‘উপরের নির্দেশে’ এলজিইডি‘র হিসাবরক্ষক রওজা, হাজিরা দেন উপজেলা অফিসে
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২০:০৭
‘উপরের নির্দেশে’ এলজিইডি‘র হিসাবরক্ষক রওজা, হাজিরা দেন উপজেলা অফিসে
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাবরক্ষক মোছা. রওজা বেগমের কর্মস্থল ও হাজিরা ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে কোনো লিখিত বদলি, প্রেষণ বা ডেপুটেশন আদেশ ছাড়াই তিনি জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে একই সময়ে তাঁর নামে সদর উপজেলা কার্যালয়ের হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মচারী। উপজেলা হাজিরা খাতায় নিয়মিত স্বাক্ষর দেখা গেছে। এ ঘটনায় দাপ্তরিক নিয়মনীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস বিশ্বাসের মৌখিক নির্দেশে রওজা বেগম জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তবে তাঁকে জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো লিখিত আদেশ দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত বলতে পারেনি।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী জানান, রওজা বেগম জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করলেও সদর উপজেলা কার্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের জন্য নিয়মিত খাতা তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কেন এভাবে হাজিরা নেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ‘উপরের নির্দেশ’ রয়েছে বলে জানানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।


এদিকে, সদর উপজেলা কার্যালয়ে রওজা বেগমের অনুপস্থিতির কারণে দাপ্তরিক কাজে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাঁদের ভাষ্য, বিভিন্ন উন্নয়নকাজের বিল-ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় ফাইলপত্রে হিসাবসংক্রান্ত স্বাক্ষর ও কার্যক্রম সম্পন্ন করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


অনুসন্ধান সূত্রে আরও জানা গেছে, জেলা এলজিইডি কার্যালয়ে নিয়মিত হিসাবরক্ষক থাকা সত্ত্বেও সদর উপজেলা কার্যালয় থেকে আরেকজন হিসাবরক্ষককে সেখানে দায়িত্ব পালনের জন্য নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই কার্যালয়ে একাধিক হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব বণ্টন কীভাবে করা হয়েছে এবং এর পেছনে কোনো প্রশাসনিক আদেশ রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


সরকারি কর্মচারীর কর্মস্থল পরিবর্তন, সাময়িক দায়িত্ব প্রদান কিংবা প্রেষণে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান ও দাপ্তরিক আদেশ অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লিখিত আদেশ ছাড়া দীর্ঘদিন অন্য কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন এবং মূল কর্মস্থলের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের বিষয়টি সত্য হলে, এর প্রশাসনিক বৈধতা ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।


এ ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—রওজা বেগমকে জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ কে দিয়েছেন? এ বিষয়ে কোনো লিখিত আদেশ রয়েছে কি না? তিনি জেলা কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করলে সদর উপজেলা কার্যালয়ের হাজিরা খাতায় কীভাবে স্বাক্ষর করছেন? একই সঙ্গে, জেলা কার্যালয়ে নিয়মিত হিসাবরক্ষক মোর্শেদ আলী থাকার পরও উপজেলা কার্যালয় থেকে আরেকজনকে সেখানে দায়িত্ব দেওয়ার প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা কী?


অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে কর্মস্থলসংক্রান্ত আদেশ, হাজিরা খাতা ও দায়িত্ব বণ্টনের নথি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।


তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোছা. রওজা বেগম,বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বিবার্তাকে বলেন, তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস বিশ্বাস স্যারের মৌখিক অর্ডারে আমি চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এলজিইডি জেলা অফিসে কর্মরত আছি। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর এর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রতিদিন সদরে যাওয়া হয় না, সপ্তাহে তিন দিন বাপাঁচ দিন পড় পড় গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে আসি।


এ বিষয়ে এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী ইউনুস আলীর মোবাইলে বার বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার জানামতে তিনি প্রেসনে আছেন, আমি বাইরে আছি, অফিসে গিয়ে খোজ নিয়ে জানাবো।


বিবার্তা/বিপ্লব/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com