ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ এবং চিকিৎসা
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৬:০৭
ব্রেইন টিউমারের লক্ষণ এবং চিকিৎসা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ব্রেইন টিউমারের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। ব্রেইন টিউমার শব্দটা শুনলেই মৃত্যুভয় পেয়ে বসে। সব ব্রেইন টিউমারের নিরাময় অসম্ভব নয়। অনেক ব্রেইন টিউমার অপারেশনের মাধ্যমে পুরোপুরি নির্মূল করা যায়। এ ধরনের টিউমারে আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারেন। এ জটিল অপারেশন কিন্তু আমাদের দেশেই সম্ভব। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা করালে এটি পুরোপুরি নির্মূল সম্ভব।


ব্রেইন টিউমার কী?


মস্তিষ্কের কোষের টিউমার হলো ব্রেইন টিউমার। যখন মস্তিষ্কের কোনো বিশেষ অঞ্চলের কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়ে, তখন তাকে ব্রেইন টিউমার বলে। ব্রেইন টিউমার দুই রকমের হতে পারে— বিনাইন বা শিষ্ট টিউমার ও ম্যালিগন্যান্ট বা দুষ্টু টিউমার।


যেকোনো বয়সেই ব্রেইন টিউমার হতে পারে। কিছু টিউমারের সূত্রপাত হয় মস্তিষ্কেই। এদের বলে প্রাইমারি ব্রেইন টিউমার। কিছু ব্রেইন টিউমারের সূত্রপাত হয় শরীরের অন্য কোনো স্থানের টিউমার থেকে। এদের বলে সেকেন্ডারি বা মেটাস্টাটিক ব্রেইন টিউমার।


পৃথিবীর মাত্র এক শতাংশের চেয়েও কম মানুষ ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হন। যারাই আক্রান্ত হয়ে থাকেন ভয়াবহ এ রোগটিতে, তাদের শরীরের গোপনে দেখা যায় কিছু লক্ষণ।


ব্রেন টিউমারের লক্ষণ


দীর্ঘ মেয়াদে মাথাব্যথা
খিঁচুনি হওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
বমির ভাব বা বমি হওয়া
দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া
কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বলতে অসুবিধা
দুর্বলতা এবং আলস্য
খিটখিটে মেজাজ
কানে তালা লাগা
বন্ধ্যাত্ব
শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা
আচরণগত পরিবর্তন ইত্যাদি


লক্ষণগুলো নির্ভর করে মস্তিষ্কের কোন অংশ আক্রান্ত হয়েছে তার ওপর।


রোগ নির্ণয়


ওপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে যথাসম্ভব দ্রুত নিউরোমেডিসিন বা নিউরোসার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। রোগ নির্ণয়ে নিচের পরীক্ষাগুলো সহায়ক :


ব্রেনের সিটিস্ক্যান ও এমআরআই


স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা দেখার জন্য ইলেকট্রো এনকেফালোগ্রাফি বা ইইজি।


স্নায়ুতন্ত্রের পরিবহন ক্ষমতা বা নার্ভ কন্ডাকশন টেস্ট বা ইলেকট্রোমায়োগ্রাফি।


সিটি গাইডেড এফএনএসি


চিকিৎসা


চিকিৎসা নির্ভর করে টিউমারের ধরন, তীব্রতা, আকার ও অবস্থানের ওপর। সার্জারি, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি হলো এর মূল চিকিৎসা। লক্ষণের ওপর ভিত্তি করে কিছু ওষুধ দেওয়া হয়। যেমন : খিঁচুনি বন্ধ করার ওষুধ, বমির ওষুধ ইত্যাদি।


ব্রেইন টিউমারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে এই চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা দুরূহ। তাই দরকার সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। চিকিৎসার জন্য ফান্ড গড়ে তোলা, পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করা, আক্রান্তদের মানসিকভাবে শক্তি জোগানো, সুস্থদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যমে এই রোগের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com