
তামাক চাষে লাভের বদলে লোকসানের ঘানি টানতে টানতে ক্লান্ত লালমনিরহাটের প্রান্তিক কৃষক। হাড়ভাঙা খাটুনি আর পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে তামাক চাষ না করার শপথ নিয়েছেন কৃষক মিলন মিয়া। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষোভে নিজের জমির তামাক পুড়িয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ৫১টি মসজিদের পানি ঢেলে কান ধরে উঠবস করে শপথ নিয়েছেন—জীবনে আর কখনো এই ‘বিষ’ চাষ করবেন না।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই অভিনব প্রতিবাদ প্রত্যক্ষ করেন স্থানীয়রা। মিলন মিয়া লালমনিরহাট সদর উপজেলার হারাটি এলাকার বেলাল হোসেনের ছেলে।
জানা গেছে, ভাগ্য বদলের আশায় চলতি বছর ৩ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছিলেন মিলন। চাষের খরচ মেটাতে শখের মোটরসাইকেল এবং স্ত্রীর পালিত একটি গরু বিক্রি করেন তিনি। আশা ছিল, তামাক বিক্রি করে সব দেনা শোধ করে লাভের মুখ দেখবেন। কিন্তু মৌসুম শেষে বাজারে তামাকের কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে ঋণের বোঝা আরও ভারী হয়ে ওঠে। আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এই কৃষক।
লোকসানের জ্বালা সইতে না পেরে মিলন মিয়া ৫১টি মসজিদের পানি সংগ্রহ করেন। এরপর উপস্থিত সবার সামনে কান ধরে উঠবস করে তওবা করেন। সবশেষে জমিতে থাকা শুকনো তামাকে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি।
মিলন মিয়া বলেন, 'শখের বাইক গেছে, স্ত্রীর গরু গেছে, এখন হাতে কোনো টাকা নেই। কোম্পানিগুলোর সিন্ডিকেটের কারণে আমরা শেষ। এই বিষ চাষ আর কোনোদিন করবো না।’’
মিলন মিয়ার অভিযোগ, তামাক কোম্পানিগুলোর কারসাজি এবং সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। কোম্পানিগুলো শুরুতে প্রলোভন দেখালেও বিক্রির সময় কৃষকদের জিম্মি করে। তার এই প্রতিবাদে সংহতি জানান স্থানীয় অন্যান্য তামাক চাষীরা।
এ প্রসঙ্গে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাইখুল আরিফিন বলেন, আমরা সবসময়ই কৃষকদের তামাক চাষে নিরুৎসাহিত করি। মূলত সাময়িক লাভের আশায় কৃষক তামাক চাষ করেন। সম্ভবত লোকসানের কারণেই এই প্রতিবাদ। তামাক চাষীদের জন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো সরকারি সহায়তা দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
বিবার্তা/হাসানুজ্জামান/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]