‘কৃষকের সন্তান হয়ে এমপি-মন্ত্রী হয়েছি, আর কি চাই’ (শেষ পর্ব)
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২১, ১৭:৪৯
‘কৃষকের সন্তান হয়ে এমপি-মন্ত্রী হয়েছি, আর কি চাই’ (শেষ পর্ব)
সোহেল আহমদ
প্রিন্ট অ-অ+

আমি কৃষকের সন্তান। গ্রামে কৃষি কাজ করে বড় হয়েছি। আমার রক্তে বইছে প্রচণ্ড রোদে পুড়ে, ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে ফসল উৎপাদন করা কৃষকের কষ্ট। তাই কৃষির প্রতি টান থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার খাদ্য ঘাটতির দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে পরিণত করার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আমি সবসময়ই কৃষকদের সংঘবদ্ধ করার কাজটা করি। প্রতিবছর আমার এলাকার কৃষি খামারিদের নিয়ে মোটিভেশনাল ওয়ার্ক করি। উপজেলা, জেলা পর্যায়ে কৃষকরা যাতে তাদের কাজে উৎসাহ না হারায়, সেজন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে নিয়মিত মিটিংও করে থাকি।


এভাবেই নিজের রাজনীতি জীবনের স্মৃতিচারণ করছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস এমপি।


সম্প্রতি বিবার্তার কার্যালয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে কথা বলেছেন বরণ্যে এই রাজনীতিবিদ। তার সেই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে দীর্ঘ আলাপচারিতা বিবার্তায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। আজ বিবার্তা২৪ডটনেটের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো শেষ পর্ব।


বিবার্তা : আপনি ভারতে ট্রেনিং নিয়ে মুজিব বাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেছেন। সে সম্পর্কে জানতে চাই। সংক্ষেপে যদি কিছু বলতেন. . .


মো. আব্দুল কুদ্দুস : ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথানের পর থেকে আমরা মনে করতাম একটা সময় যুদ্ধে যেতে হবে। ওই সময়ে গেরিলা সংগঠন ছিলো- বিএলএফ। বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট। পরে ওইটা মুজিব বাহিনী বলে চিহ্নিত হয়েছে। কিন্তু ছাত্ররা যেন ইন জেনারেলভাবে ক্যাম্পে না যায় সেজন্য আমাদের খেয়াল রাখতে হতো। ওই ক্যাম্পে সরকারের থেকে পলিটিক্যাল নিয়োগ পাই আমি। ওই সময়ে ইশ্বরদী থেকে চাপাইনবাবগঞ্জ পযন্ত ছাত্রদের সংগঠিত করতে কাজ করেছি। ১৯৭১ সালের মার্চে যখন পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু হলো ওই মাসে রাজশাহীতে কোনো ক্যাম্প করা হলো না। পরে এপ্রিল মাসে থিয়েটার রোডে কামারুজ্জামান হেনা ভাইয়ের কাছে গিয়ে বললাম, দেশের সব জায়গায় ক্যাম্প হয়েছে রাজশাহীতে হলো না কেনো? ওসমানী সাহেব যখন তাজউদ্দিন সাহেবের রুমে গেলেন তখন তিনিও গেলেন। তিনি বললেন, বহরামপুর-মালদহ একটা ক্যাম্প হবে। ওই ক্যাম্পের নেতৃত্ব দেবে কুদ্দুস।


মালদাহ জেলার পদ্মার এইপাড়ে রাজশাহী ওইপাড়ে ভারত। ক্যাম্প হয়ে যাওয়ার পর ২ মাস পরপর ট্রেনিং হতো। তারপর আমি ওখানে গেলাম- গিয়ে ব্রিগেডিয়ার মজুমদার সাহেবকে বললাম, দুই মাস পর পর ট্রেনিং হয় এগুলো ছেলে খেলা হচ্ছে না-কি? পরে ছেলেদেরকে বিভিন্ন এলাকায় ট্রেনিংয়ের জন্য পাঠানো হলো। তারপর ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্টে গিয়ে সেখান থেকে ১২টা মিলিটারি গাড়ি নিয়ে আসছি। আর ১০-১২ জন নিয়ে আমি চলে গেলাম দেরাদুমে। যেখানে মুজিব বাহিনী ট্রেনিং নিতো। জেনারেল ওবানের নেতৃত্বে সেখানে গেরিলা ট্রেনিং হতো। ট্রেনিং নিয়ে চলে গেলাম শিলিগুড়িতে তারপর সেখান থেকে কলকতায় চলে গেলাম। গেরিলা ট্রেনিংয়ের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান হতো। রাজশাহী অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল দৃঢ় রাখা, সংঘটিত করা, নতুন করে রিক্রোটমেন্ট করা এইসব করতাম। নানা জায়গায় বহু ছেলে আহত হলো, মারা গেলো। এইভাবে হানাদার পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলতে থাকলো। এক সময় সহযোদ্ধাদের বীরত্বে স্বাধীন দেশ পেয়ে গেলাম।


বিবার্তা : এবার একটু ভিন্ন প্রসঙ্গ। জেনেছি অপনার মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হওয়া নিয়ে একটা ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনাটা কী ছিল?


