বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই এগিয়ে যাবে দেশ
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৭, ০০:৩৩
বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথেই এগিয়ে যাবে দেশ
প্রিন্ট অ-অ+

ইতিহাস থমকে দাঁড়ায় ১৭ মার্চ এলেই। কারণ আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। একজন নেতা তাঁর দেশের মানুষকে মর্যাদাপূর্ণ আত্মপরিচয়ের আলোকে কী অপরিসীম সাহসিকতা আর উপমাবিহীন একাগ্রতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন তার চিরন্তন উদাহরণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দেশের সর্বস্তরের মানুষের তথা আবালবৃদ্ধবনিতার ভালবাসা, হৃদয় উজাড় করা শ্রদ্ধা ও সম্মানে তিনি অভিষিক্ত হয়েছেন। সমগ্র দেশের মানুষ অকৃত্রিম ভালবাসার কারণে, বিশ্বাসের কারণে তাঁর ওপর অর্পণ করে পূর্ণ আস্থা, তাঁকে স্থান দেয় তাদের হৃদয়ে। আজ এই দিনে আমরা পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি এই মহান নেতাকে। স্মরণ করি তাঁর কাজ, তাঁর অমর অমলিন আদর্শকে।


দক্ষিণ এশিয়ার বিখ্যাত ব-দ্বীপ বাংলাদেশে তিনি জন্মেছিলেন, এ দেশের মানুষকে প্রাণ দিয়ে ভালবেসেছেন, অনুকরণীয় নেতৃত্ব দিয়েছেন, এটা আমাদের সৌভাগ্যের কথা। তিনি নিরলস পরিশ্রম করে চারণের মতো সারাদেশ ঘুরে মানুষকে জাগিয়েছেন, পাকিস্তানি স্বৈরাচারী সামরিক শাসকদের জেলে বছরের পর বছর বন্দী থেকেও অকুতোভয় বীরের মতো নিজ সঙ্কল্পে অটল থেকেছেন, মুক্তির মহামন্ত্রে জাতিকে জাগিয়েছেন এবং স্বাধীনতার পথ ধরে জাতিকে পৌঁছে দিয়েছেন স্বপ্ন পূরণের চূড়ান্ত লক্ষ্যে- এ কৃতিত্ব তাঁরই।


কারণ তিনিই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের রূপকার এবং প্রতিষ্ঠাতা। দেশের মানুষের স্বার্থের ব্যাপারে তিনি সব সময় ছিলেন আপসহীন। পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি সব সময় উর্ধে তুলে ধরেছেন দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ, কখনও কোন কিছুর বিনিময় বা প্রলোভনে বা ভয়ে বিন্দুমাত্র নতিস্বীকার করেননি। মাথা নিচু করেননি।


সত্তরের নির্বাচনে জাতির অবিসংবাদিত নেতারূপে তিনি অভিষিক্ত হন, গোটা জাতিকে তিনি ঐক্যবদ্ধ করেন। শুরু হয় এক অভূতপূর্ব আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন। দেশের মানুষকে তিনি মুক্তি ও স্বাধীনতার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেন। এরই একপর্যায়ে আসে একাত্তরের ৭ মার্চ। সে দিন ঢাকার ঐতিহাসিক জনসমুদ্রে তিনি যে ভাষণ দেন সেটাও হয়ে ওঠে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক মাইলফলক।


বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ার। তাঁর আদর্শ অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ নীতি। তাঁর আদর্শের অনুসারী, তাঁর রেখে যাওয়া দলের নেতৃত্বেই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে জনগণের সমর্থনে। সরকারের সামনে প্রধান কাজটিই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়া।


বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতিসত্তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। বাঙালি জাতির দুঃখ-বেদনা, হতাশা-বঞ্চনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা স্পষ্ট ও পূর্ণাঙ্গরূপে তাঁর কণ্ঠেই বলিষ্ঠভাবে উচ্চারিত হয়। তিনিই বঙ্গবন্ধু, যিনি বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও বলব, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা, বাংলা আমার নিঃশ্বাসে-প্রশ্বাসে’। মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও যিনি জাতিসত্তার এমন অহংদীপ্ত উচ্চারণ করতে পারেন, তিনি প্রকৃত অর্থেই ‘বঙ্গবন্ধু’।


জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার জন্য তাঁর প্রদর্শিত পথ ও আদর্শ আজও আমাদের কাছে আলোকবর্তিকাস্বরূপ। সেই আলোকবর্তিকা অনির্বাণ। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের কিংবদন্তির মহানায়ক। এ মহানায়কের মহামন্ত্রেই একদিন গড়ে উঠবে স্বপ্নের বাংলাদেশ। যত দিন বাংলা ভাষা, বাঙালি জাতি ও বাংলাদেশ থাকবে, তত দিন বঙ্গবন্ধুও থাকবেন।

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com