‌বিবার্তার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে মাহবুবউল আলম হানিফ
‘ইশতেহারে বেকারদের কর্মসংস্থান ও তরুণদের বিশেষ গুরুত্ব দেবে আ.লীগ’
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০৫
‘ইশতেহারে বেকারদের কর্মসংস্থান ও তরুণদের বিশেষ গুরুত্ব দেবে আ.লীগ’
সোহেল আহমদ
প্রিন্ট অ-অ+

মাহবুবউল আলম হানিফ। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সমসাময়িক রাজনীতি, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও উপ-কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান পাওয়া নিয়ে তিনি বিবার্তা২৪.নেটের ​সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিবার্তা প্রতিবেদক সোহেল আহমদ।


বিবার্তা: আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের ভাবনা কি?


হানিফ: আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে স্থানীয় সব নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কারণ প্রত্যেকটা ইউনিয়ন পরিষদেরই নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। একটা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হওয়াটাই যৌক্তিক। আমাদের নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ আছে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সে হিসেবে তারা তাদের দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়নে নির্বাচন করতে চায়। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সব সময় আন্দোলন এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকে। সেই প্রস্তুতির কারণে নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগের বাড়তি প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ে না। কমিশনের দায়িত্ব নির্বাচন করা। যখনই তারা তফশিল ঘোষণা করবে, আমরা আমাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করবো এবং নির্বাচনে অংশ নেবো।


বিবার্তা: দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন সময় নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর দলের নমনীয় ভাব দেখা যায়। এর কারণ কি?


হানিফ: নমনীয় ভাব দেখা যায়, ঠিক এভাবে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের দলের সিদ্ধান্ত আছে, যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ​প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবে তাদেরকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া এবং শোকজ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া। সে হিসেবে এ পর্যন্ত যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছে তাদেরকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। বিদ্রোহী হিসেবে একবার নির্বাচন করার কারণে তারা মাঠ পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি থাকার পরও পরবর্তীতে তাদেরকে আর কোনো পদ দেয়া হয় না। আমরাও তাদেরকে আর দলীয়ভাবে মনোনয়ন দিচ্ছি না। এর ব্যতিক্রম হয়তো দু’একটি জায়গায় হতে পারে। স্থানীয়ভাবে দলের সকলে মিলে হয়তো এর ব্যতিক্রম কাজ করে থাকতে পারে, সেটা আমার জানা নেই।


বিবার্তা: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ২২ তম জাতীয় সম্মেলন কবে নাগাদ হতে পারে?


হানিফ: বর্তমানে আমাদের আওয়ামী লীগের যে কমিটি আছে এর নির্ধারিত মেয়াদ ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। ২০১৯ সালের ২১-২২ ডিসেম্বর সর্বশেষ আমাদের জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিলো। সে হিসেবে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের মেয়াদ আছে। এরপরই হয়তো কাউন্সিল করা হবে।


বিবার্তা: আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি তৃণমূলে দল গোছানোর কথা বলেছেন। জানা গেছে, প্রায় ৪৩টি জেলার কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। নির্বাচনের আগে কি দল গোছানো সম্ভব?


হানিফ: জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আমাদের এই সাংগঠনিক স্তরগুলো প্রতিনিয়তই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকে। যে সমস্ত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে সেগুলো কমিটি গঠনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানো হবে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে দ্রুত সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু হবে। ইতিমধ্যে আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা কাউন্সিল শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছি। অনেক জায়গায় কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোকে দ্রুত কাউন্সিলের মাধ্যমে আপডেট করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।


আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সকল ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এবং উপজেলা কাউন্সিলগুলো সম্পন্ন করা এবং ডিসেম্বরের পরে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা কমিটিগুলো কাউন্সিলের মাধ্যমে আপডেট করা। এগুলো শেষ করার জন্য বেশি সময়ের প্রয়োজন নেই। আগামী মার্চের আগেই সকল মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কাউন্সিল শেষ করতে পারব। সেই সক্ষমতা আমাদের আছে।


বিবার্তা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা বলা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে কোন কোন বিষয় প্রাধান্য পেতে পারে?


হানিফ: ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় আছে। সেই সময়কে মাথায় রেখে এখনই নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তের একটি হচ্ছে আমাদের দল গোছানো। তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগঠনকে ঢেলে সাজানো, দলকে আরো শক্তিশালী করা এবং আরো জনমুখী করা। পাশাপশি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যে নির্বাচনী ইশতেহারটা নিয়ে আমরা জনগণের কাছে যেতে চাই সেখানে থাকবে টানা ১২ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে আমরা দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি কি পরিমাণ করতে সক্ষম হয়েছি এসব বিষয়। ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে যে ইশতেহার আমরা ঘোষণা করেছিলাম সে ইশতেহার অনুযায়ী আমারা এ পর্যন্ত কতটুকু পূরণ করতে পেরেছি এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ এর একটি রূপরেখা থাকবে ইশতেহারে।


আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে তারুণ্য নির্ভর, এজন্য নতুন ইশতেহারে তরুণদের বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হবে। আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের চিন্তা-চেতনা, কর্ম, ও শিক্ষার প্রসার ঘটানোর সুযোগ দেয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য কর্মক্ষেত্র তৈরি ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবো। এই বিষয়গুলোও ইশতেহারে যোগ করা হবে। বাংলাদেশ একটি প্রযুক্তিনির্ভর দেশ, ইতিমধ্যে আমরা তা করতে সক্ষম হয়েছি। এখন উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য। বিশেষ করে ফোর্থ জেনারেশন ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলেশন বিষয়ে যেটা আমরা বলেছি, সেই লক্ষ্যে প্রযুক্তি সম্পন্ন দেশ হিসেবে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেটাও আমাদের এই ইশতেহারে উল্লেখ থাকবে। এছাড়া আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ পরের একশ বছরে কোথায় যাবে, সেটার ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়ণ করেছেন, সেই ভাবনার একটা প্রতিফলন থাকবে। এবারের ইশতেহারটা হবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচনের ইশতেহারটা হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাংলাদেশ গড়ার ইশতেহার।


বিবার্তা: আওয়ামী লীগের কয়েকটি উপ-কমিটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ওই কমিটিগুলোতে নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছে ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের দেখা গেছে। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?


হানিফ: এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আওয়ামী লীগের সাব-কমিটির ভেতর বিতর্কিত ব্যক্তি থাকাটাই দুঃখজনক। যেখানে আমরা বলে আসছি, যারা অন্য দল থেকে বা কেউ যদি যোগদান করতে চায় সেক্ষেত্রে আমাদের যে গাইডলাইন আছে সেই গাইডলাইন অনুসরণ করার জন্য। যেমন যুদ্ধাপরাধী, মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে দলে নেয়া যাবে না। পাশাপাশি যদি কেউ কোনো অনৈতিকতার অভিযোগে অভিযুক্ত, সন্ত্রাস বা মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকেও দলে নেয়ার সুযোগ নেই। সেই নির্দেশনা উপক্ষো করে যদি কেউ সাব-কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভূক্ত করে থাকে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। গতকালকে (১৮ সেপ্টেম্বর) আমাদের সম্পাদকমন্ডলীর সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, যদি এ ধরণের কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয় অবশ্যই আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেবো। দলের সম্পাদকরা সাব-কমিটির দায়িত্বে আছেন, সেই সম্পাদকদের প্রতি নির্দেশনা থাকবে সাব-কমিটির মধ্যে বিতর্কিত কোনো ব্যক্তি থাকলে দ্রুত তাদের অপসারণ করা।


বিবার্তা: বিভিন্ন জেলায় দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টি শোনা যায়। দলীয় এসব কোন্দল কোথাও কোথাও সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। এসব কোন্দল নিরসনে কি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?


হানিফ: কোন্দল বলতে আসলে ঠিক আমি ওইভাবে দেখি না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে এই দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহৎ দল। সারাদেশে এই দলের লাখ লাখ নেতা-কর্মী আছে। বিশাল একটা কর্মী বাহিনী আছে। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে। সবসময় যে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে সংঘাত হচ্ছে এটা আমার কাছে মনে হয় না। এর মধ্যে অনেক নেতা-কর্মীদের মধ্যে সামাজিক, পারিবারিক দ্বন্দ্ব আছে। অনেক সময় দেখা যায়, পারিবারিক বা সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে সংঘর্ষ হলে রাজনৈতিকভাবে প্রচার করা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, যেটা নিতান্তই সামাজিক, পারিবারিক বা গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব। এর বাইরে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আছে যার কারণে অনেক সময় মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। সেই দ্বন্দ্ব থেকে নেতা-কর্মীরা দু'এক সময় ছোটখাটো সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে। এধরণের ঘটনার খবর পেলে সেগুলো সাংগঠনিকভাবে সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোগ নিয়ে নিরসন করার চেষ্টা করা হয়।


বিবার্তা: রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে আমলাদের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?


হানিফ: রাজনীতিবিদ এবং সরকারি কর্মকর্তা এই দুইটিই কিন্তু একে অপরের পরিপূরক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। রাজনীতি ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা হতে পারে না। একটা রাষ্ট্র পরিচালনা হয় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য রাজনীতির প্লাটফর্ম জরুরি। দল বা রাজনৈতিক আদর্শ সেটাকে ভিত্তি করে জনমত গড়ে তোলে এবং জনগণের সমর্থন বা ম্যান্ডেট পেয়ে তারা সরকার গঠন করে। সেই রাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচনা করার জন্য পরিকল্পনা করে থাকে। দেশ পরিচালনার জন্য তাদের যে ভিশন, যে লক্ষ্যমাত্রা থাকে, সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন। এখানে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হচ্ছে তারা এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাওয়া। সেই সম্পর্কটা হওয়া উচিত একে অপররে পরিপূরক হিসেবে।