মো. আব্দুল কুদ্দুস : আমার মন্ত্রী হওয়ার কথা নয়। যদিও হওয়ার কথা ছিলো তা সবার আগে। একটা আসন কম হইলে ওই সময়ে মন্ত্রিপরিষদ হইতো না। সে কথায় যাচ্ছি না। বিষয় হলো ১৯৯৯ সালের ২৮ ডিসেম্বরে আমি সেক্রেটারিয়েট গেলাম। পদত্যাগ করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তো সেক্রেটারিয়েট থেকে বলা হলো, তোমার পদত্যাগ করার দরকার নাই তুমি অনুপস্থিত থাকো, সংসদে এসো না। ৯০ দিন অনুপস্থিত থাকলে অটোমেটিক সংসদ সদস্য পদ শেষ হয়ে যায়। ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে সংসদে অনুপস্থিতির আমার ৯০ দিন পূর্ণ হয়ে যায়। তো এর আগেই আমি জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলরুমে সংবাদ সম্মেলন ডাকি। ওই সংবাদ সম্মেলনে বলি যে, ৩০ তারিখ সন্ধ্যায় রাজনীতি থেকে আমি বিদায় হয়ে যাবো। বিদায় নেয়ার আগে এলাকার জন্য কিছু কাজ করে যাবো এমন ভাবনা থেকে সেক্রেটারিয়েট যাই। জিল্লুর ভাই তখন পার্টির সেক্রেটারি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। উনার কাছে একগাদা কাগজ দিয়ে গেছি। রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ ও কালভাট ইত্যাদি করার জন্য ডিও লেটার দিয়ে গেছি। ওবায়দুল কাদের সাহেব তখন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। আর সাদেক সাহেব শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। উনি এতো একটা ভালো মানুষ ছিলেন আমি যাই বলেছি করে দিয়েছেন। আমি বিদায় নিতে গিয়ে এই তিনটা জায়গায় শেষ কিছু কাজের জন্য গেলাম।


জিল্লুর ভাইয়ের কাছে গেলাম। জিল্লুর ভাই বলেছেন, তোমার জন্য ভাই কিছুই করতে পারলাম না। তোমার জন্য সরকার হলো। তোমার আসনটা না হইলে সরকারই হতো না। অথচ কোন চক্রান্তের শিকার হলে তুমি আমি কিছুই বলতে পারছি না। তখন আমি বললাম, চিফ ইঞ্জিনিয়ার আপনার দেয়া কাজের ব্যবস্থা নিবে। ভাই মাফ-টাফ…। ভাই এগুলা কি বলো? তুমি পাটির সেক্রেটারি। বঙ্গবন্ধুর পরে তুমি আমাদের নেতা। বঙ্গবন্ধু প্রেসিডেন্ট ছিলেন আর তুমি ছিলে সেক্রেটারি।


একই বিল্ডিংয়ের চার তলায় বসেন ওবায়দুল কাদের সাহেব। উনার কাছে গেলম। উনি দেখেই বলেন, হায়রে কুদ্দুস ভাই, আপনারে অনেকদিন পর দেখলাম। আপনারে পার্লামেন্টে দেখা যায় না কেন? জবাব দিলাম, এমনি। ঢাকায় কয়দিন আছেন? আছি কয়দিন, চলে যাবো। যাইয়েন না, ওয়েট করেন। আমি বললাম ভাই, আপনারা যে ক্রীড়া সামগ্রী দেন এমপি সাহেবদেরকে। এতো হেয় প্রতিপন্ন করেন কি জন্যে। ১২ টা করে ফুটবল দেন, ৬টা করে ভলিবল আর একটা করে দেন ক্রিকেট সেট। এগুলো তো আমরা কিনে দিতে পারি। উনি বলেন, আপনি কতগুলি চান। আমি বললাম, যতগুলো ইচ্ছা দেন। ৩০০ ফুটবল, ১৫০ ভলিবল ও ৪টা ক্রিকেট সেট দেয়া হলো। বের হওয়ার আগে কাদের সাহেব বললেন, যাচ্ছেন যান তবে ঢাকা ছেড়ে যাইয়েন না। আমি ব্যাপারটা বুঝলাম না। আমি বের হয়ে আসলাম। ওবায়দুল কাদের সাহেবের রুম থেকে বের হওয়ার পর পেছনে থেকে কেবিনেট মিনিস্ট্রির জয়েন্ট সেক্রেটারি ডাক শুরু করলেন, ও স্যার ও স্যার, দাঁড়ান স্যার, স্যার। আমি ও আমার সাথে ৪-৫ জন এমপি ছিলেন। সবার গায়ে মুজিব কোট। কাকে ডাকছিলেন কে জানে। আমি যখন লিফটের কাছে দাঁড়িয়ে আছি, তখন আমারে বলেন, স্যার, একটা কথা ছিল। কি কথা বলেন? স্যার, আপনি বাসায় যান। আমি তখনো কিছু বুঝিনি।


