
কুড়িগ্রামে জেলায় প্রথমবারের মতো চালু হলো রেডি টু কুক ফিস বা রান্না উপযুক্ত মাছ। এখানে শুধুমাত্র দেশীয় প্রজাতির মাছ কাটা বাছা শেষে বাজার দরে বিক্রি করা হচ্ছে। রান্না উপযুক্ত মাছ বিক্রি হওয়ায় খুশি সাধারণ ক্রেতারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার রাজারহাট উপজেলার রেল স্টেশন এলাকায় চালু হয়েছে জান্নাতি ফ্রেশ এন্ড ফ্রোজেন মৎস্য পণ্য বিক্রয় কেন্দ্র। ওই এলাকার বাসিন্দা শ্রমিক বাবলু মিয়া-পেয়ারা বেগম প্রথমবারের মতো চালু করেছেন রান্না উপযুক্ত এই মাছের দোকান। রেডি-টু-কুক ফিস বা রান্না উপযুক্ত মাছ বাজারের চাহিদা অনুসারে সকল ধরনের হিমায়িত মাছ পাওয়া যায়। দেশীয় প্রজাতির মাছ কাটা-বাছা শেষে ধুয়ে পরিস্কার প্যাকেট জাত করে ফ্রিজে হিমায়িত করা হয়। এই দোকানে মলা, দারকিনা,পুটি, ট্যাংরা, শিং, মাগুর, চাপিলা, খলিসা, টাকিসহ সকল দেশীয় জাতের মাছ বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন বাবুল মিয়া বিভিন্ন বাজার থেকে দেশীয় মাছ কিনে এনে বাড়িতে নারীরা পরিস্কার করে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে প্যাকেটিং করে হিমায়িত করা হচ্ছে। এসব মাছ অনলাইন এবং হোম ডেলিভারী দেওয়া হচ্ছে। গড়ে প্রতিদিন মাছের প্রকার ভেদে সর্বনিম্ন ৪০০ থেকে হাজার টাকা কেজি দরে বিভিন্ন ওজনের মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
বাবলু মিয়া বলেন, আগে আমি খাদ্য গুদামে শ্রমিকের কাজ করতাম। কিন্তু বয়সের কারণে ভারী কাজ করতে পারি না। তাই আরডিআরএস বাংলাদেশের সহায়তায় আমি ও আমার স্ত্রী মিলে এই রেডি টু কুক ফিসের দোকান চালু করেছি। প্রায় দু মাস ধরে এই দোকান চালু করা হয়েছে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০কেজি করে দেশীয় মাছ বিক্রি হচ্ছে।
পেয়ারা বেগম বলেন, প্রতিদিন সকালে মলা, দারকিনা, পুটি, ট্যাংরা, শিং, মাগুর, চাপিলা, খলিসা, টাকিসহ বিভিন্ন মাছ বাজার থেকে এনে কাটাকাটি করে ধুয়ে ফ্রিজে রাখা হয়। প্রতিদিন কমবেশি মাছ বিক্রি হচ্ছে। সীমিত লাভ নিয়ে বাজারের দামেই এসব মাছ বিক্রি করে থাকি।
ক্রেতা সাদেক, বুলবুলি, শিল্পিসহ অনেকেই বলেন, বর্তমানে সময়ের সাথে মানুষের জীবনযাত্রায় চলে এসেছে নানা পরিবর্তন। প্রযুক্তি আর কর্ম ব্যস্ততার কারণে মানুষ এখন বড় মাছের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বড় মাছের তুলনায় দেশীয় মাছ কাটা-বাছাই এবং পরিষ্কার ঝামেলা মনে করায় গৃহিনীরা বিরক্ত হোন। তাই স্বাদ বা ইচ্ছে থাকলেও দেশীয় মাছ কেনা থেকে অনেকেই বিরত থাকেন। রেডি টু কুক ফিস দোকানে প্রস্তুতকৃত পরিস্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত দেশীয় মাছ বাজার দরে এখান থেকে মাছ কেনা যায়। কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই শুধু বাড়িতে নিয়ে ধুয়ে রান্না করতে হয়। মাছ বাংলাদেশের মানুষের অন্যতম প্রধান খাদ্য এবং আমিষের প্রধান উৎস। বাংলাদেশের মানুষের প্রায় ৬৫% আমিষের উৎস মাছ।
এছাড়াও আমিষের পাশাপাশি মাছ অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের বড় উৎস। বড় জাতের মাছের তুলনায় ছোট জাতের মাছে রয়েছে ভিটামিন,ক্যালসিয়াম, ফ্যাটিএসিড, চর্বি, খনিজ তেল, আয়রন এবং ফসফরাস ইত্যাদি খাদ্য উপাদান।
বাজারে বড় মাছ কাটার ব্যবস্থা থাকলেও ছোট মাছ কাটার কোন ব্যবস্থা নেই। বাজারে ছোট জাতের মাছ রান্নার উপযুক্ত করে প্রস্তুত ও বিক্রয়ের চাহিদা রয়েছে। রান্নার উপযুক্ত মাছ প্রস্তুত বা রেডি টু কুক ফিস বিক্রয় সম্ভাবনাময় এবং নারীদের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মৎস্য ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মানুষ সহজেই দেশীয় ছোট জাতের মাছগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারছে। এতে করে মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হওয়ার পাশাপাশি মাছের চাহিদা আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে।
আরডিআরএস বাংলাদেশের মৎস্য টেকনিক্যাল অফিসার মোজাম্মেল হক বলেন, বেসরকারি সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ ও পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং নারীদের কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করছে। জেলায় প্রথমবার রেডি টু কুক ফিস চালু হলেও আগামীতে অন্য উপজেলাতেও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে।
রাজারহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক বলেন, মৎস্য বিভাগ উদ্যেক্তাকে প্রশিক্ষণ ও বাজার করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বিবার্তা/বিপ্লব/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]