নতুন বছরে নিজের সঙ্গে করুন স্বাস্থ্য প্রতিজ্ঞা
প্রকাশ : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:০৩
নতুন বছরে নিজের সঙ্গে করুন স্বাস্থ্য প্রতিজ্ঞা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

হিমহিম উষ্ণতায় নতুন বছর। বর্ষবরণের উদযাপনও করেছেন সবাই মিলে। দেখতে দেখতে ফুরিয়ে এলো বছরখানি। দোরগোড়ায় এসে গেছে আরেকটি নতুন বছর, শত সম্ভাবনা আর স্বপ্নের হাতছানি নিয়ে। ভাল মন্দের মিশেলে বিগত বছরজুড়ে যার যেমনই কাটুক না কেন, “নতুন বছরের লক্ষ্য” নির্ধারণে কেউ কিন্তু কারো চেয়ে পিছিয়ে নেই!


অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুধু বর্ষবরণ নয়, প্রতিজ্ঞা করেছেন ২০১৮ সালকে নিয়ে। প্রতিজ্ঞা যা করেছিলেন, তা বাস্তবায়নে নিতে হবে দৃঢ় পদক্ষেপ। কেউ হয়তো প্রতিজ্ঞা করেছিলেন নতুন বছর থেকে ধূমপান ছেড়ে দেবেন, কারও সংকল্প ছিল ওজন কমানোর... এমন আরো অনেক কিছুই হয়তো...।


নতুন বছরে বেশিরভাগ মানুষ কিছু বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করে থাকে। প্রতিজ্ঞার মধ্যে ‘অমুক কাজটি করব’ এবং ‘অমুক কাজটি করব না’ উভয় রয়েছে। তবে এসব প্রতিজ্ঞার অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয় না- এর কারণ হচ্ছে সঠিক উদ্যোগ বা পদক্ষেপের অভাব।


মনে রাখতে হবে যে শুধু প্রতিজ্ঞা করলেই ফল পাবেন না, ফল পেতে হলে প্রতিটি প্রতিজ্ঞাকে কাজের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে- এটি করতে হলে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।নতুন বছরের জন্য কয়েকটি স্বাস্থ্য প্রতিজ্ঞা করুন যা বাস্তবায়ন করা উচিৎ।


বেশি করে সঠিক খাবার খান


বেশি করে সঠিক খাবার খান। বেশি করে খেতে বলার মানে এই নয় যে যা ইচ্ছা তা খাবেন। আপনাকে স্বাস্থ্যসসম্মত খাবার খেতে হবে- উদাহরণস্বরূপ, মেজাজ উন্নত করতে ও আজেবাজে খাবার খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কমাতে প্রোবায়োটিক খাবার খাওয়ার সংকল্প করুন, যেমন- মিসো, আপেল সিডার ভিনেগার ও দই। স্বাস্থ্যকে খারাপ করতে পারে এমন খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। অস্বাস্থ্যকর খাবার ভোজনের আকাঙ্ক্ষা হ্রাস করতে বেশি করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিন।


একটু তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যান


যদি হঠাৎ করে প্রতিরাতে আট ঘণ্টা ঘুমানোর অঙ্গীকার করা আপনার জন্য অসম্ভব হয়, তাহলে আপনি সচরাচর যে সময়ে ঘুমাতে যান তার ১৫ মিনিট আগে ঘুমাতে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করুন। যদি আপনি মধ্যরাতে ঘুমাতে অভ্যস্ত হন, তাহলে হুট করে ১০টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার দরকার নেই, আপনি বরং ধারবাহিকভাবে ১৫ মিনিট আগে ঘুমিয়ে পড়ে সময়কে এগিয়ে আনার চেষ্টা করুন।
উদাহরণস্বরূপ, যদি আজকে ১৫ মিনিট আগে ঘুমাতে যান, তাহলে কিছুদিন পর এর সঙ্গে নতুন ১৫ মিনিট যোগ করুন- এভাবে করতে করতে ঘুমানোর সময় দুই থেকে দেড় ঘণ্টা এগিয়ে আনুন যেন আপনি ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে পারেন।’


প্রতিদিন মনকে পরিষ্কার করুন


আপনার মন কি বিশৃঙ্খল? নতুন বছরে নিজেকে অধিক সুসংগঠিত করবো বলার (এমনটা আপনি গতবছর করেছেন অথবা অনেক বছর ধরে করে আসছেন) পরিবর্তে প্রতিদিন একবার মেডিটেশন করার চেষ্টা করুন।


যখন লোকজন মানসিক চাপ, তাড়াহুড়ো, উদ্বেগ অথবা বিষণ্নতায় ভুগে, তারা তাদের বাসস্থান পরিষ্কার রাখে না। এক্ষেত্রে মাইন্ডফুলনেস অথবা মেডিটেশন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।’ বিজ্ঞানও মেডিটেশনের উপকারিতার পক্ষে বলছে। ৩,৫১৫ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর চালানো একটি গবেষণা জেএএমএ ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন যে প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে মেডিটেশন আট সপ্তাহ করাতে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের বিষণ্নতা ও উদ্বেগের উপসর্গ হ্রাস পেয়েছে। যখন লোকজনের মন পরিচ্ছন্ন থাকে, তারা অধিকতর ভালো অনুভব করে।