কখনো কখনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা বেশি মাত্রায় ক্ষমতার প্রভাব খাটানোয় বিপত্তি আসে। আবার কখনো দেখা যায়, সরকারি কর্মকর্তারা তাদের ক্ষমতা দেখাতে চায় তখনও একটা বিপত্তি আসে। আমি মনে করি, যার যার অবস্থান থেকে তার অবস্থানটা ধরে রাখা এবং সেই নিয়মনীতি মেনে চলা দরকার। এখানে ক্ষমতা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই। সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সেবক হিসেবে তারা তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাদেরকে বিষয়টা মাথায় রেখে চলতে হবে। রাজনীতিবিদরাও এদেশের জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেন সেটিও তাদের মাথায় রেখে চলতে হবে। যদি এই দু’টি বিষয় সকলে মাথায় নিয়ে চলেন, তাহলে আমার মনে হয় না সেক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।


বিবার্তা: বিএনপির পক্ষ থেকে প্রায়ই করোনা মহামারি মোকাবেলায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ করা হয়। এ ব্যাপারে কি বলবেন?


হানিফ: বাংলাদেশে ঠিক এই মুহূর্তে করোনা সংক্রমণের হারের অবস্থানটা কি? আমাদের দেশে এই হার এখন পাঁচ শতাংশের নিচে চলে এসেছে। এটা অনেকটা স্বস্তিদায়ক অবস্থা। করোনার দুর্যোগ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৮ মাসের অধিক সময় পুরো পৃথিবী বিপর্যস্ত ছিলো। বিশ্বের অনেক ধনী, ক্ষমতাশালী ও উন্নত রাষ্ট্রকে করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হয়েছে। কারণ এটা একটা নতুন ভাইরাস ছিলো। এর কোনো ওষুধ ছিলো না। এটা কিভাবে মোকাবেলা করতে হবে কারো জানা ছিলো না। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে পদ্ধতি বের করেছেন।


করোনা দুর্যোগে পৃথিবীতে ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং ২৫ কোটির মতো মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। আমেরিকার মতো সবচেয়ে ক্ষমতাশালী, সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন ধনী রাষ্ট্র সেখানে প্রায় ৭ লাখের উপরে মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রায় তিন কোটির বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বহু দেশে করোনায় লাখ লাখ মানুষ মারা গেছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের মতো ঘনবসতির একটা দেশ যথেষ্ট ভালো করেছে।


আমাদের এখানে করোনায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, আমি মনে করি বিশ্বের অন্য উন্নত যে কোনো দেশের তুলনায় যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক। এটা সম্ভব হয়েছে কিভাবে? এটা সরকারের সফলতা। এটা কি বিএনপি করছে? ওদের প্রতিদিনের মিথ্যাচারের কারণে করোনা এমনি এমনি রোধ হয়ে গেছে? আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা তার দক্ষতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে আমাদের সীমিত সম্পদ নিয়ে এই করোনা দুর্যোগ মোকাবিলা করেছেন। যার ফলে আমাদের ক্ষয়ক্ষতি অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় যথেষ্ট কম হয়েছে এবং আমরা সংক্রমণের দিক থেকে সন্তোষজনক অবস্থায় আছি।


বিএনপি বিভিন্ন দুর্যোগ আসলে প্রেডিকশন করে যে, এতো লোক মারা যাবে। যখন দেখা যায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয় নি তখন তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরণের মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়। আমরা দেখেছি, এর আগে যে বন্যা হলো। বিএনপি বললো বন্যা, জলোচ্ছ্বাসে ৩০ লাখ লোক মারা যাবে। কিন্তু কোনো লোকই মারা যায় নি। বিএনপি হতাশায় পতিত হয়েছিলো। এখনো বিএনপি হতাশায় আছে। কারণ সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং সফলতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষতা, বিচক্ষণতার কারণে বাংলাদশ আজ চরম দরিদ্রশীল দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। পৃথিবীর অনেক দেশের কাছে বাংলাদেশ রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সীমিত সম্পদ নিয়ে দেশের অর্থনীতিতে এই পরিমাণ উন্নয়ন, অগ্রগতি খুব কম দেশই করতে পেরেছে। যেটা আমাদের বঙ্গবন্ধু কন্যা করে দেখাতে সক্ষম হয়েছেন।


বাংলাদেশ এই দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অর্থনীতিতে দ্রুত উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই সফলতাগুলো আসলে বিএনপির জন্য বড়ই কষ্টদায়ক। কারণ বিএনপি মূলত একাত্তরের সেই পাকিস্তানী প্রেতাত্মা। তাদের কাছে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে উন্নয়ন, অগ্রগতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাক এটা আসলে মানা কষ্টকর। পাকিস্তান যেমন আমাদের স্বাধীনতা মানতে পারেনি। বিএনপি পাকিস্তানের এজেন্ট বা দোসর হিসেবে তারাও আমাদের উন্নয়ন, অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে চায়। এখন উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার সক্ষমতা বিএনপির নেই। তাই তারা মিথ্যাচারের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করছে।


বিবার্তা: গুরুত্বপূর্ণ সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।


হানিফ: আপনাকেও ধন্যবাদ।


বিবার্তা/সোহেল/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com