‘মহানায়ক’ উত্তমকুমারের শততম জন্মবার্ষিকী আজ
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৩
‘মহানায়ক’ উত্তমকুমারের শততম জন্মবার্ষিকী আজ
বিনোদন ডেস্ক
প্রিন্ট অঅ-অ+

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিছু নাম সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়। উত্তমকুমার তেমনই এক নাম। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও পর্দায় উপস্থিতির অনন্যতায় যিনি হয়ে উঠেছিলেন দুই বাংলার দর্শকের প্রিয় ‘মহানায়ক’। আজ তার জন্মের ১০০ বছর পূর্ণ হলো।


১৯২৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতার ভবানীপুরে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রে এসে ‘উত্তমকুমার’ নামে পরিচিতি পান তিনি। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই কলকাতা পোর্টে কেরানির চাকরি শুরু করেছিলেন। তবে অভিনয়ের প্রতি টান তাকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যায় রুপালি পর্দায়।


চলচ্চিত্রে তার প্রথম পদার্পণ ‘মায়াডোর’ সিনেমার মাধ্যমে হলেও সিনেমাটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। এরপর ‘দৃষ্টিদান’ মুক্তি পেলেও তা দর্শক-সমালোচকদের মধ্যে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। ‘বসু পরিবার’ তাকে কিছুটা পরিচিতি এনে দেয়। তবে তারকা হিসেবে উত্তমকুমারের উত্থান ঘটে ১৯৫৩ সালের ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ দিয়ে। সিনেমাটির সাফল্যের পর বাংলা চলচ্চিত্রে যেন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়।


পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলা সিনেমার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত নায়ক। ‘হারানো সুর’, ‘পথে হলো দেরী’, ‘সপ্তপদী’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘বিপাশা’, ‘জীবন তৃষ্ণা’ ও ‘সাগরিকা’র মতো সিনেমায় তার অভিনয় আজও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।


উত্তমকুমারের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের জুটি বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল ও জনপ্রিয় জুটি হিসেবে বিবেচিত। পর্দায় তাদের রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। এই জুটির একাধিক সিনেমা আজও বাংলা চলচ্চিত্রের কালজয়ী সম্পদ। সুচিত্রা সেন ছাড়াও সুপ্রিয়া দেবী, তনুজাসহ বহু অভিনেত্রীর সঙ্গে জুটি বেঁধে দর্শকদের উপহার দিয়েছেন জনপ্রিয় সিনেমা।


বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি হিন্দি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন উত্তমকুমার। ‘ছোটি সি মুলাকাত’, ‘অমানুষ’ ও ‘আনন্দ আশ্রম’-এর মতো সিনেমায় তার অভিনয় উল্লেখযোগ্য। অভিনয়শিল্পী হিসেবে তার অসামান্য দক্ষতার স্বীকৃতি আসে জাতীয় পর্যায়েও। ১৯৬৭ সালে ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন।


মাত্র ৫৪ বছর বয়সে ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন উত্তমকুমার। কিন্তু তার চলে যাওয়া বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয় থেকে তাকে মুছে দিতে পারেনি। বরং সময়ের সঙ্গে তার জনপ্রিয়তা ও প্রভাব আরও গভীর হয়েছে।


উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর ৪৬ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু তার অভিনয় নিয়ে আলোচনা থামেনি। বরং সময়ের সঙ্গে তার কিছু কাজ নতুন করে মূল্যায়িত হয়েছে। জন্মশতবর্ষে এসে সেই মূল্যায়নের সুযোগ আরও বড়। কারণ শত বছর পরেও তার অভিনয় শুধু স্মৃতির বিষয় নয়; অভিনয় শেখার, চলচ্চিত্রের ভাষা বোঝার এবং তারকা-সংস্কৃতি বিশ্লেষণের উপকরণ হিসেবেও তা গুরুত্বপূর্ণ।


আজ জন্মের শতবর্ষে দাঁড়িয়ে উত্তমকুমার তাই শুধু একজন অভিনেতার নাম নন-তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের এক স্বর্ণযুগের প্রতীক। প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে সিনেমার ভাষা ও প্রযুক্তি; কিন্তু ‘মহানায়ক’ উত্তমকুমারের আবেদন এখনো অমলিন। বাংলা চলচ্চিত্র যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন দর্শকের ভালোবাসায় অমর হয়ে থাকবেন এই কিংবদন্তি।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com