দৌলতপুরে পদ্মার ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৩
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেনকুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান।


রবিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কোলদিয়ার হাটখোলাপাড়া, মাজদিয়ার ও ভুরকা এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি।


এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


পরিদর্শনকালে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে তাদের দুর্ভোগ দূর্দশার কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, নদীভাঙনে বহু পরিবারের বসতভিটা, আবাদি জমি ও ফলের বাগান বিলীন হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণএলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এলাকাবাসীর দাবি, পদ্মা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙনও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর দিকেও ধেয়ে আসছে নদী। ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুত সঞ্চালন লাইনও এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।


পাশাপাশি হুমকির মুখে রয়েছে রায়টা-মহিষকু বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সরকারি বেসরকারি স্থাপনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জামে মসজিদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙনরাধে দ্রুত জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ফেলে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধ এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানানতারা।


কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রশিদুর রহমান বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের প্রস্তাব প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঊর্ধ্বতন
কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জরুরি ভিত্তিতে সপ্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রত জিও ব্যাগ ফেলা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি স্থায়ী নদীশাসন ও বাঁধ নির্মাণের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।


উল্লেখ, দৌলতপুরে পদ্মা নদীর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকা-হাটখোলা থেকে কোলদিয়ার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে অব্যাহত ভাঙনে চার ফসলি জমি ও ফলের বাগান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।


নদীভাঙনের কারণে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ঝুঁকিতে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নদী ভরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভুরকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়ার কান্দিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়ার মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জুনিয়াদহ মাধ্যমিকবিদ্যালয়। এতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


বিবার্তা/শরীফুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com