কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ১৪:২৯
কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রিন্ট অঅ-অ+

কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের বিরুদ্ধে ‘বৈষম্যপূর্ণ আচরণের’ অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করবে তার দেশ।


সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ওয়াইন, হকি স্টিকের মতো দৈনন্দিন ভোগ্যপণ্য এবং সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্য নতুন শুল্কের আওতায় পড়েছে। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং মাছসহ কয়েকটি প্রধান রপ্তানি পণ্য এ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে।


এর প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে কানাডা প্রস্তুত। হোয়াইট হাউস অবশ্য জানিয়েছে, নতুন শুল্ক ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে। এতে উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বেড়ে যাবে।


বিবিসি বলছে, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর আওতায় কোনও পণ্য থাকুক বা না থাকুক, নতুন শুল্ক সংশ্লিষ্ট সব পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।


পরে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, ‘কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো চুক্তি সরাসরি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র যে ধারাবাহিকভাবে একতরফা শুল্ক আরোপ করছে, এটি তারই সর্বশেষ উদাহরণ।’


তিনি আরও বলেন, ‘কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকিও’ উদ্বেগের বিষয়। বিশ্লেষকদের মতে, কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার কথা বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছিলেন, সেটিকে ইঙ্গিত করেই কার্নি একথা বলেন।


অবশ্য সোমবারের নতুন শুল্কের ঘোষণার আগেও দুই দেশের মধ্যে একাধিক বাণিজ্যিক শুল্ক কার্যকর ছিল। বর্তমানে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া কানাডার সফটউড লাম্বারের ওপর ৩৫ শতাংশ এবং গাড়িতে ব্যবহৃত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক রয়েছে।



অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা নির্বাচিত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে কানাডা।



সম্প্রতি কানাডার দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সোমবার তিনি যে নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, সেখানে দাবানলের কোনও উল্লেখ নেই।


বরং ওই তিনটি ঘোষণায় গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক অভিযোগগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।



গাড়ির ক্ষেত্রে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইউএসএমসিএ চুক্তির বাইরে থাকা মার্কিন গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা কর আরোপ করছে। তার দাবি, এ ধরনের কর ‘অযৌক্তিক’ এবং কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে, কারণ অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে একই ধরনের কর আরোপ করা হয় না।



মূলত উত্তর আমেরিকায় কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে গাড়ি উৎপাদন শিল্প পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তবে এর আগে ট্রাম্পের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেছিলেন, এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই কানাডার অবস্থান হওয়া উচিত।


ট্রাম্পও অতীতে একাধিকবার বলেছেন, গাড়ি শিল্প এমন একটি খাত যেখানে দুই দেশের স্বার্থের সংঘাত রয়েছে।


এছাড়া দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিন ধরে কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ রয়েছে। এর পাশাপাশি গত বছর থেকে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মদের ওপর কার্যত বয়কট চলায় বিষয়টি ওয়াশিংটনের জন্য বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।


কানাডার প্রাদেশিক নেতারা বারবার বলেছেন, ইস্পাত, ধাতু ও মোটরযানসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক প্রত্যাহার করলে তারাও এ বয়কট তুলে নেবেন।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com