বাসায় যাওয়ার পর মা বলে, তুমি দেখি আজ তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরলে। আসলে ২ টার আগে আমার বাসায় যাওয়ার কথা না। মুজিব কোট, পায়জামাটা খুলেছি এইসময় একটা টেলিফোন আসলো। কেবিনেট থেকে ফোন আসে। তখন ১৪ রোজা। ফোন থেকে বলা হয়, স্যার আজকে বিকাল ৪ টায় আপনার শপথ আছে। আপনাকে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য করা হয়েছে। খাওয়া-দাওয়া শেষ করলাম। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন মান্নান ভাই। তিনি ফোন করে বললেন, ৩ টার দিকে বঙ্গভবনে যেতে হবে। ওখানে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করালেন। আমাদের ১০ জনের শপথ পড়ানো হয়। পরে ইফতার পার্টি হলো। এইভাবে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হয়ে গেলাম আরকি।


বিবার্তা : আপনি সপ্তম সংসদে মৎস্য ও পশু সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। ওই সময়টাতে এমন কি কাজ করেছেন যার জন্য মানুষ আজীবন আপনাকে মনে রাখবে?


মো. আব্দুল কুদ্দুস : মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হওয়ার পর দেড় বছরের জন্য প্রতিমন্ত্রী হলাম। ২০০০ সালে দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা হলো। বন্যায় মাছের ঘের, গবিাদিপশুর খামার তলিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী বললেন, যাও ওখানকার পরিস্থিতি দেখে আসো। আমি সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া এসব এলাকায় গেলাম। গিয়ে দেখি বন্যায় এসব এলাকার মাছের ঘের, গবিাদিপশুর খামার, কৃষি জমি সব তলিয়ে গেছে। সবকিছু দেখে স্থানীয়দের কথা শোনে আসলাম। এসে প্রধানমন্ত্রীকে বললাম, আপনার একটা কাজ করতে হবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় মৎস্য, গবাদিপশুর খামার হচ্ছে। এসব খামারিদের যদি প্রণোদনা না দেয়া হয়, তাহলে এরা ঠিকে থাকতে পারবে না। যারা ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তাদেরকে অনুদান দিতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে মৎস্য, পশু কর্মকর্তা প্রতি বছর টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। যাতে তারা স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্থদের অনুদান দিতে পারেন। ওই সময় থেকে প্রতিটি উপজেলায় গরু, মুরগি মৎস্য চাষের জন্য প্রচুর অনুদান দেয়া শুরু হয়। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এটা আমার একটা বড় অ্যাচিভমেন্ট।


৫ বছরের মিনিস্ট্রি ওয়াইজ সালতামামি হলো। উৎপাদনে তখন ৪ নাম্বারে ছিলাম। সেক্টরটা নেত্রী আমাকে ভাগ করে দিয়েছিলেন। আসম আব্দুর রবকে একটা অংশ দিয়েছিলেন। যত কর্মকর্তা রিটায়ার্ড করেছেন তারা এখনো যোগযোগ করেন। আমার কারণে এই প্রণোদনা এখনো নিয়মিত দেয়া হয়।


বিবার্তা : যতদূর জেনেছি আপনি কৃষি কাজের বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে যুক্ত আছেন। এ বিষয়ে যদি কিছু বলতেন।


মো. আব্দুল কুদ্দুস : আমি কৃষকের সন্তান। গ্রামে কৃষি কাজ করে বড় হয়েছি। কৃষির প্রতি টান থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার খাদ্য ঘাটতির দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে পরিণত করার দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আমি সবসময়ই কৃষকদের সংঘবদ্ধ করার কাজটা করি। প্রতিবছর আমার এলাকার কৃষি খামারিদের নিয়ে মোটিভেশন ওয়ার্ক করি। উপজেলা, জেলা পর্যায়ে কৃষকরা যাতে উৎসাহ না হারায় সেজন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে নিয়মিত মিটিংও করে থাকি। কৃষকরা কেবল খাদ্য নিরাপত্তা নয় বরং পুষ্টি নিরাপত্তা বিধানের কাজও করে থাকেন। আমি মনে করি, জীবনযাত্রায় মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হলে কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর মনোযোগ দিতে হবে।


বিবার্তা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনীতির বর্তমান আবস্থাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?


