ধর্ষণের ঘটনা আড়াল করতে স্কুলছাত্রীকে অপহরনের চেষ্টা
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ২২:৫৬
ধর্ষণের ঘটনা আড়াল করতে স্কুলছাত্রীকে অপহরনের চেষ্টা
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ধর্ষণের ঘটনা আড়াল করতে নির্যাতিত স্কুলছাত্রীকে(১৫) অপহরনের চেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিনগত রাতে আদিতমারী থানায় মামলাটি দায়ের করেন নির্যাতিত ওই তরুনীর বাবা।


মামলার বিবরনে জানা যায়, উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়িটারী গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে মোখলেছার রহমান ফুলতলা(৪০) প্রতিবেশী সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ফুসলিয়ে গত ২৭ জুন সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে লিচু বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তার মুখ চেপে ধরে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে বাগানেই ফেলে রাখে। বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকেসহ তার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকী দেয়। রক্তাক্ত স্কুলছাত্রী কোন রকম বাড়ি এসে গোপন রাখে ধর্ষণ ও অসুস্থতার কারন।


গত ১ জুলাই নতুন পোশাক কিনে দেয়ার লোভ দেখিয়ো প্রতিবেশী সুমি বেগম ও নছিমন বেগমের সহায়তায় স্কুলছাত্রীকে ডেকে নেন মোখলেছার রহমান। পরে স্কুলছাত্রীকে প্রথমে রংপুর নিয়ে গিয়ে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ঢাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে এক বন্ধুর বাসায় রেখে আবারও স্কুলছাত্রীকে জোরপুর্বক ধর্ষণ করেন লম্পট মোখলেছার রহমান। এ সময় স্কুলছাত্রী চিৎকার দিয়ে রক্তাক্তা অবস্থায় ছুটে গিয়ে বাহিরের লোকজনের সহায়তা নেন। সেখানে উপস্থিত লোকজন লম্পট মোখলেছার রহমানকে মারপিট করে ছেড়ে দেয় এবং স্কুলছাত্রীর কাছ থেকে বাড়ির মোবাইল নম্বর নিয়ে তাকে ঢাকা গাজিপুর থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।


অসুস্থ্য স্কুলছাত্রীকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার। চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ্য হলে গত মঙ্গলবার রাতে লম্পট মোখলেছার রহমান ফুলতলা ও তার সহযোগি দুই নারীর বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় মামলা দায়ের করেন ওই স্কুলছাত্রীর বাবা। ধর্ষক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী বলেন, মোখলেছার রহমান ফুলতলা খুবই খারাপ প্রকৃতির মানুষ। তার ভাই মহুবর রহমান এ ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ। তার ক্ষমতার প্রভাবেশ সে অপকর্ম করে বেড়ায়। এ মামলাটিও নষ্ট করতে জোর চেষ্টা করেছিল গ্রাম পুলিশ মহুবর। গ্রাম পুলিশের সাথে থানা পুলিশের সম্পর্ক ভাল থাকে। সেদিক দিয়ে ফুলতলা বার বার অপরাধ করেও বেঁচে যায়। দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন তারা।


বাদি স্কুলছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে তাকে হত্যা করতে ঢাকায় নিয়েছিল। তার বিশ্বাস ছিল আমার মেয়ে কোন একদিন ঘটনা আমার কাছে প্রকাশ করবে। সেই ভয়ে আমার মেয়েকে মেরে ফেলতে আসামিরা মেয়ে অপহরন করে। আমি অশিক্ষিত গরিব মানুষ টাকা পয়সা নেই কোথায় যেতে হবে ন্যায় বিচারে সেটাও জানি না। থানায় মামলা করেছি। আমি আমার মেয়ের উপর অন্যায়কারীদের দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি চাই। মামলা করেও তাদের লোকজনের হুমকীতে জীবন আমাদের অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।


আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নাজমুস সাকিব সজীব বলেন,অভিযোগ পাওয়া মাত্র আমরা ঘটনা তদন্ত করে রাতেই মামলা নথিভুক্ত করেছি। বুধবার ভিক্টিমকে (স্কুলছাত্রী) ডাক্টারী পরীক্ষার জন্য হাসপাতেলে পাঠিয়েছি। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


বিবার্তা/হাসানুজ্জামান/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com