নতুন ধারণা : ‘ওয়ান পার্সন কোম্পানি’
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:১৬
নতুন ধারণা : ‘ওয়ান পার্সন কোম্পানি’
মৌসুমী ইসলাম
প্রিন্ট অ-অ+

শুরু হচ্ছে ‘ওয়ান পার্সন কোম্পানি’ বা এক ব্যক্তি কোম্পানি’র কার্যক্রম। যৌথ অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার পাশাপাশি একক ব্যক্তিও খুলতে পারবেন স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। কোম্পানি আইনে এমন বিধান অর্ন্তভূক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। অডিন্যান্স জারি করে এমন সংশোধনী আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়।


বিডা’র পরিচালক তৌহিদুর রহমান জানান, পাশ্ববর্তীদেশ ভারতে একক ব্যক্তি কোম্পানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি বেশ জনপ্রিয়। কারণ, একক ব্যক্তি উদ্যোগে কোনো প্রতিষ্ঠান খোলার সুযোগ থাকলে ব্যবসা করার পথ সহজ হবে। সরকারের রাজস্ব আহরণও বাড়বে। শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করাও কঠিন হবে না। ফলে বাংলাদেশেও জনপ্রিয়তা পাবে।


ব্যবসা ও বিনিয়োগ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর কিছু ধারা সংশোধনীর প্রস্তাব বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ে দিয়েছে বিডা। প্রস্তাবে বলা হয়, পাবলিক কোম্পানি গঠনের ক্ষেত্রে সাত বা তার বেশি ব্যক্তি এবং প্রাইভেট কোম্পানি গঠনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি। কিন্তু একক ব্যক্তির ক্ষেত্রে একজনই কোম্পানি গঠন করার সুযোগ পাবেন। এক ব্যক্তির কোম্পানি স্মারকের নির্ধারিত ফরমে তার একজন উত্তরাধিকারী বা মনোনীত এক ব্যক্তির নাম জানাতে হবে, যিনি একমাত্র শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যুর পর ওই কোম্পানির সদস্য হবে। এক ব্যক্তি কোম্পানির ক্ষেত্রে, কোম্পানির মালিকের মৃত্যু বা তিনি পরিচালনায় অসমর্থ বা অপ্রকৃতিস্থ হলে মনোনিত ব্যক্তি ওই কোম্পানির সদস্য হবে।


প্রস্তাবে আরো বলা হয়, আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়োগের রেজিষ্ট্রারের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা পাওনাদার প্রতিকারের জন্য নির্ধারিত ফিস দেয়া সাপেক্ষে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আপিল করতে পারবে। সদস্যদের বার্ষিক তালিকা ও সারসংক্ষেপে এক ব্যক্তির কোম্পানির ক্ষেত্রে উপযুক্ত তালিকা এবং সারাংশ কোম্পানির সচিব বা কোম্পানির সচিব না থাকলে কোম্পানির পরিচালক দিয়ে স্বাক্ষর থাকতে হবে।


একক ব্যক্তি কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে সংশোধিত আইনে বলা হয়, শেয়ার হস্তান্তরকারী বিদেশি নাগরিক হলে বা বিদেশে অবস্থান করলে শেয়ার হস্তান্তরের সমর্থনে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রত্যয়ন করা ঘোষনাপত্র পাঠাতে হবে।


পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সাধারণ সভায় কোম্পানির ন্যূনতম ৫০ জন বা এর মোট সদস্যের ন্যূনতম পাঁচ শতাংশ শেয়ার মূলধনের অধিকারী, যেটি কম শেয়ারহোল্ডারের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এছাড়া প্রত্যেক পাবলিক কোম্পানিতে এবং কোনো প্রাইভেট কোম্পানি পাবলিক কোম্পানির অধীনস্থ কোম্পানি হলে এমন প্রত্যেক প্রাইভেট কোম্পানিতে, অন্যুন তিনজন পরিচালক থাকতে হবে। প্রত্যেক প্রাইভেট কোম্পানিতে অন্যুন দুইজন পরিচালক থাকতে হবে। তবে, এক ব্যক্তি কোম্পানির ক্ষেত্রে একজন পরিচালক থাকতে হবে।


