ওই কাগজে লেখো, ‘কেয়ার অব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ (পর্ব-২)
প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২১, ২১:২২
ওই কাগজে লেখো, ‘কেয়ার অব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ (পর্ব-২)
মো. আব্দুল কুদ্দুস এমপি
সোহেল আহমদ
প্রিন্ট অ-অ+

বঙ্গবন্ধু পিজি হাসপাতালের ডাইরেক্টর নুরুল ইসলামকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেন, আমার কুদ্দুস কেমন আছে? মো. আব্দুল কুদ্দুসের শরীরের অবস্থা জানানোর পর নুরুল সাহেব বলেন, উনার একটু সমস্যা হয়েছে। সেটা হলো, উনার যে কাগজপত্র হাতে পেয়েছি, তাতে তো শুধু নাম পেয়েছি, কিন্তু উনার বাবার নাম নেই। বঙ্গবন্ধু বলেন, ওই কাগজে যেখানে ওর বাবার নাম নেই সেখানে লেখো, কেয়ার অব বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর শোন, তুমি যে কোনোভাবেই হোক, ওকে সুস্থ করে তোলো। আমি ওকে জীবিত দেখতে চাই। পরে বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শেষে নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরে এয়ারপোর্ট থেকে গাড়ি নিয়ে সোজা পিজি হাসপাতালে চলে আসেন। এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু দিলেন। এসব দেখে সব ডাক্তাররা তো হতভম্ভ! এ কি ঘটনা!


এভাবেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে নিজের ছাত্ররাজনীতি জীবনের স্মৃতিচারণ করছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস এমপি।


তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে বঙ্গবন্ধুর সাথে সরাসরি রাজনীতি করার ফলে কাছ থেকে দেখেছি বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শ। বঙ্গবন্ধু একজন আদর্শ নেতা ছিলেন। তার সান্নিধ্যে থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমিও বঙ্গবন্ধুর নীতি আর আদর্শকে বুকে ধারণ করেছি। সে নীতি আর আদর্শ অনুসারে মানুষের সেবায় রাজনীতি করে যাচ্ছি।


সম্প্রতি বিবার্তা কার্যালয়ে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন বরণ্যে এই রাজনীতিবিদ। একান্ত আলাপচারিতায় উঠে আসে বঙ্গবন্ধুর সরাসরি নেতৃত্বে তাঁর রাজনৈতিক জীবন, বঙ্গবন্ধুর সাথে কাটানো বিভিন্ন মধুর স্মৃতি। তাঁর সেই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে দীর্ঘ আলাপচারিতা বিবার্তায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। আজ বিবার্তা২৪ডটনেটের পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হলো দ্বিতীয় পর্ব।


বিবার্তা: জেনেছি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আপনি সরাসরি রাজনীতি করেছেন। বঙ্গবন্ধুর সাথে কাটানো সেই দিনগুলো কেমন ছিলো?


মো. আব্দুল কুদ্দুস: সেই গল্প বলতে গেলে শেষ হবে না। তবুও ছোট করে বলি। ১৯৭৪ সালে নাটোরের একটা অংশ, রাজশাহীর বাঘমারা, আত্রাই, ভবানীপুর, গোদাগাড়ী, তানোর এই অঞ্চলে বিপ্লবী সরকার গঠন করবে অহিদুর রহমান। প্রতিদিনই মানুষ খুন হয়। সন্ত্রাসীরা তিন মাসে ৩২৬ মানুষ খুন করেছে। ওরা নাকি জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা প্রতিষ্ঠা করবে। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন দখল করবে, বাংলাদেশের মুদ্রা পরিবর্তন করবে। এই সব হচ্ছে তাদের পরিকল্পনা। ডিগ্রি কলেজের একটা মেয়ে ছিলো। সে কলেজের মহিলা-বিষয়ক সম্পাদক। ওর বাড়ি আত্রাইয়ে। তার রুমমেট আবার জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলার সঙ্গে যুক্ত। ওর কাছে একটা বই মেয়েটা পড়তে দিয়েছে। ওই বইয়ের প্রথম দিকের কয়েক লাইনে বঙ্গবন্ধুর বংশ নিয়ে বিভিন্ন আজেবাজে কথা লিখেছে। ধ্বংস করতে হবে, খুন করতে হবে এসব আর কি। এছাড়া জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা সরকার গড়ার বিভিন্ন বিষয়ে লেখা ছিলো।