স্কুল ফিডিং চালুর পর বাড়ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৭
স্কুল ফিডিং চালুর পর বাড়ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

লালমনিরহাটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল (স্কুল ফিডিং) কর্মসূচি চালুর পর থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার পাটগ্রাম ও কালিগঞ্জ উপজেলায় গতবছরের ১লা ডিসেম্বর থেকে এই কর্মসূচি চলমান রয়েছে।


পাটগ্রাম উপজেলায় ১৪৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৫,৩৫৬ জন ও কালিগঞ্জ উপজেলায় ১৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২২,০৪৪ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ, বিদ্যালয়ে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং ঝরে পড়ার হার রোধ করা। প্রকল্পের আওতায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে ৫ দিন বান রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও ফর্টিফাইড বিস্কুট প্রদান করা হচ্ছে।


কালিগঞ্জ উপজেলার পন্ডিতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আম্বিয়া খাতুন বলেন, পূর্বে শিশুদের ক্ষুধার্ত থেকে ক্লাস করতে হতো। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকতে হতো বলে তারা বিদ্যালয়ে উপস্থিতির প্রতি অনীহাবোধ করতো। এখন তাজা রুটি, কলা, ডিমসহ দুধ ও বিস্কুটের ব্যবস্থা থাকায় তাদের ক্লাসে উপস্থিতি বেড়েছে। ক্ষুধার ক্লান্তি না থাকায় এবং পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় ক্লাসেও তাদের মনোযোগ বেড়েছে।


জেলায় এই প্রকল্পের কারিগরি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কাজ করছে ইকো সোশাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (ইএসডিএফ)। ইএসডিএফ-এর স্কুল ফিডিং প্রকল্পের জেনারেল ম্যানেজার আশিক আহমেদ জেবাল বলেন, সরকারের এই প্রকল্পটিকে আমাদের সংস্থা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা প্রতিনিয়ত তদারকি করছি যেন সঠিক মানের খাবারগুলো শিশুদের কাছে পৌঁছানো যায়।


পাটগ্রামের মুন্সীটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলে, “মিড-ডে মিলে নিয়মিত রুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট পাচ্ছি। আগে ক্ষুধা লাগলে ক্লাস করতে কষ্ট হতো। এখন পেট ভরা থাকে, তাই সবগুলো ক্লাস মনোযোগ দিয়ে করতে পারি।”


একই বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী জানায়, “স্কুলে খাবার পাওয়ায় প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসতে ভালো লাগে। রুটি, ডিম, কলা ও দুধ খেতে খুব ভালো লাগে। আগে ক্লাসে অনেক সময় ক্ষুধা লাগত, এখন খাবার পাওয়ায় সেই কষ্ট হয় না।”


আল মদিনা বেকারি এন্ড কনফেকশনারি উভয় উপজেলার বিদ্যালয়সমূহে বনরুটি সরবরাহের দায়িত্বপালন করছে প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী খলিলুর রহমান জানান, বনরুটির গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের বেকারিতে নিজস্ব ফুড টেকনোলজিস্ট এবং ল্যাবরেটরি রয়েছে। প্রতিদিন রুটির মান পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে।


পাটগ্রাম উপজেলার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ সরকার বিবার্তাকে বলেন, ক্লাসের বিরতিতে এক বেলা পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা পাওয়ায় বর্ষাকাল বা অন্যান্য প্রতিকূলতার মধ্যেও পাটগ্রামে খুদে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। বিগত বছরের তুলনায় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বেশ ইতিবাচক। খাবারের তালিকায় বন রুটি, কলা ও ডিম যুক্ত হওয়ায় বৈচিত্র্য এসেছে, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে আগ্রহের সঞ্চার করার পাশাপাশি পুষ্টি নিশ্চিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।


বিবার্তা/হাসানুজ্জামান/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com