ওজন কমাতে বেশি করে হাঁটুন


ওজন কমানোর জন্য আসলেই বেশি করে হাঁটতে হবে। সপ্তাহের ব্যায়াম নিয়ে দুশ্চিন্তা করার পরিবর্তে দৈনন্দিন কার্যক্রমে বেশি করে হাঁটার দিকে মনোযোগ দিন। এমনকি পাঁচদিনে ৫০০ অতিরিক্ত ফুটস্টেপ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ওজন হ্রাস করতে পারে। আপনি একটানা বসে কাজ না করে কিছুক্ষণ পরপর ওঠে দাঁড়িয়ে আশপাশে হাঁটার জন্য বিরতি নিন। এভাবে আপনি কেবলমাত্র ওজনই কমাচ্ছেন না, সার্বিক সুস্থতার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন। আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিৎ স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন, শুধু ওজন কমানো নয়। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে স্বাভাবিকভাবে ওজন হ্রাস পায়।


প্রতিদিন ইতিবাচকতার সঙ্গে থাকুন


প্রতিমাসে জীবনে একটি নতুন শব্দকে নির্ধারণ করুন, আমরা ডিকশনারিতে সম্প্রতি যুক্ত হওয়া নতুন শব্দের কথা বলছি না- আমরা বলতে চাচ্ছি যে ইতিবাচক কোনো শব্দকে নিজের জীবনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করুন, যেমন- বন্ধুভাবাপন্ন ও স্বাস্থ্যকর। আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মে ইতিবাচক শব্দ প্রয়োগের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করুন, যেমন- নতুন প্রতিবেশীর সঙ্গে পরিচিত হোন অথবা প্রতিসপ্তাহে একবার আপনার প্রিয় ফাস্ট ফুডের পরিবর্তে এক গ্লাস স্বাস্থ্যকর জুস পান করুন। এটি আসলেই একটি চমৎকার রোডম্যাপ।


অনেক লোক নতুন বছরটিকে কোনো সঠিক উদ্দেশ্য ছাড়াই অতিবাহিত করে ফেলে- কিন্তু যদি আপনি জীবনে ইতিবাচক কোনো শব্দের প্রয়োগ ঘটান, এটি আপনার স্বাস্থ্য ও সুখ বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। যে ইতিবাচক শব্দটিকে জীবনে প্রয়োগ করতে চান, তা চোখে পড়ে এমন কোথাও লিখে রাখুন অথবা পাসওয়ার্ড হিসেবে সেট করুন।


ধূমপানের পরিবর্তে ভালো কিছুর জন্য অর্থ ব্যয় করুন


যদি আপনি ধূমপান ছেড়ে দিয়ে থাকেন, তাহলে বেঁচে যাওয়া অর্থ ভালো কেনোকিছুর জন্য ব্যয় করুন। ধূমপান হৃদরোগ থেকে ক্যানসার যেকোনো রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। ধূমপায়ীদের প্রতি নববর্ষের প্রতিজ্ঞার ক্ষেত্রে পরামর্শ একটাই ধূমপান ছাড়ুন। ধূমপায়ীদের জন্য ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব কিছু নয়।


ধূমপান ছাড়ার একটি মোটিভেশন হচ্ছে- একমাস সিগারেট না কিনে যে অর্থ বেঁচে যাবে তা দিয়ে কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে ফেলুন এবং মনে মনে ভাবুন যে আপনি এ অর্থ সিগারেটের পেছনে ব্যয় করছেন। সিগারেট না কেনার ফলে যে অর্থ বেঁচে যাবে তা দিয়ে কি কিনবেন তার একটি তালিকা করুন এবং তা এমন স্থানে রাখুন যেন প্রায়সময় আপনার চোখে পড়ে।’


ভালো কাজ লিখে রাখুন


নিজেকে ‘এ বছর সুখী হও’ বলার পরিবর্তে প্রতিদিনের সমস্ত ভালো কিছুর জন্য সন্তুষ্ট থাকুন ও স্রষ্টাকে ধন্যবাদ দিন এবং প্রতিদিনকার ইতিবাচক দিকগুলো ডায়েরিতে লিখে রাখুন। সময় যতই চ্যালেঞ্জিং হোক না কেন, প্রতিরাতে বিছানায় ভাবুন যে সারাদিন কি কি করেছেন এবং সকল ইতিবাচক ঘটনার জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন, এমনকি তা ছোটখাট হলেও। এটি আপনার জীবনকে অধিক আনন্দময় করে তুলবে।’


গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত ডায়েরি লিখে তারা ভালো ঘুমাতে পারে, বেশি করে কাজ করতে পারে এবং চিকিৎসকের কাছে কম যায়। যদি ডায়েরি লিখতে না চান, তাহলে আপনার স্মার্টফোনে এ ধরনের অ্যাপস ডাউনলোড করতে পারেন।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com