সংস্কার প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়ার একদিনের মাথায় বিল পরিশোধ
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২৩:৪৩
সংস্কার প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়ার একদিনের মাথায় বিল পরিশোধ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জীবনগঞ্জ বাজার থেকে শাহপুর হয়ে ভিটি বিশারা এলাকা পর্যন্ত একটি সড়ক সংস্কার প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় এক কোটি টাকার বিল পরিশোধের তথ্য পাওয়া গেছে। আগাম বিল নেওয়ার পরও সড়কের কাজ নিম্নমানের হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সড়ক সংস্কারে উপজেলার মাঝিয়ারা এলাকায় একটি পুকুরের পাড়ে প্রতিরক্ষা প্রাচীর দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি।


নিয়ম অনুযায়ী, কাজ যতটুকু সম্পন্ন হবে, সে পর্যন্ত কাজের চলতি বিল দেওয়ার কথা। ফলে মাত্র একদিনের মধ্যে ঠিকাদার কীভাবে এক কোটি টাকার কাজ করে ফেলতে পারেন- তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


স্থানীয়রা জানায়, এরই মধ্যে সড়কের কিছু কাজ করা হয়েছে, তবে তা বিল নেওয়ার পর। যদিও ওই কাজের মান ও ধরন নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে অসন্তুষ্টি রয়েছে।


নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, নবীনগর উপজেলার জীবনগঞ্জ বাজার থেকে শাহপুর হয়ে ভিটি বিশারা এলাকা পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের প্রকল্প গ্রহণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ১১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৬ হাজার ৩৯৪ টাকা ও চুক্তিমূল্য ১০ কোটি ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮২ টাকা।


কাজের মেয়াদকাল ধরা হয় চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। কাজের দায়িত্ব পায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কাউতুলির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা কামাল।


গত ২ মার্চ নবীনগর উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. মাহবুব হোসেন এক চিঠিতে তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কাজ দেখভালের দায়িত্ব দেন। এর পরই কাজ শুরু করার কথা।


৪ মার্চ একই প্রকৌশলী আরেক চিঠিতে প্রথম চলতি হিসেবে এক কোটি ছয় লাখ ৭৭ হাজার ৪৩৯ টাকা বিল পরিশোধের সুপারিশ করেন। ওই সুপারিশের ভিত্তিতে তুলে নেওয়া হয় টাকা।


গত রবিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাজ শুরুর চার মাসের মাথায় সড়কটির উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। একাধিক জায়গায় দেওয়া প্রতিরক্ষা প্রাচীর বেহাল অবস্থা। মাঝিয়ারা এলাকায় একটি পুকুর দ্রুত শুকিয়ে মাটি নেওয়া হলেও সেখানে দেওয়া হয়নি পার্শ্বপ্রাচীর এতে ওই স্থানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে।


মাঝিয়ারা এলাকার আব্দুল আউয়াল নামের এক বাসিন্দা বলেন, মনে হচ্ছে আমরা একটা মগের মুল্লুকের দেশে বাস করছি। সংস্কারের নামে এখন যেভাবে রাস্তা ফেলে রাখা হয়েছে তাতে আগেই ভালো ছিল। ঠিকাদার যদি কাজ না করেন, তাহলে যেন এর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়- সেই দাবি জানাচ্ছি।


রতনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আব্দুল মান্নান বলেন, শুনেছি রাস্তা ২৪ ফুট চওড়া হবে। এ কথা ঠিকাদার বলার পর একটি পুকুর দ্রুত শুকানো হয়। কিন্তু রোজার পর আর কাজের দেখা মেলেনি। বিষয়টি আমরা সংসদ সদস্যকে জানাবো।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওই কাজ সংক্রান্ত কাগজপত্রে থাকা মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তা ধরেন আব্দুল আজিজ নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে মেসার্স মোস্তফা কামালের প্রকৌশলী পরিচয় দিয়ে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি মূলত অফিসে বসি। সাইডে যাওয়া হয় না।


তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ঢাকায় থাকেন বিধায় বিভিন্ন কাজে আমার মোবাইল ফোন নাম্বার দিয়ে রাখেন। কাজটি সম্পর্কে আমি অবগত নই।


এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোস্তফা কামালের স্বত্বাধিকারী মোস্তফা কামাল মস্তু বলেন, এটাতে সমস্যা কোথায়। হয়তো কার্যাদেশের চিঠি দিতে দেরি করেছে। যে কারণে চিঠি পাওয়ার আগে কাজ শুরু করে ফেলা হয়। তবে বিষয়টি সম্পর্কে আরো জেনে বিস্তারিত বলা যাবে।


নবীনগর উপজেলা প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম বলেন, আমি যোগদানের পর বিষয়টি নজরে আসে। পরে ঠিকাদারকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়। কারণ দর্শানোর চিঠি দেখানোর কথা বললে তিনি বলেন, ‘এটি এখন ফাইলে নেই’। কীভাবে ফাইল থেকে ‘নাই’ হলো তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।


বিবার্তা/নিয়ামুল/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com