নতুন বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়নি: এনবিআর
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ২১:৩১
নতুন বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়নি: এনবিআর
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান জানিয়েছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রচলিত অর্থে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি । তবে ভূমি ও ফ্ল্যাট কেনাবেচায় প্রকৃত লেনদেনমূল্য প্রকাশে উৎসাহ দিতে সীমিত একটি কর-সুবিধা রাখা হয়েছে , যা নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।


এর আগে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) দাবি করে যে, প্রস্তাবিত বাজেটে পরোক্ষভাবে ‘কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ ধরনের বিধানকে সমর্থনযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন।


সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন, “ভালো বাজেটের কালো দিক হলো কালো টাকা। এই সুযোগ না রেখে বাজেটকে কালো টাকা-মুক্ত রাখা যেত কি না।”


জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি ঘিরে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও ফ্ল্যাটের প্রকৃত ক্রয়-বিক্রয়মূল্য এবং নিবন্ধনমূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান থাকায় অনেক বৈধ লেনদেনও কর-জটিলতায় পড়ে।


তিনি আরও জানান, গত অর্থবছর থেকে বিক্রেতাদের জন্য একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে, যেখানে প্রকৃত লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেল ও প্রয়োজনীয় দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ করা গেলে নিয়মিত কর এবং ১৫ শতাংশ মূলধনী মুনাফা কর পরিশোধ করে অর্থ বৈধভাবে প্রদর্শনের সুযোগ পাওয়া যায়।


এবারের বাজেটে একই ধরনের একটি ব্যবস্থা ক্রেতাদের জন্যও বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতারা প্রকৃত মূল্যে সম্পদ কিনলেও নিবন্ধনে কম মূল্য দেখানো হয়, ফলে পরবর্তীতে কর কর্তৃপক্ষ প্রকৃত তথ্য পেলে অতিরিক্ত কর ও জরিমানার মুখে পড়তে হয়।


এই জটিলতা কমাতে নতুন বিধানের মাধ্যমে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রকৃত লেনদেনমূল্য ঘোষণা করলে নির্ধারিত হারে অতিরিক্ত কর দিয়ে তা বৈধ করার সুযোগ রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


তবে এ বিষয়ে আপত্তি উঠলে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন এনবিআর চেয়ারম্যান।


এদিকে একই প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জমি নিবন্ধনে ব্যবহৃত মৌজা রেট বাস্তব বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় এই ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।


তিনি জানান, মৌজা রেটকে বাজারমূল্যের কাছাকাছি আনার উদ্যোগ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এ জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি জরিপের মাধ্যমে দেশের ভূমিমূল্য কাঠামো হালনাগাদ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


অর্থমন্ত্রীর মতে, মৌজা রেট বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা গেলে লেনদেনমূল্য গোপনের প্রবণতা কমবে এবং বিতর্কিত কর-সুবিধার প্রয়োজনও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com