দৌলতপুরে কবর থেকে ‘পীর’ শামীমের লাশ তুলে দরবারে দাফনের ঘটনায় মামলা
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৪
দৌলতপুরে কবর থেকে ‘পীর’ শামীমের লাশ তুলে দরবারে দাফনের ঘটনায় মামলা
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কবরস্থানে দাফন করা আলোচিত ‘পীর’ শামীম জাহাঙ্গীরের লাশ কবর থেকে তুলে দরবার বা আস্তানায় দাফন করার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহত পীরের ভাই ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শনিবার রাতে দৌলতপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে এ ঘটনায় কেউ আটক বা গ্রেফতার হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।


উদ্ভূত পরিস্থিতি বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দরবার ও কবরস্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তীতে আবারো পীরের ভক্তরা কবর থেকে ‘পীর’ শামীমের লাশ উত্তোলন করতে না পারে এমন আশঙ্কায় পীরের কবরটি রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) স্থায়ীভাবে পাকা করা হয়েছে।


এর আগে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর (পাঁচশত বিঘা) কবরস্থানেদাফন করা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের লাশ তুলে তাঁর ভক্তরা একই এলাকায় অবস্থিত পীরের দরবার বা আস্তানায় দাফন করে। শনিবার সকালে ঘটনাটি জানতে পেরে পরিবারের লোকজন পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান ও দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরবারের ভেতর পীরের দাফনকরা লাশ তুুলে শনিবার বিকেলে পুনরায় কবরস্থানে নিয়ে পীরের নিজ কবরে পুন:স্থাপন করেন।


এবিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, রাতের আঁধারে কারা কবর খুঁড়ে পীরের লাশ সরিয়েয়েছে, তা শনাক্তে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এ ঘটনায় নিহত পীর শামীমের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পীরের কবরস্থান ও আস্তানায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


ভেড়ামারা-দৌলতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, পীরের দেহাবশেষ নিজ কবরে পুন:স্থাপনের পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কারা কবর খুঁড়ে পীরের দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছিল, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবরটি স্থায়ীভাবে পাকা করাহয়েছে।


উল্লেখ্য, পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে গত ১১ এপ্রিল দুপুর আড়াইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর গ্রামে বিভিন্ন বয়সী দুই শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা পীর শামীম জাহাঙ্গীরের আস্তানা বা দরবারে হামলা চালায়। এসময় স্থানীয় কিলার রাজিব মিস্ত্রিসহ হামলাকারী যুবকরা পীর শামীমকে তার কক্ষ থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে দোতলা থেকে নীচে ছুড়ে ফেলে। এরপর হামলাকারীরা সংগবদ্ধভাবে আস্তানায় আগুন জ¦ালিয়ে ভাঙচুর ওব্যাপক লুটপাটের তান্ডলীলা চালায়। নিহত পীরের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন ১২ এপ্রিল বিকেলে একই ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর (পাঁচশত বিঘা) কবরস্থানে দাফন করা হয়।


হত্যাকাণ্ডের ৩দিন পর ১৩ এপ্রিল রাতে নিহতের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফজলুর রহমান সান্টু বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৮০- ২০০ জনকে আসামি করা হয়।


পীর শামীম নিহত হওয়ার প্রায় ৫ মাস পর তাঁর ভক্তরা শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের আধাঁরে কবরস্থানের কবর খুঁড়ে পীরেরলাশ বা দেহাবশেষ তুলে দরবার বা আস্তানার ভেতর দাফন করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে নিহত পীরের ভাই ফজলুর রহমান সান্টু ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।


বিবার্তা/শরীফুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com