নাগরিক শোকসভায় বক্তারা
খালেদা জিয়া ছিলেন ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপসহীন পথিকৃৎ’
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১০
খালেদা জিয়া ছিলেন ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপসহীন পথিকৃৎ’
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আজীবন লড়াইকারী’ ও ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আপসহীন পথিকৃৎ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দেশবাসী তাকে চিরকাল স্মরণ রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।


শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় তারা এসব কথা বলেন।


বিকাল তিনটায় শুরু হওয়া এ শোকসভায় প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিএনপি বা বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের কোনো সদস্য বক্তব্য রাখেননি। তবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সহধর্মিণী, সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ শ্রোতাদের সারিতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেননি বিএনপির কোনও নেতাও।


শুরুতে শোকগাঁথা পাঠ করেন নাগরিক শোকসভার সমন্বয়ক সালেহ উদ্দিন। রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, লেখক, গবেষক, ধর্মীয় ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষক ও পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন।


নাগরিক শোকসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যখন ভুয়া মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হন, তখন তার পক্ষে কেউ কথা বলেননি। তার বিচারটি ছিল অদ্ভুত ও জঘন্য। সময়ের ব্যবধানে একজন নেত্রীর ঠাঁই হয়েছে মানুষের হৃদয়ে। বেগম খালেদা জিয়া সৎ ও সাহসী ছিলেন। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, ততদিন তাকে ধারণ করতে হবে।


জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক শফিক রেহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শোককে শক্তিতে পরিণত করতে হবে। আমরা একটি সংকটকালীন মুহূর্তে আছি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যেকোনোভাবেই হোক, ভোটকেন্দ্রে সবাই যেতে হবে উৎসবমুখরভাবে।


দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ব্রিটিশ থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত তিনজন জনপ্রিয় মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে। একশ' বছরের ইতিহাসে একই পরিবার থেকে স্বামী ও স্ত্রী জাতিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া। বেগম জিয়া ছিলেন ক্ষমতার বাইরে, তারপরও শেষ বিদায়ে মানুষের অজস্র ভালোবাসা পেয়েছেন। কারণ, তিনি কোনোদিন মাথা নত করেননি।


ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, গণতন্ত্রে তার অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। বিগত সরকার তাকে নানাভাবে নির্যাতন করেছে। ৭ আগস্ট তিনি যে বাণী দিয়েছেন, তা তার উদারতার পরিচয় বহন করে। তিনি বলেছেন, ধ্বংস নয়, ভবিষ্যতের ভালোবাসা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।


ব্যবসায়ী সিমিন রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া মানুষ হিসেবে আপসহীন ছিলেন। দেশের অর্থনীতিতে তার অবদান ছিল। তিনি বলতেন, ব্যবসা করতে হবে নৈতিকতার সঙ্গে।


ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, মানুষ বেগম জিয়াকে অনন্তকাল স্মরণ করবে। কারণ, দেশের জন্য তার ত্যাগ ও নিষ্ঠা অপরিসীম। তিনি বলতেন, দেশের বাইরে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই। বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই।


সভাপতির বক্তব্যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন বলেন, বাংলাদেশ রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম খালেদা জিয়া। তিনি সাধারণ রাজনীতিবিদ ছিলেন না, ছিলেন রাজনৈতিক আদর্শ। ব্যক্তিগতভাবে ছিলেন অসাধারণ দৃঢ়চেতা। কঠিন সময়েও চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি দেওয়ার দাবি জানাই।


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ড. আব্দুল মঈন খান, মির্জা আব্বাস, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির শরিক নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি ও গণফোরামের নেতারাও ছিলেন।


সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও মনির হায়দারসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com