
'শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াই : পেশার সুরক্ষার ৬০ বছর,মর্যাদা উন্নত করা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনে সারা দেশের মতো দিনাজপুরের হাকিমপুর হিলি উপজেলায় দিবসটি পালিত হয়েছে। তবে এই আয়োজনের নেপথ্য চিত্রটি শিক্ষক সমাজের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও অমর্যাদাকর।
অভিযোগ উঠেছে,উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের(কলেজ, স্কুল,মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) শিক্ষকদের চাঁদার টাকায় দিবসটির যাবতীয় খরচ ও দিবসটি পালন করা হলেও মূল ব্যানার বা আয়োজনের তালিকায় নাম রাখা হয়নি শিক্ষকবৃন্দের বা সংগঠন কিম্বা সমিতির।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে উপজেলার প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী শিক্ষক এক জন করে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে। সেখানে বাস্তবতা ভিন্ন। শিক্ষকবৃন্দ যথাসময়ে উপস্থিত হলেও সকাল ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জর্জ মিত্র চাকমা শিক্ষকদের মাঝে উপস্থিত হয়ে র্যালির জন্য ফটোসেশন শেষে তাঁর দপ্তরে গিয়ে বসেন বলে শিক্ষকদের অভিযোগ।
এরপর প্রায় ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদের হল রুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জর্জ মিত্র চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মোতালেব আলম, অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার সাখাওয়াত হোসেন, হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফেরদৌস রহমান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. আমিনুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. ফরিদ খান, বাংলাহিলি পাইলট স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা কামাল, পাউশগাড়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. মামুনুর রশীদ, বৈগ্রাম সঃ প্রাঃ বিঃ এর প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম, সহকারী শিক্ষক মো. মাহিদুল ইসলাম সহ অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন,মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ আয়োজনে দিবসটি পালনের কথা বলা হলেও বাস্তবে এসব দপ্তরের পক্ষ থেকে আর্থিক কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। বরং উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে(১০০০ টাকা)প্রতিষ্ঠা প্রতি চাঁদা তুলে এই আয়োজনের বাজেট প্রস্তুত করা হয় পূর্বেই।
হাকিমপুর উপজেলার পাউশগাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, আমি কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসার টাকা আদায়ের দ্বায়িত্বে ছিলাম, উপজেলায় সঃ প্রাঃ বিঃ রয়েছে ৪৭ টি এবং কলেজ, স্কুল ও মাদ্রাসা ৩৩ টি। সবমিলিয়ে দিবসটি পালন এর জন্য (৮০,০০০ টাকা) পাওয়া গেছে। উপজেলার কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসা ও সঃ প্রাঃ বিঃ এর অবসরপ্রাপ্ত ২০ জন শিক্ষককে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। দিবসটি পালনের ব্যানার তৈরি করেছেন অ্যাকাডেমিক সুপার ভাইজার সাখাওয়াত হোসেন বলে দাবি তার।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে আসা দুই জন শিক্ষককে একটি করে ক্যাপ দুপুরের খাবার দিয়েই শেষ এই বাজেট। দিবসটি পালনের আমন্ত্রণ করা হয়নি স্থানীয় প্রেসক্লাবকে।
কন্দর্পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নওশাদ আলী মন্ডল বলেন,জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২৬ প্রধান শিক্ষক ক্যাটাগরিতে উপজেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হলেও আমাদের সম্মাননা ক্রেস্ট না দিয়ে গুণী শিক্ষকের সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের। অথচ আমরা প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দিবসটি পালনের জন্য এক হাজার টাকা করে দিয়েছি। সেখানে ব্যানারে পর্যন্ত আমাদের শিক্ষকদের সংগঠনের নাম নেই।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে হাকিমপুর উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার সাখাওয়াত হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না। অথচ শিক্ষক দিবসের ব্যানার তৈরি করেছেন তিনি এবং উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তিনি।
স্থানীয় শিক্ষকদের আক্ষেপ,যারা দিনটির মূল প্রাণ এবং যাদের কষ্টে অর্জিত অর্থে দিবসটি পালন করা হলো,সেই ‘উপজেলা শিক্ষকবৃন্দ’এর নামটি পর্যন্ত ব্যানারের আয়োজক হিসেবে রাখা হয়নি। অথচ নাম ব্যবহার করা হয়েছে নামসর্বস্ব সরকারি দপ্তরগুলোর,যারা আর্থিকভাবে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা করেননি।
শিক্ষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যাদের পকেটের টাকায় এবং শ্রমে দিবসটি পালিত হচ্ছে, ব্যানার থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া কার স্বার্থে? আয়োজনে ‘উপজেলা শিক্ষকবৃন্দ’ যুক্ত করলে বা শিক্ষকদের প্রধান আয়োজক হিসেবে রাখলে প্রশাসনের কী এমন ক্ষতি হতো?
শিক্ষা অনুরাগী ও সচেতন মহল মনে করছেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবস হলো শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দিন। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা শিক্ষকদের প্রতি এক ধরনের অবমূল্যায়ন ও মানসিক কষ্টের কারণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতা শিক্ষক সমাজের আত্মসম্মানে আঘাত হানছে বলে মনে করেন তারা।
বিবার্তা/রব্বানী/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]