
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে আসনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ইস্তেহার পাঠ অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী ঝিনাইগাতী) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে বুধবার বিকেলে নির্বাচনী ইসতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে মঞ্চের সামনে রাখা চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব লুৎফর রহমান জানান, বেলা আড়াইটায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। তারা নেতাকর্মীদের নিয়ে দুপুর ২টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে এসে দেখেন বসার ৫০০ চেয়ারের সবগুলোতে জামায়াত- শিবির কর্মীরা দখল করে নিয়েছে। এসময় তারা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করে তাদের জায়গা করে দিতে বলেন। ইউএনও এসময় মঞ্চে উপস্থিত জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বাদলকে সহযোগিতার জন্য আহ্বান জানান। জামায়াত প্রার্থী তাদের নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানালেও তার কথা কেউ কানে তুলেনি। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের লোকজন তাদের ওপর হামলা করেন। এতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, যুবদলের উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামসহ ২৫-৩০ জন আহত হন।
তিনি আরো জানান, অনুষ্ঠানস্থলে জামায়াত শিবিরের প্রায় হাজার খানেক নেতা-কর্মী ছিলেন। তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অটোরিকশা করে রড-লাঠিসোটা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। আমরা মনে করেছি ইসতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে এত লোকের প্রয়োজন নেই।
বিএনপি নেতার এ দাবি নাকচ করে শেরপুর-৩ আসনের (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল সাংবাদিকদের বলেন, অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগেই বিএনপির সন্ত্রাসীরা কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করেছে। এতে আমাদের অর্ধ-শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।
এদিকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা বিএনপির নিরীহ, শান্ত নেতাকর্মীদের রক্তাক্ত করেছে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। তিনি এ সময় কাউকে আইন হাতে না তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।
কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছিল। এসময় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী সংঘর্ষে থামাতে চেষ্টা করছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বেই বসা নিয়ে বাক-বিতণ্ডার জেরে দু'পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
তিনি আরো বলেন, এ সময় বিএনপি প্রার্থী অনুষ্ঠান স্থলে ছিলেন না। জামায়াত প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। তিনি সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
বিবার্তা/জাহিদুল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]