দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করে ৩৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৫
দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিংয়ের দুধ পান করে ৩৬ শিক্ষার্থী অসুস্থ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা প্যাকেটজাত দুধ পান করে ৩৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।


সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার টেপ্রিগঞ্জ ইউনিয়নের কাজীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।


বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ‘আরডি’ ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত দুধ বিতরণ করা হচ্ছিল। বিতরণের সময় শিক্ষকরা কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো এবং কিছু প্যাকেটের দুধ দইয়ের মতো জমাট অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম ও স্কুল ফিডিং কর্মসূচির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনকে জানিয়ে দুধ বিতরণ বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।


শিক্ষার্থীরা জানান, প্যাকেটে সমস্যা থাকায় তারা দুধ খেতে চায়নি। কিন্তু মনোয়ার হোসেনের পরামর্শে দুধ পান করার পর তার মাথা ও পেট ব্যথা শুরু হয় এবং দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয়।


শিক্ষক তসলিমা খাতুনও জানান, কয়েকটি প্যাকেটে ফুটো ও দুধ জমাট দেখা গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দুধ পান করে শিক্ষার্থীদের তা খেতে বলেন। এরপরই তারা অসুস্থ হতে শুরু করে।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বলেন, সমস্যা দেখা দেওয়ার পর মনোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ে এসে নিজে দুধ পান করে পরীক্ষা করেন এবং দুধে কোনো সমস্যা নেই বলে জানান। এরপর শিক্ষার্থীদের দুধ পান করতে বলা হয়। দুধ পান করার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যেই কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মাথা ঘোরা, পেট ব্যথা, খিঁচুনি ও শারীরিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। পরে একে একে তাদের দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ৩৬ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত ১৭ জন শিক্ষার্থী সুস্থ বোধ করায় বাড়ি ফিরে গেছে। অন্যদের হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।


খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী মিঞা, দেবীগঞ্জের ইউএনও ইন্দ্রজিৎ সাহা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন হাসপাতালে যান। রাত ৯টার দিকে সেখানে উপস্থিত হন জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন।


সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার কারণ জানতে দুধ ও পাউরুটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।


জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিবার্তা/বিপ্লব/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com