুলাইযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন।


ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নাম মো. গিয়াস উদ্দিন, পেশায় ইঞ্জিনিয়ার।


আমি জাইকায় চাকরি করতাম। গণঅভ্যুত্থান আমি সক্রিয়ভাবে শরীক হই এবং আমার বাম পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হই। আমি ভালোভাবে চিকিৎসাও পাইনি। জুলাই ফাউন্ডেশনে আমার গেজেট হয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে এমআইএস হয়।


জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে বারবার তারিখ দেওয়া হয় যে, আমার অনুদানের চেক হয়ে যাবে। এভাবে বেশ কিছুদিন ঘুরায়।’
‘ঘুরানোর পর আমি খুঁজতে খুঁজতে হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজিস এবং স্লিগ্ধদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা আমাকে আশ্বাস দেয় যে, আপনার সবকিছু ঠিক আছে, আপনি অতি শিগগিরই অনুদান পেয়ে যাবেন। তাদের সুপারিশক্রমে আমি জুলাই ফাউন্ডেশনে যাই।


সেখানে আমাকে বলে, আপনার চেক রেডি হয়ে গেছে, আপনি টাকা পাবেন।’


গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘কিছুক্ষণ পরে তারা আমাকে নিয়ে যায় ভেতরের একটা অন্ধকার রুমে, যেখানে কোনো আলো ছিল না- এটা অফিসের পেছনে। ওখানে নিয়ে উনারা আমাকে বলে যে, আপনার দুই ধাপের টাকা আমরা একসাথে দেব- প্রথম ধাপের ১ লাখ, দ্বিতীয় ধাপের দুই লাখ। আমরা আপনাকে দুই ধাপের টাকাই একসাথে দিয়ে দেব। তবে আমরা আপনাকে চেক দেব না। টাকা ভাঙিয়ে অর্ধেক টাকা আপনি পাবেন না, বাকি অর্ধেক টাকা আমরা আপনাকে দিয়ে দেব।’


তিনি বলেন, ‘তখন আমি এর প্রতিবাদ জানাই যে, এতদিন পর আমরা চিকিৎসা করতে পারি না, আমাদের কাজ-কর্ম সব বন্ধ, ট্রিটমেন্ট চলে না, এই অবস্থায় আমি কাউকে এক টাকাও দিতে পারব না এবং এটার ঘোর প্রতিবাদ জানাই। তখন চারজন মিলে আমাকে উপুর্যপুরি মারধর করে- ঘুষি মারে, কিল মারে, লাঠি মারে। এক পর্যায়ে আমি দেয়ালের সঙ্গে বারি খাই। একটা লোহার কি যেন ছিল, সেটা আমার মাথায় ঢুকে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। তারপর আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যাই, অনেক চিৎকার করি। কিন্তু ওখানে এমন জায়গা যে, শব্দ বাইরে যায় না। সেখানে ১০-১২ জন আসে আর যায় এবং আমাকে মারে। অজ্ঞান হওয়ার কিছুক্ষণ পর - আমি পানি চাই, উনারা আমাকে পানি খাওয়ায় এবং পরে আবার আমাকে টর্চার করে যে, আমাদের কথা না শুনলে যদি মরে যাই লাশ গুম করে ফেলবে।’


গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আরো অনেক জুলাইযোদ্ধার ওপর টর্চারিং করেছে। যে আশা নিয়ে শরীরের রক্তি দিয়ে আমরা নেমেছি (আন্দোলনে), সেই আশায় গুড়ে বালি দিয়ে তারা টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করে আমাদের ওপরে- নিরীহ জুলাইযোদ্ধাদের ওপরে নির্মন অত্যাচার করেছে।’


উল্লেখ্য, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গিয়াস উদ্দিনের করা মামলার আসামিরা হলেন- ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com