তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে আ.লীগ যা করেছে, আমরাও তাই করবো: সালাম
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২১, ০৯:০০
তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে আ.লীগ যা করেছে, আমরাও তাই করবো: সালাম
জাহিদ বিপ্লব
প্রিন্ট অ-অ+

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক আব্দুস সালাম বলেছেন, আওয়ামী লীগ মুখে রাজনীতির কথা বলে। কিন্তু এই আওয়ামী লীগের আমলেই গণতন্ত্র সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি বলেন, সরকারের যদি সুবুদ্ধির উদয় না হয়, তাহলে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে আন্দোলনের নামে যা যা করেছে, আমরাও তাই করবো।


শনিবার (১৩ নভেম্বর) আব্দুস সালামের শান্তিনগরস্থ বাসভবনে বিবার্তার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিবার্তার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জাহিদ বিপ্লব। বিবার্তার পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো-


বিবার্তা: দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?


আব্দুস সালাম: রাজনীতিই নেই। আজকে সরকার শুধুমাত্র ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার জন্য সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলেছে। রাজনৈতিক চর্চা বা অনুশীলন স্তব্ধ হতে চলেছে। আওয়ামী লীগ মুখে রাজনীতির কথা বলে। কিন্তু ৫০ বছরের বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার সবচেয়ে বেশি সুযোগ ছিলো আওয়ামী লীগের। কথাটা কঠিন হলেও সত্য, এই আওয়ামী লীগ আমলেই গণতন্ত্র সবচেয়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। আমরা মুক্তিযুদ্ধে কেন অংশ নিয়ে নিয়েছিলাম? পাকিস্তানিদের হাত থেকে কেন দেশকে স্বাধীন করেছিলাম? এটার উত্তর একটাই-আমাদের মৌলিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সমঅধিকার অর্জনের জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতার এলে প্রথমেই হোঁচট খেয়েছে গণতন্ত্র। আর গণতন্ত্র যখন থাকে না, তখন মানুষের মৌলিক অধিকারও থাকে না। তখন আমি স্বাধীন কিনা সে প্রশ্নটি জেগে ওঠে।


বিবার্তা: বেগম জিয়ার মুক্তিসহ অনেক ইস্যু নিয়ে বিএনপি আন্দোলন চাঙ্গা করতে পারেনি। এ ব্যর্থতাকে আপনি কিভাবে দেখছেন?


আব্দুস সালাম: এ প্রশ্নটাই সঠিক নয়। বিএনপি মানুষের অধিকার নিয়ে সব সময়ই কথা বলেছে। বিএনপিকে এই সরকার নিশ্চিহ্ন করার সব ধরনের চেষ্টা করেছে। দেশের স্বাধীনতার থেকে যদি ইতিহাস পর্যালোচনা করেন তাহলে এটাই প্রমাণ হবে বিএনপি এদেশের জনগণের কণ্ঠস্বর। গুম-খুন, জেল-জুলুম ও নির্যাতন উপেক্ষা করে সবসময়ই সাহসের সাথে দেশের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করেছে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন- এই আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন বৈষম্য ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন করতে গিয়ে কতজন কর্মী গুম হয়েছে, কতজন কর্মীকে খুন করা হয়েছে। কতজন কর্মী আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। এগুলো তো আন্দোলনের কারণেই হয়েছে।


আজকে গণতন্ত্রের লেবাস পড়ে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত। আজকে এদেশে বিএনপির জন্য কোনো ধরনেরই গণতন্ত্র নেই। মিছিল-সমাবেশ করার অধিকার নেই। সত্য কথা বলার অধিকার নেই। নেই সুবিচার পাওয়ার অধিকার। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থক মেধাবী হলেও তাদের চাকরি পাওয়ার অধিকার নেই। আর যারা চাকরিতে আছেন তাদেরকেও বিএনপি করার অপরাধে চাকরি হারাতে হচ্ছে অথবা ওএসডি করা হচ্ছে। এ অবস্থাও বিএনপিকে সরকার দমিয়ে রাখতে পারছে না। প্রতিদিনই সরকার প্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রী-এমপিরা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নাম জপছেন। বিএনপি যদি নাই থাকে তাহলে তাদের নিয়ে সরকারের এত ভয় কিসের? আন্দোলনের প্রশ্নে পরিস্কার কথা-আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আমরা এখনও চাই সরকার মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিক। সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হোক।


কিন্তু সেই পথকে রুদ্ধ করে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য, একনায়কতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে সবার অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে। সরকার সে পথ হতে ফিরে আসুক, আমরা এটাই চাই। যদি তারা সে পথ থেকে ফিরে না আসে, তাহলে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের নামে যা যা করেছে আমরা তাই করবো।



বিবার্তা: আপনারা আন্দোলন নাকি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ গোছাচ্ছেন?


