জামালপুরে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৫:১৮
জামালপুরে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

জামালপুর সদরের রশিদপুর এলাকায় এক নারীকে নিজ ঘর থেকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অপহরণের দায়ে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আব্দুর রহিম এই রায় ঘোষণা করেন।



সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ইউনিয়নের রশিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে মো. ছাত্তার আলী, কয়ড়ার পাড়া এলাকার মৃত শামছুল হকের ছেলে আব্দুল মালেক এবং মৃত নায়েব আলীর ছেলে মো. আনোয়ার।


মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ওই ভুক্তভোগী নারী রশিদপুর ভাটিপাড়া এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করে বসবাস করছিলেন। পারিবারিক মনোমালিন্যের জেরে তার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে ঢাকায় চলে যান। এরপর থেকে ওই নারী ছোট এক সন্তান নিয়ে নিজ বাড়িতে থাকতেন। একা থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী ছাত্তার আলী দীর্ঘ দিন ধরে তাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ছাত্তার এলাকায় প্রভাবশালী এবং মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত।


মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাত অনুমানিক ১১টার দিকে ছাত্তার আলী ও তার সহযোগীরা ওই নারীর ঘরের সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করে। ঘুম থেকে উঠে লোকজনের শব্দ পেয়ে তিনি দরজা খুললে চার্জার লাইট ও চাঁদের আলোতে আসামিদের দেখতে পান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আব্দুল মালেক নিজের কোমরে থাকা গামছা দিয়ে ভুক্তভোগীর মুখ বেঁধে ফেলেন। এরপর আসামিরা তাকে পাঁজাকোলা করে বসতঘরের উত্তর পাশে একটি বাঁশঝাড়ের নিচে নিয়ে যায়। সেখানে আনোয়ার ও মালেকসহ অন্যরা চারদিকে ঘিরে পাহারায় থাকে এবং ছাত্তার আলী তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে জানালে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দিয়ে রাত ১১টা ৫৫ মিনেটের দিকে আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।


পরদিন ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানান। তাদের পরামর্শে তিনি ২২ অক্টোবর জামালপুর থানায় ছাত্তার আলী, আব্দুল মালেক ও আনোয়ারসহ অজ্ঞাত আরও একজনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।


মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক জানান, দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার চলাকালীন আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামিদের এই দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান করেছেন। এই রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ।


বিবার্তা/এসএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com