লতাচাপলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
গ্রামীণ জনপদের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে আধুনিক বিজ্ঞানের পাঠ
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৭, ১৬:৫১
গ্রামীণ জনপদের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে আধুনিক বিজ্ঞানের পাঠ
ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্সে আঙ্গুলের ছাপ দিচ্ছে এক ছাত্রী
উত্তম কুমার হাওলাদার
প্রিন্ট অ-অ+

পটুয়াখালীর কলাপাড়া লতাচাপলী সরকারিপ্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স। প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা লাইনে দাঁড়িয়ে ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্সে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করছে। কোন শিক্ষার্থী অনুপস্থিতি থাকলে অভিভাবকের মোবাইল ফোনে পৌঁছে যায় এসএমএস বার্তা।


১০টি সিসি ক্যামেরার নজরদারিতে চলছে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান। ক্লাস নেয়া হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে মাধ্যমে। সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষিকা নজরদারি করছেন শ্রেণিকক্ষের পাঠদান। দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা। অনলাইনের মাধ্যমে জানানো হচ্ছে পরীক্ষার ফলাফল। আধুনিক পাঠদান ও ২৭টি উদ্ভাবনী শিক্ষা পদ্ধতি বিদ্যালয়টিকে করে তুলেছে অনন্য। এরই মধ্যে ডিজিটাল মডেল স্কুল হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে।


পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার একমাত্র শিশুবান্ধব বিদ্যালটিতে প্রবেশের সাথে সাথেই চোখে পড়ে শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখরিত প্রাঙ্গন। আনন্দে উচ্ছসিত শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত খেলার নানা উপকরণ নিয়ে। নজর কেড়ে নেয় দেয়ালের রংতুলির বর্নিল নির্বাক চিত্র। দেয়াল জুড়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে সকল ইতিহাসসহ বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়নের নানা চিত্র এবং বিবরণ।


রয়েছে দেশ-বিদেশের বিখ্যাত মনীষীদের প্রতিকৃতি, জীবনী, উক্তি। কম্পিউটার ল্যাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ল্যাপটপ চালিয়ে জানার চেষ্টা করছে বিশ্বকে। এছাড়া অবিভাবকদের কক্ষ, পাঠাগারসহ ভৌগলিক কর্নার, প্রযুক্তি কর্নার, গ্রন্থাগার, স্পোর্টস কর্নার, বিজ্ঞানাগার, সততা স্টোর, গণিত ল্যাব, সততা কুটির, মহানুভবতার জ্ঞানসহ ফুল, ফল, সবজির বাগান সাজানো গোছানো রয়েছে।


প্রতিদিন ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্সে আঙ্গুলের ছাপ দিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে হয় বলে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।



বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শতভাগ পাসের হারসহ ক্রীড়া-সংস্কৃতি প্রতিযোগিতায় জেলা, উপজেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ধারাবাহিক সাফল্য রয়েছে বিদ্যালয়টির। ইতোমধ্যে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে বাংলাদেশে চতুর্থ স্থান লাভ করেছে বিদ্যালয়টি।


বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অনন্ত মুখার্জি বলেন, সাগর পাড়ের অনাগ্রসর জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য ১৯৩৬ সালে রাখাইন বাচিন তালুকদার প্রতিষ্ঠা করেন এ বিদ্যালয়টি। আর বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের যোগদান করার পর দিয়েছেন বিদ্যালয়ের এক ভিন্ন রূপ।


প্রধান শিক্ষিকা নাজমুস সাকিব খান কনা বলেন, একসময়ের এ অপরিপাটি বিদ্যালয়টিকে প্রথমে মডেল বিদ্যালয়ে উন্নীত করি। এখন মনোযোগ দেয়া হয়েছে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার দিকে। সম্পূর্ণ ডিজিটাল পব্দতিতে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান। এর ফলে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। পাশের হার হয়েছে শতভাগ।


তিনি বলেন, গ্রামীণ জনপদের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে আধুনিক বিজ্ঞানের জ্ঞান। যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনের পথা চলাকে সহজ করে দেবে।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমিন করিমী বলেন, জেলার প্রথম মডেল বিদ্যালয় লতাচাপলী সরকারিপ্রাথমিক বিদ্যালয়ের আদলে পর্যায়ক্রমে সকল বিদ্যালয়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।


বিবার্তা/উত্তম/জাকিয়া

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], in[email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com