চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণ
আদালতে আসামির জবানবন্দি, পাঠানো হলো কারাগারে
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ২৩:১৮
আদালতে আসামির জবানবন্দি, পাঠানো হলো কারাগারে
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

চট্টগ্রামে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন আসামি মো. মনির হোসেন।


শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে জবানবন্দি দেন আসামি। পরে তাকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।


এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুপুরে তাকে চট্টগ্রাম আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ। সকালে নগরের বাকলিয়া থানায় মনিরকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন ভিকটিম শিশুর বাবা। আসামি মনির কুমিল্লার মুরাদনগর থানার বাখরাবাদ গ্যাস ফিল্ড ঘারঘাটা এলাকার মো. আলমের ছেলে।


এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আমিনুর রশিদ বলেন, ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আসামিকে পুলিশ আদালতে পাঠিয়েছে। রাতে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন ও মারামারির ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের করা হয়নি। এ নিয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।


মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ‌‌‌ভিকটিম শিশুটির মা গার্মেন্টেসে চাকরি করেন। বৃহস্পতিবার গার্মেন্টেসে যাওয়ার আগে শিশুটিকে তার নানির বাসায় রেখে যান। নানির বাসার সামনে খেলার সময় তাকে পাশের এক গুদামে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মনিরকে আটক করতে ৯৯৯ এ ফোন করেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে রাতে কয়েক দফায় স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে পুলিশের সংর্ঘষ হয়। পুলিশ ফাঁকা গুলি, টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫-২০ জন আহত হন। বেশ কয়েকজন পুলিশও ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন।


সন্ধ্যায় শত শত এলাকাবাসী বিক্ষোভে অংশ নেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছ থেকে বের করে তাদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান। রাত ১১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বাকলিয়ার তুলাতুলি এলাকায় সংঘাত চলে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব, আর্মড পুলিশ এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। এ সময় বেশ কয়েকজন জনতাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।


শিশুটির এক স্বজন বলেন, ‌‌দুপুরে খাওয়ার পর আমরা বাসায় ছিলাম। মেয়েটা দুষ্টুমি করতে করতে রাস্তায় যায়। তারপর তাকে ফুসলিয়ে ওই ব্যক্তি বাসার পাশে থাকা ডেকোরেশনের দোকানের গুদামে নিয়ে সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। ও কাঁদতে কাঁদতে এসে নানাকে ঘটনাটি বলে। নানাসহ আমরা লোকজন নিয়ে ডেকোরেশনের দোকানে গিয়ে ধর্ষককে আটক করে বাসার নিচে নিয়ে আসি। মানুষ বেড়ে গেলে ভবনের ভেতর ঢুকিয়ে ফেলি। মানুষ রাগে তাকে গণধোলাই দিতে চেয়েছিল। আটক মনিরের বয়স ৪০ বছর। চরচাক্তাই এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজের কর্মচারী। পাশাপাশি ডেকোরেশনের কাজও করে। রাত সাড়ে ১০টার দিয়ে পুলিশের পোশাক পরিয়ে তাকে চেয়ারম্যান ঘাটার বাসা থেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপরই উত্তেজিত জনতা পুলিশের সাথে সংঘাতে জড়ায়।


এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভিকটিম শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। তাকে সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ভিকটিম মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে যান। তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। মেয়েটির চিকিৎসার যাবতীয় খরচ নিজে বহন করবেন বলে ঘোষণা করেন।


বৃহস্পতিবার রাতে চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বাসিন্দা রাজিয়া আফরোজ বলেন, ধর্ষণ করলে মামলা হলেও বিচার হয় না। আমরা বিচার হতে দেখি না। বিচার হলে বাচ্চা শিশু ধর্ষণের শিকার হতো না। তাই আমরা ধর্ষককে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে নিজেরাই গণধোলাই দিয়ে তার বিচার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের সেই সুযোগ দেয়নি। উল্টো বিচার চাইতে আসা সাধারণ মানুষদের পুলিশ সারারাত মারধর করেছে।


বিবার্তা/এসএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com