
জীবিকার তাগিদে এবং পরিবারে সুখ-শান্তি ফেরাতে দুই বছর আগে মালয়েশিয়া পাড়ি জমিয়েছিলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার মাগুড়া সোনারপাড়া গ্রামের যুবক ওয়াসিম ইসলাম (৩২)। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, স্বপ্ন পূরণের আগেই কর্মস্থলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয় তাঁকে। মৃত্যুর ৪ দিন পর দেশে ফিরেছে তাঁর মরদেহ।
রবিবার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওয়াসিমের মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান ওয়াসিম ইসলাম। সেখানে তিনি পুত্রাজায়া শহরে কেএইচ টেকজায়া এসডিএন বিএইচডি নামের একটি কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) মৃত্যুর ৪ দিন পর গতকাল শনিবার (২৫ জুলাই) বিকাল ৪টায় মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখানে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ গ্রহণ করেন তাঁর পিতা শহিদুল ইসলাম। পরে সন্ধ্যায় মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
গভীর রাতে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। প্রবাসে থাকা ওয়াসিমের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছানোর সেই মুহূর্ত যেন পুরো গ্রামকে স্তব্ধ করে দেয়।
একমাত্র সন্তানের মরদেহবাহী কফিনটি সামনে আসতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ওয়াসিমের মা রশিদা বেগম। ছেলের কফিন জড়িয়ে মূর্ছা যেতে থাকেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওয়াসিমের স্ত্রী তাপসী বেগম বলেন, মানুষটা বলেছিল, আর কয়েক বছর বিদেশের মাটিতে কষ্ট করলেই সংসারের সব অভাব দূর হবে। সন্তানদের জন্য সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ গড়বে। কিন্তু সে সেই কথা রাখতে পারল না। এখন আমার ছোট দুটি ছেলেমেয়েকে নিয়ে কীভাবে বাঁচব, জানি না।
রবিবার সকাল ৮টায় বর্ধণকুঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ওয়াসিমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
ওয়াসিম মা-বাবা, স্ত্রী, আট বছর বয়সী মেয়ে তাবাসুম এবং তিন বছর বয়সী ছেলে তোহাকে রেখে গেছেন। দাফনের পর তাঁদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। উপস্থিত অনেকেই অশ্রু ধরে রাখতে পারছিলেন না।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ওয়াসিম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দুই বছর ধরে বিদেশে কাজ করলেও আর্থিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। ৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মালয়েশিয়া যান পরিবারের ভাগ্য বদলানোর আশায়। কিন্তু ঋণের অর্ধেক বোঝা পরিবারের ওপর চাপিয়ে দিয়ে স্বপ্ন পূরণের আগেই অকালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
বিবার্তা/নুর আলম/এসএম
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]