
নামাজ আদায়ের সময় অনেকের মনেই বিভিন্ন ধরনের এলোমেলো চিন্তা ভিড় করে। এটি কতটা স্বাভাবিক এবং এ অবস্থায় করণীয় কী? নামাজ আদায়ের অন্যতম আদব হলো একাগ্রতা, মনোযোগ ও বিনয়-নম্রতার সঙ্গে তা সম্পন্ন করা। নামাজে দাঁড়িয়ে মুসল্লির মনে এমন অনুভূতি থাকা উচিত যেন তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে দেখছেন। যদি তা সম্ভব না হয়, অন্তত এই ধারণা রাখা দরকার যে আল্লাহ তাকে দেখছেন এবং তিনি আল্লাহর সঙ্গে একান্তভাবে কথা বলছেন। তবে নামাজের সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে মনে বিভিন্ন এলোমেলো চিন্তা চলে আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এ ধরনের চিন্তা মনে এলে সঙ্গে সঙ্গে আবার নামাজের দিকে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে হবে এবং যতটা সম্ভব এসব চিন্তা দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
এ চেষ্টা করার পরও যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো চিন্তা চলে আসে, তবে সে জন্য গুনাহ হবে না এবং নামাজও নষ্ট হবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে দুনিয়াবি চিন্তা আনা বা মনোযোগ ফিরে পাওয়ার পরও ইচ্ছা করে সে চিন্তায় ডুবে থাকা ঠিক নয়। এতে নামাজের সওয়াব কমে যায়।
নামাজে মনোযোগ ধরে রাখতে কয়েকটি বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে—
পবিত্রতার প্রতি যত্ন
পবিত্রতার প্রতি যত্নবান হতে হবে। অর্থাৎ ইস্তিঞ্জা ও অজু সুন্নত ও আদব অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে এবং কাপড়-চোপড়ের পবিত্রতাও নিশ্চিত করতে হবে।
জামাত শুরুর আগে মসজিদে যাওয়া
জামাত শুরু হওয়ার কিছু সময় আগে মসজিদে পৌঁছানো উত্তম। ফরজ নামাজের আগে সুন্নত নামাজ আদায় করে অপেক্ষার সময় আল্লাহর মহিমা ও মর্যাদার কথা মনে করা উচিত। ভাবতে হবে, অল্প সময়ের মধ্যেই সৃষ্টিকর্তার দরবারে হাজির হতে যাচ্ছি।
প্রত্যেক নামাজকে জীবনের শেষ নামাজ মনে করা
প্রত্যেক ওয়াক্তের নামাজ এমনভাবে আদায় করা উচিত যেন এটি জীবনের শেষ নামাজ হতে পারে এবং হয়তো আর সুযোগ নাও পাওয়া যেতে পারে।
কিরাতের প্রতি মনোযোগ
নামাজে যা পড়া হয় তার শব্দ ও অর্থের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। কোরআন তিলাওয়াতের সময় আয়াতের অর্থ চিন্তা করা এবং রুকু-সিজদাসহ অন্যান্য অবস্থায় যে তাসবিহ পড়া হয়, তার অর্থ উপলব্ধি করার চেষ্টা করা উচিত।
বিশেষ করে সুরা ফাতিহা পড়ার সময় একটি হাদিস মনে রাখা যেতে পারে। সেখানে রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি নামাজ অর্থাৎ সূরা ফাতিহাকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে দুই ভাগে ভাগ করেছি।
বান্দা যখন বলে আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন, তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। বান্দা যখন বলে আর রাহমানির রাহিম, তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে। যখন বান্দা বলে মালিকি ইয়াওমিদ্দিন, তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার মহিমা বর্ণনা করেছে।
এরপর বান্দা যখন বলে ইইয়াকা নাবুদু ওয়া ইইয়াকা নাস্তাঈন, তখন আল্লাহ বলেন, এটি আমার ও আমার বান্দার মধ্যে এবং বান্দা যা চেয়েছে তা তাকে দেওয়া হবে। আর যখন বান্দা বলে ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাকিম, তখন আল্লাহ বলেন, এটি আমার বান্দার জন্য এবং সে যা প্রার্থনা করেছে তা সে পাবে।
সুন্নত ও আদবগুলো খেয়াল রাখা
নামাজের প্রতিটি রুকন আদায়ের সময় তার সুন্নত ও আদবগুলো খেয়াল রাখা উচিত। যেমন রুকু অবস্থায় দৃষ্টি পায়ের আঙুলের দিকে রাখা, কনুই শরীর থেকে কিছুটা আলাদা রাখা, হাতের আঙুল দিয়ে হাঁটু শক্ত করে ধরা এবং এমনভাবে ঝুঁকে থাকা যাতে মাথা ও পিঠ সমান থাকে।
প্রত্যেক আমলের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখা
নামাজের একটি আমল শেষ হওয়ার পর পরবর্তী আমলের দিকে মনোযোগ রাখা দরকার, যাতে ধারাবাহিকভাবে নামাজের সব কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায়।
এসব বিষয়ের প্রতি যত্নবান হলে ইনশাআল্লাহ নামাজে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হবে। শুরুতে কিছুটা চেষ্টা ও অনুশীলন প্রয়োজন হলেও ধীরে ধীরে এতে অভ্যাস তৈরি হয়ে যায় এবং মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রবণতাও কমে আসে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]