
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া হলোনা বাবা ও ছেলের। পথেই ট্রাক ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে তাদের প্রাণ গেল। আহত হয়েছে ৭ বছরের শিশু সন্তান।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর ২ দিকে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শিরা জানান, গঙ্গাচড়া বাজার দিক থেকে একটি মোটরসাইকেলে শিশুসহ ২ জন বড়াইবাড়ির দিকে যাচ্ছিল এসময় একটি ট্রাক বড়াইবাড়ির দিক থেকে গঙ্গাচড়ার দিকে যাচ্ছিল। মমো জুট মিলের সামনে ট্রাক ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই চালক নিহত হন। আহত আরোহী শিশু সন্তান ও বৃদ্ধকে চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পথে বৃদ্ধ মারা যায় এবং শিশুটি মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনায় নিহত মোটরসাইকেল চালকের নাম প্রশান্ত চন্দ্র সরকার (৩৫) ও তার বাবা নির্মল চন্দ্র সরকার (৭০) এবং আহত শিশু প্রশান্তের সন্তান বন্ধন (৭)।
তাদের বাড়ি গঙ্গাচড়া ইউনিয়নে চেংমারী কুড়িয়ার মোড় এলাকায়। বাবা ও ছেলে পেশায় পল্লী চিকিৎসক ছিলেন। এদিকে ঘটনার পরেই চালক পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ট্রাকটি জব্দ করে এবং প্রশান্তের লাশ ও তার বাবা নির্মলের মরদেহ উদ্ধার করে ।
নিহত প্রশান্তের ভায়রা (শ্যালিকার স্বামী), পুঞ্জ জানান, প্রশান্ত তার বাবা ও ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে আলমবিদিতর ইউনিয়নে আত্মীয়র বাড়িতে দাওয়াত খেতে যাচ্ছিল কিন্তু পথিমধ্যে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গেল।
নিহত প্রশান্তের পরিবারের স্বজনদের আহাজারিতে আকাশ বাতাস যেন ভারি হয়ে উঠেছে। প্রশান্তের স্ত্রী খুশিবালা স্বামীকে হারিয়ে এবং শিশু সন্তানের মুমূর্ষু অবস্থা দেখে বার বার জ্ঞান হারিয়ে মূর্ছা যাচ্ছে আবার কখনও নির্বোধের মতো তাকিয়ে আছে।
অনেকে জানান, রাস্তায় ধানের খড় শুকানোর জন্য ছিটিয়ে দেওয়া ছিল। মোটরসাইকেল সাইড নিতে গিয়ে খড়ে স্লিপ খেয়ে ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুস ছবুর বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিবার্তা/নাহিদ/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]