ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব প্রবাসীর পরিবার
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৭
ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব প্রবাসীর পরিবার
নুর আলম সিদ্দিক, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রিন্ট অঅ-অ+

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুন্দ খালাসপুর এলাকায় এক অভিনব প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। সৌদি আরব ফেরত সাইফুল ইসলামকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে এবং তার ছোট মেয়ে ফাতেমা-তুজ-জোহরাকে সরকারি চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১৮ লাখ হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র।


অনুসন্ধানে জানা গেছে, রায়হান প্রামাণিক সম্পর্কে সাইফুল ইসলামের শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কের ভাতিজা। প্রতারণাই তার একমাত্র পেশা। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার জাল বিছানোর উদ্দেশ্যে হঠাৎ করে ২০২৪ সালের শুরুতে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে মাঝে মধ্যে যাতায়াত করতে থাকে। কখনো কার গাড়িতে সপরিবারে, আবার কখনো একা বেড়াতে আসত। তৎকালীন আওয়ামী লীগের বড় বড় কেন্দ্রীয় নেতাসহ এমপি-মন্ত্রীদের সাথে তার ব্যক্তিগত সখ্যতা রয়েছে বলে দাবি করত। তাদের সুপারিশে সে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) এর চাকুরি পেয়েছি৷ উপর মহলে হাত থাকায় তাকে কোনো দায়িত্ব পালন করা লাগে না। কিছুদিন পরে আবার ভোল পালটিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের জানায়, সে আমেরিকার ভিসা পেয়েছে। খুব শীঘ্রই আমেরিকা চলে যাবে। হঠাৎ একদিন সাইফুল ইসলামের বাড়ি এসে তার ছোট মেয়ে ফাতেমা-তুজ-জোহরাকে ৭ দিনের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে সরকারি চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে নগদ ৩ লাখ টাকা নেয়। পরে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলে ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সাইফুল ইসলাম ও তার মেয়ে ফাতেমা-তুজ-জোহরাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। সেখানে রায়হান ও তার ছেলে রাব্বি মিলে তাদের কারওয়ান বাজারে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সামনে নিয়ে যায়। তাদের নিচে রেখে সে ভেতর থেকে কিছুক্ষণ পর বেরিয়ে এসে জানায়, পরীক্ষা দেওয়া লাগবে না। ওদের লোক বদলি পরীক্ষা দেবে। এভাবে মিথ্যা কথা বলে বাবা-মেয়েকে ২ দিন ঘুরানোর পর তারা বাড়ি চলে আসে। পরবর্তীতে নানা অজুহাতে সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী আনজুমান বেগম ও তাদের ছোট মেয়ের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ৫, ১০, ১৫, ২০ হাজার করে টাকা নিতে থাকে। একদিন সাইফুল বাড়িতে না থাকার সুযোগে তার স্ত্রীকে না জানিয়ে রায়হান চাকরির জয়েনিং লেটার বাবদ তাদের ছোট ফাতেমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। তখন সে টাকা দিতে অক্ষমতা প্রকাশ করলে উলটাপালটা বুঝিয়ে তার গলার স্বর্ণের কানের দুল, হাতের আংটি ও রুপার পায়ের নুপুর খুলে নেয়।


