নৌকায় জন্ম, নৌকায় বসবাস, নৌকায় যাদের মৃত্যু
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০১৭, ২০:২৫
নৌকায় জন্ম, নৌকায় বসবাস, নৌকায় যাদের মৃত্যু
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

সাগর কিংবা নদীর প্রতিটি ঢেউয়ের সাথে ক্ষয়ে যায় উপকূলীয় মানতা সম্প্রদায়ের ছোট ছোট স্বপ্ন। নৌকায় জন্ম, নৌকায় বসবাস আবার নৌকায়ই তাদের মৃত্যু হয়। নেই শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ ন্যূনতম মৌলিক অধিকার।


সাগর মেহনাসহ নদ-নদীতে ছোট নৌকায় মাছ ধরে এদের চলে জীবন-জীবিকা। সারাদিনের রোজগারে সন্ধ্যায় উনুন জ্বলে নৌকার ছাউনিতে। সর্বহারা কিংবা নি:স্ব বলে সমাজে পরিচিত হলে সমাজ ও সভ্যতা থেকে ছিটকে পড়া এ মানুষগুলো পটুয়াখালীর, কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও বাউফলের বিচ্ছিন্ন এলাকায় এ মানতা জনগোষ্ঠী দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করে আসছে। কিন্তু দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ওইসব মানুষগুলোর কপালে কখনোই জোটেনি সরকারী ও বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থার সহায়তা।


মানতা সম্প্রদায়ের লোকজনদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, নদী বা সাগর মোহনায় বসবাস করায় দক্ষিণাঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সুপার সাইক্লোন সিডরের তান্ডবে এদের প্রায় অর্ধশতাধিক নৌকা ডুবে যায়। সেসময় জীবন বাঁচাতে পারলেও মাছ ধরার জাল এবং বড়শি হারিয়ে অনেকে হয়ে পড়েন নি:স্ব। সিডর পরবর্তী সময়ে সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা, ঘর নির্মাণসহ নানা সুবিধা প্রদান করা হলেও এসব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে তারা। প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা তো দূরের কথা, নেই স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন কিংবা বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা। শিক্ষা, জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, সমাজ-সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি এদের গায়ে। রোগ-বালাই সারতে এখনো শরণাপন্ন হন স্থানীয় কবিরাজ-বৈদ্যের কাছে।


তিন সন্তানের জননী রোকেয়া বেগম (৩৫) জানান, নদী ভাঙ্গনে নি:স্ব হয়ে তাদের পূর্বপুরুষরা চরমোন্তাজ ইউনিয়নের বুড়াগৌরঙ্গ নদীর কিনারে ঘাঁটি বাধেন। তখন থেকেই এ নদী তীরে নৌকায় তাদের বসবাস। স্রেফ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তারা।


এছাড়া ছয় সন্তান নিয়ে ছোট্ট একটি নৌকার ছাউনিতে বসবাসকারী পারুজান বিবি (৪০) জানান, অন্যদের মত জাল না থাকায় বড়শি দিয়ে মাছ ধরেন। তাই আয়-রোজগার কম। ফলে সংসার চলে টেনেটুনে।


বছরের পর বছর নদী এবং সাগর মোহনায় বসবাসকারী এ জনগোষ্ঠীর অনেকেই এখন ফিরতে চান স্বাভাবিক জীবনের মূল স্রোতে।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে ইয়াসমিন করিমী বলেন, বিভিন্ন এলাকার নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ এ জনগোষ্ঠীর স্থলভাগে ঠিকানা না থাকায় এদের শিশুরা শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।


জেলা প্রশাসক ড. মাসুমুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, মৎস্য পেশায় নিয়োজিত এ জনগোষ্ঠীকে সভ্য জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারলে সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা যাবে।


বিবার্তা/উত্তম/শাহনেওয়াজ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com