যমুনা নদীর তীর থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সরকারি বালু লুটের অভিযোগ
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৪
যমুনা নদীর তীর থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে সরকারি বালু লুটের অভিযোগ
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা মূল্যের এই বালু প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাতের আঁধারে পাচার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে, আর প্রশাসনও পড়েছে বেকায়দায়।


জানা যায়, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিমিটেডের ‘বড়পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’ এর আওতায় যমুনা রিভার ক্রসিং অংশে বৈদ্যুতিক টাওয়ার স্থাপনের জন্য ড্রেজিং কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে বসুন্ধরা গ্রুপ। নিয়ম অনুযায়ী, ড্রেজিংয়ের ফলে উত্তোলিত বালু নির্ধারিত স্থানে স্তূপ করে সরকারকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা।


কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, যমুনা রেলসেতুর উত্তর পাশে সংরক্ষিত ওই বালু স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র ও পার্শ্ববর্তী জেলার একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে নিয়মিত লুট করা হচ্ছে। রাতের বেলায় ট্রাকযোগে বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, এবং পুরো প্রক্রিয়াটি সন্ত্রাসীদের পাহারায় পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।


স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বালুর নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তাদের সহযোগিতায় সংঘবদ্ধভাবে এই লুটপাট চালানো হচ্ছে। এতে প্রশাসনের তদারকি কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


এদিকে, সরকারি এই সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে গিয়ে চাপে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ভূঞাপুর উপজেলা প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের চাপের কারণে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই বালু নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যবহারের কথা ছিল। কিন্তু তা না করে রাতের আঁধারে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে সরকারি সম্পদের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে ভাঙনকবলিত মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে তাদের প্রাপ্য সহায়তা থেকে।


তারা অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ, বালুর সরকারি নিলাম এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় পুরো বালু লুট হয়ে গেলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা স্পষ্ট কোনো মন্তব্য দিতে রাজি হননি।


পিজিসিবি’র সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ড্রেজিংয়ের ফলে উত্তোলিত বালুর একটি অংশ নদীতে মিশে যায়, আর অতিরিক্ত অংশ নদীতীরে রাখা হয়। তবে এসব বালুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দিকে ইঙ্গিত করেন তিনি।


অন্যদিকে বসুন্ধরা গ্রুপের সাইট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, তারা কেবল ড্রেজিং কাজ করছেন। উত্তোলিত বালুর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব।


ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ড্রেজিংকৃত বালু সরকারের কাছে হস্তান্তরের কথা থাকলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। ফলে প্রশাসনের পক্ষে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া জটিল হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।


টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জানান, উপজেলা প্রশাসনের প্রতিবেদন ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


বিবার্তা/বাবু/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com