এই ঘটনার মধ্যেই সে সাইফুল ইসলামকে ১৭ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। পরে তাদের মধ্যে একটি মৌখিক চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভিসার আগে ৬ লাখ টাকা, ভিসার পর ৬ লাখ টাকা এবং ইতালি গিয়ে ১ বছরের মধ্যে অবশিষ্ট ৫ লাখ টাকা পরিশোধের কথা হয়। চুক্তি অনুসারে ২০২৪ সালের ১২ মার্চ সকাল ১১টায় সাইফুলের পরিবার তাকে নগদ ৬ লাখ প্রদান করেন। এরপর থেকে সাইফুলের বাড়িতে রায়হানের আসা যাওয়া আরও বাড়তে থাকতে। একপর্যায় দীর্ঘ ৫ মাস পরে রায়হান তাদের জানায়, ইতালির ভিসা হয়েছে। আগামী ২১ আগস্ট ২০২৪ তারিখ সন্ধ্যায় ফ্লাইট এই কথা বলে সাইফুলকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে এয়ারপোর্ট এলাকায় একটি হোটেলে রেখে ৩ সপ্তাহ ধরে তালবাহানা করে শেষে ভিসা ও বিমানের টিকিটের কপি ধরিয়ে দিয়ে চুক্তি মত ৬ লাখ টাকা এবং টিকিট বাবদ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে কেটে পড়ে। তখন সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সিতে গিয়ে জানতে পারে তার ভিসা ও বিমানের টিকিট ভুয়া। তখন তিনি ঢাকা থেকে নিজ এলাকায় ফেরত চলে আসেন। পরবর্তীতে রায়হানের সাথে যোগাযোগ করলে কিছুদিন পর ফ্লাইট বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। শেষে সাইফুল সরাসরি রায়হানের বাড়ি গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে রায়হান তা অস্বীকার করে। এমতাবস্থায় সাইফুলের স্ত্রী আনজুমান বেগম বাদী হয়ে গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।


মামলার আসামিরা হলেন - বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া (পশ্চিমপাড়া) এলাকার বাসিন্দা রায়হান প্রামাণিক, তার স্ত্রী রুপালী বেগম এবং ছেলে রাব্বি মিয়া।


মামলার সূত্র ধরে সরেজমিনে ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তারা প্রতারণা ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে পরিবারের সদস্যরা ভুয়া অ্যাডমিট কার্ড, ভিসা ও বিমানের টিকিটের কপি দেখায়। সেগুলো আইটি বিশেষজ্ঞ দ্বারা পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, মোবাইলে এআই টুলসের সাহায্যে এগুলো তৈরি করে তাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারক চক্রের কথপোকথনের বিভিন্ন ভয়েস রেকর্ড পাওয়া যায়। তাতে কখনো চাকুরি ও বিদেশ পাঠানোর আশ্বাস, আবার কখনো টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা দেয়। এমনকি মাঝেমধ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শোনা যায়।


ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী জাফুরুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, আমার চাচা সাইফুলের বাড়িতে আত্মীয় হিসেবে তার ভাতিজা রায়হান আসা যাওয়া করত। প্রথম দিকে মোটরসাইকেলে আসা যাওয়া করলেও পরবর্তীতে কার নিয়ে যাতায়াত করত। তারপর শুনলাম চাচাকে বিদেশ পাঠাবে। টাকা নিয়ে চাচাকে ইতালির নেওয়ার কথা বলে বেশ কয়েকবার ঢাকায় ঘুরিয়ে নিয়ে এলো। চাচার মেয়েকেও চাকুরির কথা বলে টাকা নিয়ে সপরিবারের ঢাকা, বগুড়া ও রংপুরে নিয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে রায়হানের সাথে দেখা হলে বলত আগামী সপ্তাহে চাকুরি কনফার্ম, আবার কখনো বলত আগামী মাসে জয়েন করবে। পরে বুঝতে পারলাম ঘাপলা আছে। আমি চাক্ষুষ যা দেখলাম তাতে পুরো ঘটনাটি একটি প্রতারণা।


ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, আমার ভাতিজা রায়হান বাড়িতে আসা যাওয়া করত। একপর্যায়ে আমাকে বিদেশে পাঠানো ও মেয়েকে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নিল। এভাবে আমাকে ঘোরাতে লাগলো। পরে জানতে পারলাম এরা প্রতারক। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, এমপি-মন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের নাম ভাঙিয়ে চলত। আমাকে ম্যাগনেটিক কয়েন দেখিয়ে বলত এই কয়েন বিক্রি করলে শত শত কোটি টাকা পাবো। পরে জানতে পারি পুরোটাই জালিয়াতি। আমি নিঃস্ব হয়েছি, একদম অসহায় হয়ে পড়েছি। বিভিন্ন লোকের কাছে টাকা নিসি, কিন্তু টাকা দিতে পারছি না। তাদের ভয়ে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করতে পারছি না। রাস্তায় বের হলেই পাওনাদাররা টাকার জন্য চাপ দেয়। রায়হান, তার স্ত্রী ও ছেলে মিলে আমার সাথে প্রতারণা করেছে৷ আমি এই প্রতারণার বিচার চাই।


