কোটচাঁদপুরে রেলকর্মীদের বিরুদ্ধে ট্রিলার চালকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২২:৪৬
কোটচাঁদপুরে রেলকর্মীদের বিরুদ্ধে ট্রিলার চালকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর রেলগেটে ইটবোঝাই একটি ট্রিলার অল্পের জন্য ট্রেন দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেও, পরে মামলার ভয় দেখিয়ে ট্রিলার চালকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর বাংলাদেশ রেলওয়ের সাফদারপুর স্টেশনে কর্মরত এক চাবিম্যান ও এক মিস্ত্রির বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এদিকে অভিযোগের সত্যতা মিললে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার।


জানা যায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে কোটচাঁদপুরের রিপন ব্রিকস থেকে ইটবোঝাই তিনটি ট্রিলার স্থানীয় শালকুপা গ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়। পথে সাফদারপুর-শালকুপা রেলগেটে একটি ট্রিলার রেললাইনের ওপর আটকে যায়। পরে স্থানীয়রা ট্রেনটি থামিয়ে দেন।


খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সাফদারপুর স্টেশনের চাবিম্যান মিন্টু রহমান ও মিস্ত্রি মিঠু রহমান। এ সময় ভীত হয়ে ট্রিলারচালক লিয়াকত হোসেন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।


অভিযোগ রয়েছে, পরে ওই দুই রেলকর্মী ইটভাটায় গিয়ে প্রথমে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে ট্রিলার, চালক এবং ভাটার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও হুমকি দেন। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে ১৭ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। টাকা দেওয়ার পর ট্রিলারটি রেললাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ট্রিলারচালক লিয়াকত হোসেন বলেন, “দুর্ঘটনার পর রেলের লোকজন আমাকে বলেন, তাদের সঙ্গে মীমাংসা না করে গাড়ি নিয়ে যেতে পারব না। ভয়ে আমি ভাটায় চলে যাই। পরে তারা ভাটায় এসে টাকা দাবি করেন। কোনো উপায় না পেয়ে ভাটা মালিকের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করি, আর বাকি টাকা আমার স্ত্রী পরিচিতদের কাছ থেকে ধার করে জোগাড় করেন। পরে সেই টাকা তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।”


ভাটার শ্রমিক কাওসার হোসেন জানান, “রেলের লোকজন প্রথমে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে আলোচনার মাধ্যমে ১৭ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়। এরপর আমরা স্টেশনে গিয়ে টাকা পৌঁছে দিই।”


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাফদারপুর স্টেশনের মিস্ত্রি মিঠু রহমান বলেন, “আমরা শুধু ট্রিলারটি দ্রুত রেললাইন থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ভাটায় গিয়েছিলাম। টাকা নেওয়া বা দাবি করার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
চাবিম্যান মিন্টু রহমানও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে ভাটায় গিয়ে গাড়ি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে আসি। টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি জানি না। কেউ যদি নিয়ে থাকে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”


সাফদারপুর স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার তামিনুর রহমান বলেন, “ট্রেন কিছুটা বিলম্বে পৌঁছানোয় বিষয়টি জানতে পারি। পরে শুনি রেলগেটে ট্রিলার আটকে পড়েছিল। তবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আগে জানতাম না। কেউ যদি এ ধরনের অনিয়ম করে থাকে, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রেলকর্মীদের কোনোভাবেই এ ধরনের অর্থ দাবি করার এখতিয়ার নেই।”


এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের কালীগঞ্জ কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিউ) সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


বিবার্তা/রায়হান/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com