আব্দুস সালাম: ভোটের অধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার জনই আমাদের আন্দোলন। এ সরকারের আমলে আমরা নির্বাচনে গিয়েছিলাম। তখনও আমাদের বক্তব্য ছিলো-একটি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন, পুলিশসহ প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে না। যা এ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচনেই প্রমাণ হয়েছে। এ কারণে গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় অশনিসংকেত হলো সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এটি গণতন্ত্র বা দেশের জন্য সুখকর নয়। জনগণকে এই অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্যই আমাদের এ আন্দোলন।


বিবার্তা: খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার বিষয়ে আপনারদের সুনির্দিষ্ট কোন কর্মসূচি নেই কেন?


আব্দুস সালাম: সভা-সমাবেশ করেছি। শুধু দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নয়, সারাদেশকেই সরকার কারাগারে রূপান্তরিত করেছে। এই বৃহৎ কারাগার থেকে মুক্তির জন্যই আমরা লড়াই করছি। গণতন্ত্র মুক্ত হলেই দেশনেত্রী মুক্তি পাবেন, জনতা মুক্তি পাবে, তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের ফিরে আসবেন বীরের বেশে।


বিবার্তা: অনেকেই বলছেন নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগছে, এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?


আব্দুস সালাম: বিএনপিতে কোনো নেতৃত্ব শূন্যতা নেই। কারণ, বেগম জিয়া এখনও জীবিত আছেন। তাকে হত্যা করার জন্য সরকার অনেক ফন্দিফিকির করেছে। তার সুচিকিৎসার চেষ্টা বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরও দেশবাসীর দোয়ায় আল্লাহ রহমতে তিনি বেঁচে আছেন এবং সুস্থ হয়ে কারাগার থেকে জনতার মাঝে ফিরে আসবেন। নেত্রীর অবর্তমানে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। তাই বিএনপিতে কোনো নেতৃত্ব সংকট নেই। সরকার বিএনপিকে দুর্বল করতে এইসব অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।


বিবার্তা: জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতির প্রতিবাদে রাজপথে আপনাদের সরব উপস্থিতি নেই কেন?
আব্দুস সালাম: আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিবাদ জানানোর জন্য। প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশও করেছি। তেল ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে লিফলেট বিতরণ করেছি। সবচেয়ে বড়কথা হচ্ছে- সরকার আমাদের কোনো কর্মসূচিই পালন করতে দিচ্ছে না। কিছুদিন আগে মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর লুটপাটের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ করার চেষ্টা করলাম। মিছিল করতে দিলো না। সমাবেশ করলাম। সমাবেশ শেষে কর্মীরা ফেরার পথে আপনারা দেখেছেন কিভাবে শতশত রাউন্ড গুলি, টিয়ার শেল, লাঠিচার্জ ও গ্রেফতার করা হলো। সেগুলো সবাই প্রত্যক্ষ করেছে। কোনোভাবেই বিএনপিকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। এরমাঝেও আমরা আছি।


আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ব্যারিকেড ভেঙে চূড়ান্ত আন্দোলনের সূচনা করবো। আরেকটি বিষয় আপনাকে বলতে চাই, সভা-সমাবেশ, কথা বলা আমার মৌলিক অধিকার। এবিষয়ে আমরা ডিএমপির সাথে কথা বলেছি। বিষয়গুলো তাকে নিশ্চিত করতে বলেছি। সভা-সমাবেশ নিশ্চিত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান বরাদ্দ করার জন্য আমরা অনুরোধ করেছি। যাতে সেখানে সকল রাজনৈতিকদল সমাবেশ করে তাদের কথা বলার সুযোগ পায়।


বিবার্তা: ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির দায়িত্ব পেয়েছেন, সংগঠন শক্তিশালী করতে আপনার পরিকল্পনা কী?


আব্দুস সালাম: আমরা তৃণমূল পর্যায়ে, বিশেষ করে ইউনিট, ওয়ার্ড, থানা কমিটিগুলো পুনর্গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছি। যদিও বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরকারের পেটোয়া বাহিনী বিভিন্নভাবে আমাদের বাধাগ্রস্ত করছে। তারপরও আমরা সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।


বিবার্তা: সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।


আব্দুস সালাম: বিবার্তাকেও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা।


বিবার্তা/বিপ্লব/কেআর/এমও

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com