পরিচালক পর্ষদের সভার ক্ষেত্রে প্রত্যেক কোম্পানির পরিচালক পরিষদের সভা প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার এবং প্রতি বছরে অন্তত চারবার অনুষ্ঠিত হবে। তবে, এক ব্যক্তি কোম্পানির ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। কোম্পানির পরিচালকদের ক্ষমতার ক্ষেত্রে যুক্ত করা হয়েছে ধারা। খসড়া প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, কোম্পানির সবশেষ স্থিতিপত্র অনুযায়ী সম্পদের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশের বেশি মূল্যের সম্পদ সংশ্লিষ্ট কোনো কোম্পানি বা হোল্ডিং কোম্পানির পরিচালক বা তার সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তির কাছ থেকে কেনা বা বিক্রি করা বা গ্রহণ বা হস্তান্তর করা যাবে না।


বার্ষিক ব্যালান্স শীট করার ক্ষেত্রে, এক ব্যক্তির কোম্পানিতে কোনো অর্থ বছরের হিসাব শেষ হওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে কোম্পানির আর্থিক বিবরণী দলিলাদিসহ সংযুক্ত করে দাখিল করতে হবে। এক ব্যক্তির কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যালান্স শীট এবং প্রতিবারের লাভ-ক্ষতির হিসাব অথবা আয় ও ব্যয়ের হিসাব কোম্পানি-মালিক-পরিচালকের স্বাক্ষর থাকতে হবে। কোম্পানি অবলুপ্তির ক্ষেত্রে আদালত সরকারি রিসিভার নিয়োগ দিতে পারবে। এছাড়া এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ করতে পারবে। পাওনাদাররা তাদের প্রথম সভায় লিকুইডেটরের নিয়োগের বিষয়ে আপত্তি উত্থাপনের বিষয়টি অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। প্রতারণামূলক অগ্রাধিকারের বিষয়ে বলা হয়, অবলুপ্তির দরখাস্ত দেয়ার আগে ছয় মাসের মধ্যে কোম্পানি অথবা কোন কোম্পানির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোন অর্থ দেয়া হয়, অথবা যে কোনো মালামাল সরবরাহ করা হয় অথবা স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তরের প্রাধিকার দেয়া হয়, সেই ক্ষেত্রে আদালত উপযুক্ত মনে করে, তবে এই লেনদেনকে অকার্যকর ঘোষণা করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়ার আদেশ দিতে পারেন।


খসড়ায় বলা হয়, কোনো কোম্পানি অবলুপ্তির জন্য আদালতে দরখাস্ত উপস্থাপনের আগে কিংবা স্বেচ্ছায় অবসায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে এক বছরের মধ্যে যদি কোনো সম্পদ হস্তান্তর করে বা মালামাল সরবরাহ করে, তবে তা বাতিল হবে। তবে খতিয়ে দেখা হবে, এই বিক্রি প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে কি-না। বা উপযুক্ত দাম পাওয়া গেছে কিনা। এছাড়া কোম্পানি আইনে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ব্যবসা সুবিধা দেবার ক্ষেত্রে ভার্চুয়াল সেবার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।


বিডা পরিচালক জানান, অনেক সময় অভিযোগ আসে, বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানে সকল পরিচালক সমান স্বাধীনতা ভোগ করে না। অনেক সময় বঞ্চিত করা হয়। অর্থাৎ কম শেয়ারধারীদের পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে, আইন সংশোধন হলে সব সদস্যই সমান সুবিধা ভোগ করতে পারবে।


ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ব্যবসা শুরু এবং তা টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক প্রতিবন্ধকতা তৈরী হয়। বিশেষ করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতাগুলো বেশি সমস্যা তৈরী করে। যুগপযোগি কোম্পানি আইন হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।


তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোথায় যেন আটকে যায়। অনেক দেশের কোম্পানির আইনের চেয়ে বাংলাদেশের আইনটি দুর্বল। যা প্রতিযোগী সক্ষমতা হারায়।


বিবার্তা/মৌসুমী/কাফী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com