
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করায় চরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। তবে পানি কমলেও কমেনি পদ্মার চরের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ভোগান্তি। বন্যায় চরবাসীর সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উঠতি ফসলসহ বিভিন্ন ধরণের ফসলের।
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এবারের বন্যার পানিতে চরাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৬০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। মাঠের ফসল পচে নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সংকট সৃষ্টি হয়েছে তীব্র গোখাদ্যের। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক সহ চরবাসী। চরের প্রধান অর্থকরী ফসল মরিচ ও কলাক্ষেত ছাড়াও ব্যাপক ক্ষতিহয়েছে আমন ধান, মাসকলাই, পাটের বীজ এবং পেঁপে বাগানের।
বন্যার পানি দীর্ঘসময় ধরে জমে থাকায় এসব ফসল পচে নষ্ট হয়েছে। ফলে লাভের মুখ দেখার আগেই চরের কৃষকসহ প্রান্তিকমানুষগুলো ফসল হারিয়ে নিঃস্বে পরিণত হযেছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বন্যাকবলিত সোনাতলা গ্রামের সাইদুর ব্যাপারী জানান, সমিতি থেকে ৫লক্ষ টাকা ঋণ করে এবার ৩ বিঘা মরিচ আর ১০ বিঘা কলার বাগান করেছিলাম। কিন্তু পদ্মার পানিতেকয়েক দিনেই সব পচে নষ্ট হয়ে গেল। এখন ঋণ কীভাবে শোধ করব, আর পরিবার নিয়ে কী খেয়ে বাঁচব, কিছুই বুঝতে পারছি না।
একই এলাকার কৃষক বাবু জানান, ৪ বিঘা জমির মরিচক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মরিচ সংগ্রহ শুরু হতে না হতেই বন্যার পানি এসে কয়েক দিনেই মরিচের জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়।
এদিকে চরের মাঠের ঘাস ও খড়ের গাদা পানিতে তলিয়ে থাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র গোখাদ্যের সংকট। নিজেদের খাবারের জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে আমার খামারের ১৫টি মহিষ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি বলে জানান একইএলাকার গোখামারী জাহাঙ্গীর হোসেন।
দৌলতপুর উপজেলা উপজেলা কৃষি অফিসার রেহেনা পারভীন বিবার্তাকে জানান, এবারের বন্যায় চরাঞ্চলে প্রায় ১০৬০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মরিচ ২৯১ হেক্টর, কলা ক্ষেত ২২৮ হেক্টর, সবজি ৩৩ হেক্টর, আমন ধান ৬২ হেক্টর, মাসকলাই ২৩ হেক্টর, বীজপাট ২১২ হেক্টর, গোখাদ্য ২০৩ হেক্টর, ফলের বাগান ৬ হেক্টর এবং প্রায় ২ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজতলা। বন্যাকবলিত পদ্মার চরের ৪টি ইউনিয়নের মধ্যে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। এখনোও অনেক ফসলের জমিতে পানি জমে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রনোদনার আওতায় আনার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ক্ষতিগ্রস্থ চরবাসীকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে প্রয়োজনসরকারি কৃষি প্রণোদনার পাশাপাশি সবধরণের সহায়তার।
বিবার্তা/শরীফুল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]