ভুক্তভোগী ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, ওরা আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। ২/৩ দিন থাকার পরে আমাকে বলে অল্প টাকায় তোমাকে ফ্যামিলি প্ল্যানিং এ চাকুরি দিবো। ৭ দিনের মধ্যে তোমার চাকুরি কনফার্ম। তোমার জন্য অ্যাপ্লাই করছি। তোমাকে ঢাকায় গিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে। পরীক্ষার কথা বলে ঢাকা থেকে ঘুরিয়ে নিয়ে আসে। এভাবে বিভিন্ন ছলচাতুরী করে বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও রুপার নুপুর হাতিয়ে নিয়েছে। আমাদের সাথে যে ক্ষতি করছে, এই রকম অন্য কোনো পরিবারের সাথে না করতে পারে। ওদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।


মামলার বাদী আনজুমান বেগম বলেন, আমার ভাতিজা রায়হান আমাদের বাড়িতে যাতায়াতের একপর্যায় আমাদের প্রলোভন দিতে থাকে। সে জানায় ঢাকায় তার তিতাস হোটেল, বগুড়ায় জামিল শপিং কমপ্লেক্স ও উপশহরে ডুপ্লেক্স বাড়ি আছে। আমি এসব যাচাই না করেই বিশ্বাস করি। আমার স্বামীকে ইতালি পাঠানো কথা ১২ লাখ টাকা এবং মেয়েকে সরকারি চাকুরির কথা বলে ৩ লাখ টাকা নেয়। পরবর্তীতে বগুড়া জয়পুরপাড়া গিয়ে দেখি সে ভাড়াবাসা থেকে পালিয়ে গেছে। বগুড়ায় নিউরন কোচিং সেন্টারে আমার মেয়ে নার্সিং ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমার মেয়েকে পরিবার পরিকল্পনায় চাকুরির কথা বলে সেখান থেকে নিয়ে আসে। আমি জমির ফসল বিক্রি, জমি বন্ধক, আত্নীয়স্বজনের কাছে ধার করে সেই টাকা ওদের হাতে তুলে দিয়েছি। এছাড়া ছলচাতুরীর মাধ্যমে আমার মেয়ের কানের দুল, হাতের আংটি ও পায়ের নুপুর খুলে নিয়েছে। এর বাহিরেও নানা বাহানায় আমাদের থেকে অনেকবার টাকা নিয়েছে। পরে জানতে পারি সে একজন প্রতারক।


পরবর্তীতে সাংবাদিকরা এই প্রতারক চক্রের ব্যাপারে গভীর অনুসন্ধান করলে বিভিন্ন তথ্য বেরিয়ে আসে। রায়হান প্রামাণিক, তার স্ত্রী রুপালি বেগম এবং ছেলে রাব্বি মিয়া মিলে বগুড়ায় ভয়াবহ প্রতারণার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। চক্রের মূল হোতা রায়হান শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি, আত্নীয়-স্বজন, এমনকি প্রতিবেশীদের সাথে প্রতারণা করতে কোনো দ্বিধা করেনি। তার প্রতারণার ফাঁদে নিঃস্ব হয়েছে প্রতিবেশী আমিনের পরিবার। সে অত্যন্ত সুকৌশলে আমিন ও তার মানসিক প্রতিবন্ধী বোনের কাছ থেকে বাড়ির জায়গা লিখে নেয়। পরে সেই জায়গা দখল করতে গিয়ে দুইপক্ষের মধ্য দ্বন্দ্ব হলে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে অর্ধেক জায়গার মালিকানা স্বত্ব বুঝিয়ে নিয়ে তা বিক্রি করে দেয়। রায়হানের বিয়ের পর থেকে স্ত্রী রুপালি বেগমকে সাথে নিয়ে এই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড শুরু হয়। শ্বশুরবাড়ির এলাকা দুপচাঁচিয়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে প্রথমে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে প্রতারণা করে। সেখানে তার প্রতারণার বিষয়টি ফাঁস হলে বাসা ভাড়া না দিয়েই বগুড়া সদরে পালিয়ে আসে৷ বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে তার এই প্রতারণা কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। তবে তার প্রতারণা বিষয়টি কোনোভাবে প্রকাশ হলেই বাসা ভাড়া বাকি রেখে পরিবারসহ অন্যত্র বাসা ভাড়া করে বসবাস করে। সর্বশেষ জয়পাড়ায় একটি বাসার ৩ মাসের ভাড়া না দিয়ে পালিয়ে যায়।


অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে রায়হানসহ চক্রটির বিরুদ্ধে আরও প্রতারণার তথ্য সাংবাদিকদের হাতে আসে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মেদিনীপাড়া গুজারহাট এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে খোকা মিয়ার কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা নেন তার ছেলেকে চাকুরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে। এছাড়াও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের কুন্দ খালাসপুর এলাকার মৃত দারাজ উদ্দিনের ছেলে পল্লী চিকিৎসক রায়হানের নিকট থেকে ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় তাঁর ছেলেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে। ভুক্তভোগী রায়হানের বাড়িতে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে তিনি অর্থ লেনদেন সংক্রান্ত একটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প দেখান। যাতে প্রতারক রায়হান প্রামাণিকের স্বাক্ষর পাওয়া যায়।


রায়হানের বর্তমান অবস্থান ও প্রতারণা সম্পর্কে জানতে বগুড়া সদরের এরুলিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় গেলে তার বৃদ্ধ বাবা-মা, ছোট ভাই ও মামা প্রতারণার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন।


রায়হানের পিতা আব্দুস সালাম বলেন, রায়হান আমার প্রথম পক্ষের স্ত্রীর ছেলে। সে দুইবার বিদেশ গিয়েছিল। বিদেশ থেকে এসে শ্বশুরবাড়িতে ছিল। দুই বছর আগে এরুলিয়া পশ্চিমপাড়ায় এসে বাড়িভাড়া নেয়। আমাদের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নাই। সে আমার কোনো খোঁজখবর রাখেনি, এমনকি কখনো ভরণপোষণ দেয়নি। সে এখানে এসে অমুকের জায়গা কেনে, তমুকের বাড়ি কেনে। কিন্তু সেগুলো আর দখল কিংবা বিক্রি করতে পারে না। আর একটা গাড়ি কিনে ভাড়ায় দিসে বলে শুনেছি। ছেলের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। কোথায় আছে সেটাও জানি না। একদিন আমার বোন এসে জানায় সে রায়হানকে টাকা দিসে।


সৎ মা রাশেদা বেগম বলেন, রায়হান আমার আগের পক্ষের ছেলে। ছোট থেকে লালন পালন করেছি। ১৫/২০ বছর এখানে থাকার পর বিয়ে করে শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। তারপর বিদেশ চলে যায়। বিদেশ থেকে এসে মা হিসেবে একটা কাপড় বা ১০ টাকাও দেয়নি। আমি অসুস্থ মানুষ, কোনোদিন আমাকে দেখতেও আসেনি। তিনি আরও জানান, সাইফুল টাকা দেওয়ার সময় আমাদের জানায়নি। তাহলে আমরা বাধা দিতাম। ঘটনার পরে আমরা বিষয়টি জানতে পারলাম। বগুড়া শহরের ভেতরে বিভিন্ন বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। পুরো পরিবার মিলে এই প্রতারণার কাজ করে। আমাদের এখানে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকত। বাসা ভাড়া না দিয়ে রাতের আঁধারে চলে গেছে। ঘটনার দিন আমাদের এখানে এসেও ছেলের পরীক্ষার কথা বলে ২২ শত টাকা নিয়ে গেছে।


তার মামা বাদশা মিয়া বলেন, রায়হানের কোনো ঠিক ঠিকানা নাই, ঠাই নাই। খালি প্রতারণা করে চলে। এখন কোথায় থাকে কেউ জানে না।


এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রায়হান প্রামাণিকের মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কল দিয়েও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।


এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী পরিবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, এই প্রতারক চক্রকে দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে আরও অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বে। অবিলম্বে রায়হানসহ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি এবং তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com