
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এলআইসি শাখার সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ শরীফুল আলম চৌধুরীসহ তিন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
এ ঘটনায় এসি শরীফুল ও দুই সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
গত শনিবার সিএমপি কমিশনারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন কমিটির প্রধান ও নগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি-পিওএম) মোহাম্মদ বদিউজ্জামান। অভিযুক্ত দুই এএসআই হলেন- মো. বাছির উদ্দিন ও আবু সুফিয়ান।
গত ৯ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন গণমাধ্যমে ‘সিএমপির এলআইসি শাখার এসি শরীফুল : যুবককে জিম্মি করে নিলেন ২০ লাখ টাকা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ তদন্তে এক সদস্যের কমিটি গঠন করে সিএমপি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর নগরীর হালিশহর থানাধীন কে-ব্লক এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মো. আক্তারুজ্জামান শাকিল ও তাঁর বন্ধু মো. মুনসুরকে তুলে সিএমপি কার্যালয়ে নিয়ে যান এসি শরীফুল ও দুই এএসআই। ওই সময় শরীফুল ও এএসআই বাছির উদ্দিন সিএমপির এলআইসি (ল’ফুল ইন্টারসেপশন সেল) শাখায় কর্মরত ছিলেন। অপর এএসআই আবু সুফিয়ান কর্মরত ছিলেন রেশন স্টোরে।
শরীফুলের কাছে তথ্য ছিল, শাকিল অনলাইন জুয়ার এজেন্ট এবং তাঁর মোবাইল ফোনে বিপুল পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বাইন্যান্স ডলার রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে এলআইসি শাখায় আটকে রেখে ক্রিপ্টোকারেন্সি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও নগদ অ্যাপের মাধ্যমে মোট ২০ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একই সময়ে শাকিলের ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের ভেতরে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা দেওয়ার পর প্রাইভেটকারসহ শাকিল ও তাঁর বন্ধুকে ছেড়ে দেওয়া হলেও একটি আইফোন দেওয়ার দাবি করে শাকিলের ১৩টি মোবাইল ফোন আটকে রাখেন এসি শরীফুল। শাকিলের দাবি, তাঁর মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছিল। টাকা না দিলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে তিনি টাকা দিতে বাধ্য হন।
গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ১০ সেপ্টেম্বর এসি শরীফুলকে এলআইসি শাখা থেকে সরিয়ে সিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে এএসআই বাছির উদ্দিন ও আবু সুফিয়ানকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়া হয়।
সিএমপির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তদন্ত কর্মকর্তা এসি শরীফুলের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এবং দুই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন। দুই এএসআইয়ের বিষয়ে সিএমপি থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এসি শরীফুলের বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হবে।
ডিসি (পিওএম) মোহাম্মদ বদিউজ্জামান বলেন, ‘এসি শরীফুল ও দুই এএসআইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ দুটি তদন্ত প্রতিবেদন সিএমপি কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।’
বিবার্তা/জাহেদ/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]