একীভূত হলো দারাজ-কেমু
প্রকাশ : ২৮ জুন ২০১৬, ১০:২২
একীভূত হলো দারাজ-কেমু
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার্থে এবং ব্যবসার প্রবৃদ্ধির হার বাড়াতে এক জোট হয়ে কাজ করতে যাচ্ছে রকেট ইন্টারনেটের শীর্ষস্থানীয় দুটি ই-কমার্স সাইট দারাজ এবং কেমু। দুটি কোম্পানি একীভূত হলেও দুইটি প্লাটফর্মই চালু থাকবে তাদের পূর্বের নামে। তবে তাদের কার্যক্রম এখন থেকে দারাজ গ্রুপের মাধ্যমে পরিচালিত হবে বলে এক সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
দারাজ ও কেমু তাদের ব্যাবসা কাঠামো অনুযায়ী ইতিমধ্যেই তাদের নিজ নিজ দক্ষতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই দারাজ ও কেমু এখন একত্রে কাজ করায় দারাজ গ্রুপ দেশের ই-কমার্সের ৩৬০ ডিগ্রি স্বত্বাধিকার লাভ করতে সক্ষম হবে আশা করা যাচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দারাজ বিটুসি (বিজনেস-টু-কঞ্জুমার) হিসবে ব্র্যান্ড এবং আসল প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করে যাবে, যা বড় বড় বিক্রেতাদের ব্যাবসাকে ভিন্নমাত্রা দান করার মাধ্যমে উচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। দারাজ ক্রেতাদের দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যের উপর ৭ দিনের রিটার্ন পলেসি প্রদান করে যাবে। অপর দিকে কেমু অনলাইনে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীদের জন্য উন্মুক্ত মার্কেটপ্লেস হিসেবে সারাসরি ক্রেতা বিক্রেতাদের বাণিজ্যিক প্লাটফর্ম হয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
এবিষয়ে দারাজ গ্রুপের কো-সিইও বিয়ার্কে মিকেলস বলেন, ‘দারাজ এবং কেমু তাদের নিজ নিজ বাজারে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের বিক্রেতারা অনলাইনে তাদের ব্যবসা বিকাশে সব থেকে ভালো সমাধান খুঁজে পেতে সক্ষম হবে। তারা এখন থেকে দুটি প্লাটফর্মই ব্যবহার করে তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারবেন’।
দারাজের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বেঞ্জামিন দুফোউসিয়ে বলেন, ‘আমরা অনেক আনন্দিত, কেমুর সহকর্মীদের সাথে নিয়ে আরও দৃঢ় একটি প্লাটফর্ম গড়তে যাচ্ছি। দুটি ব্যাবসা একীভূত হওয়াতে আমরা অনেকগুলো সুবিধা পেতে যাচ্ছি, যা ব্যাবহার করে আমরা ব্যবসাকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবো’।
ম্যানেজিং ডিরেক্টর কেমু বাংলাদেশ, কাজী জুলকারনাইন ইসলাম বলেন, ‘কেমুর সি টু সি দক্ষতা এবং দারাজের সেরা বি টু সি কার্যক্রম একত্রে ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে, যা কিনা দুটো ব্যবসা ভিন্ন ভাবে পরিচালিত হলে অর্জন করা সম্ভব হতো না’।
প্রসঙ্গত, দারাজ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ও মায়ানমারের একটি জনপ্রিয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। ২০১২ সালে এর যাত্রা পাকিস্তানে অনলাইন ফ্যাশন সাইট হিসেবে শুরু হলেও পরবর্তীতে এর বিজনেস মডেল ইলেক্ট্রনিক্স, হোম অ্যাপলায়েন্স, ফ্যাশন সহ আরও অনেক ক্যাটাগরির জন্য সাধারণ মার্কেটপ্লেস হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। দারাজ হলো সিডিসি গ্রুপ যা মূলত ইউকে গভর্নমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্সইন্সটিটিউশান যারা আফ্রিকা ও সাউথ এশিয়ায় ব্যবসা সম্প্রসারণ করছে এবং এশিয়া প্যাসিফিক ইন্টারনেট গ্রুপ যারা মূলত এই জোনের প্রধান ইন্টারনেট নির্ভর কোম্পানিগুলোকে সাপোর্ট দিয়ে থাকে; এর মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। ২০১৪ সালে রকেট ইন্টারনেট জিএমবিএইচ, এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনেনতুনত্ব ও ব্যবসায়িক উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে ইন্টারনেট এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করে যাতে নতুন এই অনলাইন কালচারকে সাহায্য করতে পারে।
এদিকে কেমু একটি উন্মুক্ত মার্কেটপ্লেস যা কিনা এশিয়ার মার্কেটে অগ্রগামী, যেখানে ক্রেতারা নতুন এবং পুরানো পণ্য ব্যাক্তি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে সেরা দামে পণ্য কিনতে পারেন। কোম্পানিটি ২০১৩ সালে পাকিস্তানে যাত্রা শুরু করে, যার মালিকানা এশিয়া প্যাসেফিক ইন্টারনেট গ্রুপের (এপিএসিআইজি) এবং কিছু সংখ্যক ক্ষুদ্র শেয়ার মালিকদের।
বিবার্তা/উজ্জ্বল/প্লাবন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com