
কয়েক সপ্তাহ ধরে সারা দেশে এলপিজির বাজারে চলমান অস্থিরতা এখন ভয়াবহ ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। রাজধানী থেকে জেলা–উপজেলা, কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না সিলিন্ডার, আবার কোথাও একেবারেই পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাস্তবে গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে ২ হাজার থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এতে অনেক এলাকায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ঘরে রান্নাঘরে চুলাবন্ধ রয়েছে।
ঢাকার কল্যানপুর, মিরপুর,বসিলা, আগারগাঁও, খিলগাঁও, খিলক্ষেত থানার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তিন দিন ধরে তাঁর বাসায় রান্না হয়নি। শুকনো খাবার খেয়ে কোনো রকম জীবন কাটাতে হচ্ছে।
চলমান সংকটের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার কমিশন বৃদ্ধি ও অন্যান্য দাবিতে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি হঠাৎ সারা দেশে সিলিন্ডার সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয়। ঢাকাসহ গাজীপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কার্যত অচল হয়ে পড়ে এলপিজির বাজার। পরে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বৈঠকে বসতে সম্মত হলে সন্ধ্যায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।
সংকটের দায় নিয়ে সরকার, অপারেটর, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে চলছে দোষারোপের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পরিবেশক পর্যায়ে সরবরাহ কমে যাওয়ায় তারা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির দাবি, দেশে সাড়ে পাঁচ কোটি সিলিন্ডার থাকলেও নিয়মিত রিফিল হচ্ছে মাত্র এক কোটি ২৫ লাখ।
অন্যদিকে এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানায়, শীতকালে বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধি, জাহাজ সংকট ও আর্থিক জটিলতার কারণে ডিসেম্বরে আমদানি কমেছে। কয়েকটি বড় কোম্পানি আমদানি বন্ধ রাখায় বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান থেকে আমদানি ব্যাহত হওয়াও সংকটের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।তবে, জ্বালানি বিভাগ সংকটকে ‘কৃত্রিম’ বলে উল্লেখ করেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, বাজারে এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে; খুচরা পর্যায়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকারের তথ্যমতে, নভেম্বরে এলপিজি আমদানি ছিল ১ লাখ ৫ হাজার টন, যা ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার টনে।
বুয়েটের অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম তামিম বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও নজরদারির অভাবেই এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে।
দেশজুড়ে দোকান বন্ধ ও অতিরিক্ত দামে গোপনে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ইলেকট্রিক চুলা কিংবা লাকড়ির চুলায় রান্না করছে।
বিবার্তা/আবেদ/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]