কট্টরপন্থার মৃত্যুঘণ্টা
প্রকাশ : ০৯ মে ২০১৭, ১৫:৫৩
কট্টরপন্থার মৃত্যুঘণ্টা
প্রিন্ট অ-অ+

কট্টরপন্থা বুঝি মানবজাতিরই সমান বয়সী। প্রাচীন যুগে, এমনকি মধ্যযুগেও রাজা-বাদশারা কথায় কথায় মানুষের মুণ্ডু কাটতেন, গর্দান নিতেন। বাহুবল দেখাতে প্রায়ই অকারণে প্রতিবেশীর সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তেন।


সময়ের পরিক্রমায়, শিক্ষা-বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অপ্রতিহত অগ্রগতিতে অনেক কিছু বদলে গেলো - রাজা-বাদশাদের দিনও ফুরোলো আর মুণ্ডু কাটাকাটিও কমে গেলো।


কিন্তু ওই যে বললাম, কট্টরপন্থা মানবজাতিরই সমান বয়সী। তাই কিছু মানুষের মাংসে-মজ্জায় এ দূষণ মিশে থাকে। আর তাই শিক্ষা-বিজ্ঞান-প্রযুক্তির আড়ালে মুখ লুকালেও কট্টরপন্থা একেবারে মুছে যায় না। সে থাকে এবং সময়-সুযোগমতো তার হিংস্র চেহারাটি দেখিয়ে জানিয়ে দেয় যে, সে আছে। তবে আশার কথা যে, কট্টরপন্থার হঠাৎ হঠাৎ দানবীয় উত্থানের মাঝেও সত্যিকার মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হারিয়ে যায়নি। তারাও সুযোগমতো দেখিয়ে দেয় যে তারাও আছে।


কথাগুলো বলা হচ্ছে ফ্রান্সের সদ্যসমাপ্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে। এ নির্বাচনে প্রায় অপরিচিত প্রার্থী ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জয়ী হয়ে কট্টরপন্থার সাম্প্রতিক জয়জয়কারের চাকাকে থামিয়ে দিলেন।


কট্টরপন্থার সাম্প্রতিক তৎপরতা দেখতে আমরা একটু পেছন ফিরে তাকাতে পারি। ২০১৫ সালে পোল্যান্ডের ক্ষমতায় বসে ডানপন্থীরা। ক্ষমতা পেয়েই তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইন ও বিচারব্যবস্থার বিরোধিতা শুরু করে। এর পর গত বছর জুনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ব্রিটিশরা জানিয়ে দেয়, তারা ইইউতে থাকতে চায় না। একই বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় পান রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি প্রচণ্ড অভিবাসীবিরোধী এবং আন্তর্জাতিকভাবে জোটবদ্ধ হয়ে এগোনোর পরিবর্তে ''যেকোনো মূল্যে'' দেশের স্বার্থ রক্ষার কথা বলেন।


এই যখন অবস্থা তখন আসে ফ্রান্সের নির্বাচন। নির্বাচনে যে দুজন প্রার্থী সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হয়ে দেখা দিয়েছিলেন, তাঁদের একজন মধ্যপন্থী ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও অন্যজন কট্টর জাতীয়তাবাদী মারিন ল্য পেন।


ফরাশি ভোটাররা অবশেষে পশ্চিমা দুনিয়ার চলমান প্রবণতার উজানে গিয়ে মধ্যপন্থী ইমানুয়েল ম্যাখোঁর গলাতেই পরিয়ে দেন জয়ের মালা। উগ্র জাতীয়তাবাদ ও কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে ফরাশিদের এই গণরায়ে সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষমাত্রই উদ্বেলিত। আমরাও আনন্দিত। অভিনন্দন ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।


বিশ্বজুড়ে নানা নামে নানা চেহারায় উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে পৃথিবীটাকে যেন আবার আদিম হিংস্রতার সময়ে ফিরিয়ে নিতে চাইছে। আমরাও ওই দানবীয় শক্তির শ্যেনদৃষ্টির বাইরে নই। ব্রিটেন-যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনাপ্রবাহ দেখে আমরা যখন হতাশ ও ম্রিয়মান, ফ্রান্স তখন জাগ্রত বিবেকের উড্ডীন পতাকা হাতে আমাদের সামনে এসে দাঁড়াল। এ শুধু উদার মধ্যপন্থারই বিজয় নয়, কট্টরপন্থার মৃত্যুঘণ্টাও বটে।


মানবতা জাগ্রত হোক, দূর হোক কট্টরপন্থা, সারা পৃথিবীর মানুষের জীবনে নেমে আসুক স্বস্তি।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com