নাক ডাকার জন্য শরীরের কী কী ক্ষতি হতে পারে জানেন?
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০১৮, ০৪:১৬
নাক ডাকার জন্য শরীরের কী কী ক্ষতি হতে পারে জানেন?
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

নাক ডাকার সমস্যা প্রায় সব বয়সী মানুষেরই হয়। এটিকে সব সময় সমস্যা হিসেবে বিবেচনাও করা হয় না। কিন্তু এর ফলে দেহের যদি কোনো ক্ষতি হয়, তখন এর চিকিৎসা করতে হয়।


নাক ডাকার প্রবণতা থাকলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। ফলে আই কিউ তো কমেই, সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তিও ঝাপসা হতে শুরু করে। এখানেই শেষ নয়, আরো বেশ কিছু গবেষণা অনুসারে নাকা ডাকার কারণে স্ট্রোক, হার্ট ডিজিজ, অ্যারিথমিয়া, জি ই আর ডি, ক্রনিক মাথা যন্ত্রণা এবং ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যাও মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় এমনটাই জানিয়েছেন বিশেজ্ঞরা।


তাই সাবধান! এখন প্রশ্ন হল, যারা ইতোমধ্যে নিয়মিত নাক ডেকে থাকেন, তারা কী করবেন? এক্ষেত্রে এই প্রবন্ধে আলোচিত ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোকে কাজে লাগাতে হবে। তাহলেই দেখবেন কেল্লা ফতে!


আদা চা


বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত আদা চা খাওয়া শুরু করলে দেহের অন্দরে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যার প্রভাবে ন্যাজাল ক্যাভিটি খুলতে শুরু করে। ফলে নাক ডাকার প্রকোপ কমতে সময় লাগে না।


রসুন


নাকের অন্দরে মিউকাস জমতে বাঁধা দেয় এই প্রকৃতিক উপাদানটি। সেই সঙ্গে রেসপিরেটারি সিস্টেমের উন্নতি ঘটায়। ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হতে শুরু করে, কমতে শুরু করে নাক ডাকার সমস্যা। এক্ষেত্রে নিয়মিত ১-২ টো রসুনের কোয়া চিবিয়ে, এক গ্লাস জল খেয়ে শুতে যেতে হবে। তাহলেই দেখবেন নাসিকা গর্জন আর আপনাকে বা আপনার প্রিয়জনকে বিপদে ফেলতে পারবে না।


ঘি


নাক ডাকার সমস্যা কমাতে ঘি-এর কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে অল্প পরিমাণ ঘি গরম করে তার থেকে ২-৩ ড্রপ করে নিয়ে যদি নিয়মিত নাকে দেওয়া যায়, তাহলে নাসিকা গর্জ থামতে একেবারেই সময় লাগে না। আসলে ঘিয়ে উপস্থিত বেশ কিছু উপকারি উপাদান নাকের অন্দরে বায়ু-চলাচলের পথকে খোলা রাখতে সাহায্য করে। ফলে নাক ডাকার প্রবণতা একেবারে কমে যায়।


এলাচ


অনেক সময় নাকের অন্দরে কোনও বাঁধা থাকার কারণেও নাক ডাকার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুমনোর আগে এলাচ চা খেলে কিন্তু দারুন উপকার মেলে। কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটি অন্দরে উপস্থিত একাধিক উপাকারি উপাদান নাকের ভিতরের বাঁধা সরিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। আর একবার শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক মতো হতে থাকলে নাক ডাকার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।


মধু


রাতে শুতে যাওয়ার আগে নিয়ম করে যদি এক গ্লাস গরম জলে ১ চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন, তাহলে নাকা ডাকার সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগই পায় না। কারণ মধুর অন্দরে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটারি উপাদান গলার প্রদাহ কমায়। সেই সঙ্গে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক করে তোলে। ফলে নাক ডাকার সম্ভাবনা কমে।


অলিভ অয়েল


রাত্রে শুতে য়াওয়ার আগে মনে করে দু চামচ অলিভ অয়েল খেলে শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে রেসপিরেটরি প্যাসেজ খুলতে শুরু করে। আর একবার এমনটা হয়ে গেলে বাতাস চলাচলে কোনও বাঁধার সৃষ্টি হয় না, ফলে নাক ডাকার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।


ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার


কোনও কারণে নাকের অন্দরে মিউকাস জমতে শুরু করলে বায়ু চলাচল ঠিক মতো হতে পারে না। ফলে নাক দিয়ে বিকট আওয়াজ বেরতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল খেতে হবে, যেমন ধরুন- পাতি লেবু, কমলা লেবু, মুসুম্বি লেবু প্রভৃতি। আসলে শরীরে এই বিশেষ ধরনের ভিটামিনটির মাত্রা বাড়তে থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রোগ ভোগের আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি নাকে সর্দি বা মিফকাস জমে নাক ডাকার প্রবণতাকেও কমায়।


বিবার্তা/শারমিন

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: bbartanational@gmail.com, info@bbarta24.net

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com