মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:১০
ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

২৫০ শয্যার ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালকে ৬০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এই ৬০০ শয্যা হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, জনবল, টেকনিশিয়ান, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং খাদ্য ও ওষুধের পর্যাপ্ত বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ২৫০ শয্যা ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের লাউঞ্জ রুমে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


হাসপাতালের বর্তমান বেহাল দশা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে প্রতিদিন যে পরিমাণ রোগী আসেন, তা সামলানো বর্তমান কাঠামো দিয়ে চরম কঠিন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ৬০০ জন রোগী ভর্তি থাকলেও তাদের জন্য খাদ্য ও ওষুধের বরাদ্দ আসছে মাত্র ২৫০ জনের হিসেবে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অর্ধেকেরও কম কর্মরত আছেন। ৮৪ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে ৩৩ জন মেডিকেল অফিসারের পদই দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য।


হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, হাসপাতালে বর্জ্য পোড়ানোর মতো মৌলিক যন্ত্রও ছিল না। আট থেকে নয় লাখ টাকা মূল্যের এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার যন্ত্রটি আগামীকালের মধ্যেই ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে আইসিইউ, সিটি স্ক্যান, এমআরআই এবং আধুনিক মর্গের সুবিধা খুব দ্রুত চালুর জোরালো চেষ্টা চলছে বলেও উল্লেখ করেন।


এদিকে ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই পুরাতন হাসপাতাল ভবনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ কাজের জন্য প্রাথমিকভাবে স্থান নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে।


সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, '২০ কোটি মানুষের দেশে সবকিছু সরকারের ওপর ছেড়ে দিলে কীভাবে সম্ভব হবে? প্রতিটি মানুষকে সচেতন হতে হবে। নিজেকে পরিবর্তন করে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বর্জ্য যত্রতত্র না ফেলে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মাইন্ডসেটের পরিবর্তন আনা জরুরি।'


তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশু সুরক্ষায় আইন সংশোধন করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় ও জাতীয় উভয় পর্যায়েই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক মনোভাবের আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আপনাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা। বিষয়গুলোকে নেগেটিভভাবে না দেখে পজিটিভভাবে দেখলে আমরা দ্রুত কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব।'


বিবার্তা/বিধান/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com