মো. আব্দুল কুদ্দুস : মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেয়া দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। বিএনপি মাশাল ল’জারি করে রাস্তার রাজনীতি, ভিখারীদের টেনে নিয়ে এসে দলে পদ দিয়ে দল করেছে। দল করে ক্ষমতায় কিন্তু আসে নাই। আমরাই একমাত্র দল যারা রাজনীতি করে ক্ষমতায় এসেছি। ১৯৭০-এর নির্বাচন থেকে শুরু করে সবগুলো নির্বাচনই গণতান্ত্রিকভাবে হয়েছে। জিয়া, এরশাদ, খালেদার সময় রাজনীতির যে ক্ষতি হয়েছে এর থেকে বের হতে পারতেছি না। আপনারা দেখছেন সাম্প্রদায়িক শক্তি কিন্তু এখনো বিলীন হয়নি। আমাদের উচিত বঙ্গবন্ধু যেটা চেষ্টা করেছিলেন সেই দিকে যাওয়া। তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতা এক ও অভিন্ন। স্বাধীনতা মানেই বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশে সরকারি দল হবে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি, বিরোধী দলও স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হওয়া উচিত। আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য এটা যে, আমাদের এই দেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার ২৯ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো স্বাধীনতার বিরোধী শক্তি। এখনও কিন্তু সেই শক্তি শেষ হয়নি। বিএনপি, জাতীয় পাটি, জামায়াত, যদিও হাইকোর্ট এদের অবৈধ ঘোষণা করছে, তারপরেও কিন্তু নির্বাচন কমিশন এখনও নিষিদ্ধ করছে না। তারা বলছে সরকার করলে পরে আমরা করবো। কিন্তু হাইকোর্টের ওপরে তো আর সরকার না। তারা কিন্তু এখনও আছে, তাদের কমিটি আছে, ছাত্রশিবির আছে। বাংলাদেশকে যারা বিশ্বাস করে না তারা কিন্তু এখনো রাজনীতি করছে। সেখানে কেন আমরা স্ট্রেইট অ্যাকশনে যেতে পারছি না সেটা কিন্তু আমারও একটা প্রশ্ন। আমি বলব যে, আমাদের দেশকে আরো বহু দিন, বহু পথ পাড়ি দিতে হবে। আদর্শিকভাবে এক ও অভিন্ন থাকলেও আমরা চাই মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বিরোধী দলে থাকবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তিরে ভুলগুলো চিহ্নিত করে দিবে। আমরা কিন্তু বিএনপির সবক, জাতীয় পার্টি-জামায়াতের তথাকথিত সবক চাই না।


বিবার্তা : ব্যক্তি হিসেবে জীবনে কোনো আফসোস রয়েছে কিনা?


মো. আব্দুল কুদ্দুস : আমার জীবনে কোনো আফসোস নাই। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দলের সঙ্গে সেই ছোটোবেলা থেকে জড়িত। আমি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করতাম, এখন আওয়ামী লীগ করি। কৃষকের সন্তান হয়ে এমপি হইছি, মন্ত্রী হয়েছি। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিছি। মুক্তিযুদ্ধে ১ বছর ৪ মাস বয়সী আমার বড় ছেলে কল্লোল মারা গেলো। আমি নিজে জীবনে কতবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি তার হিসেব নাই। দল থেতে ৭ বার নমিনেশন দিয়েছে। কিছু পাই বা না পাই এই নমিনেশন পাওয়া তো একটা স্বীকৃতি। এর চেয়ে জীবনে আর বেশি কি প্রয়োজন। যদি আমি মন্ত্রী না হতাম তাহলে হয়তো শিক্ষক হতাম। রিটায়ার করতাম এইতো।


বিবার্তা : আপনার রাজনৈতিক জীবনে বরণীয় ব্যক্তিত্ব কারা?


মো. আব্দুল কুদ্দুস : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তোফায়েল আহমেদ, সাজেদা চৌধুরী, ইন্ধিরা গান্ধী, মহাত্মা গান্ধী ও ফিদেল কাস্ত্রো প্রমুখ।


বিবার্তা : কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?


মো. আব্দুল কুদ্দুস : আমি বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ দেখতে চাই। দেখতে চাই এমন একটা সোনার বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি মানুষ সুখে, শান্তিতে থাকবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু চিরদিন সবার কাছে বঙ্গবন্ধু হয়েই থাকবে। আমি এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই। (সমাপ্ত)


বিবার্তা/সোহেল/গমেজ/জাই


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com