রমজানে দান-সাদকাহ ও ইফতার করানোর ফজিলত
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১১:১৭
রমজানে দান-সাদকাহ ও ইফতার করানোর ফজিলত
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

রমজান আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও মানবিকতার মাস। এ মাসে ইবাদতের পাশাপাশি দান-সদকা, জাকাত ও মানুষের প্রতি সহমর্মিতা বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। ইসলামে দান কেবল অর্থ দেওয়ার নাম নয়; এটি হৃদয়ের উদারতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক মহৎ মাধ্যম।


রমজান ও দানশীলতার বিশেষ সম্পর্ক


রমজানে সৎকাজের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। তাই এ মাসে দান-সদকা বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَنفِقُوا مِمَّا رَزَقْنَاكُم হে মুমিনগণ! আমি তোমাদেরকে যা রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় কর। (সুরা বাকারা:২৫৪)


আল্লাহ তাআলা আরও বলেন, مَثَلُ الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنبَتَتْ سَبْعَ سَنَابِلَ যারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাদের দৃষ্টান্ত একটি শস্যবীজের মতো, যা সাতটি শীষ উৎপন্ন করে (সুরা বাকারা:২৬১) এই আয়াতগুলো দানশীলতার বহুগুণ প্রতিদানের প্রতিশ্রুতি দেয়।


রমজানে নবীজির দানশীলতা


সাহাবিগণ বর্ণনা করেন, كان رسول الله ﷺ أجود الناس، وكان أجود ما يكون في رمضان নবীজি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল, আর রমজানে তিনি আরও বেশি দানশীল হতেন। (সহিহ বুখারি:৬) এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে রমজানে দান করা সুন্নাহ এবং বিশেষ ফজিলতপূর্ণ আমল।


জাকাত ও রমজান


জাকাত ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। অনেক সাহাবি রমজানেই জাকাত আদায় করতেন, কারণ এ মাসে সওয়াব বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো। (সুরা বাকারা ২:৪৩) জাকাত সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি করে এবং দরিদ্রের প্রতি সহমর্মিতা গড়ে তোলে।


সাদকাহ ও ইফতার করানোর ফজিলত


রমজানে রোজাদারকে ইফতার করানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। রসলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, من فطّر صائمًا كان له مثل أجره غير أنه لا ينقص من أجر الصائم شيء যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছু কমবে না। (সহিহ তারগিব:১০৭৮) এটি সহমর্মিতার এক সুন্দর উদাহরণ,নিজে রোজা রেখে অন্যের কষ্ট উপলব্ধি করা এবং তার পাশে দাঁড়ানো।


সহমর্মিতা রোজার প্রকৃত শিক্ষা


রমজানের রোজা ক্ষুধা ও তৃষ্ণার মাধ্যমে আমাদের দরিদ্রের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়। তাই রোজা কেবল উপবাস নয়, বরং সামাজিক সংবেদনশীলতার প্রশিক্ষণ।


আল্লাহ তাআলা বলেন,لَن تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّىٰ تُنفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ নেকি অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো। (সুরা আল ইমরান:৯২) এই আয়াত আমাদের শেখায় সত্যিকারের দান হলো প্রিয় জিনিস আল্লাহর পথে দেওয়া।


গোপনে দান করার মর্যাদা


إِن تُبْدُوا الصَّدَقَاتِ فَنِعِمَّا هِيَ ۖ وَإِن تُخْفُوهَا وَتُؤْتُوهَا الْفُقَرَاءَ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ তোমরা যদি প্রকাশ্যে দান কর, তা ভালো; আর যদি গোপনে দান করে গরিবদের দাও, তবে তা তোমাদের জন্য আরও উত্তম।(সুরা বাকারা:২৭১) গোপন দান রিয়া (দেখানো) থেকে বাঁচায় এবং আন্তরিকতা বৃদ্ধি করে।


রমজানের সামাজিক প্রভাব


১.রমজানে দানশীলতা সমাজে ধনী-গরিবের ব্যবধান কমায় ২.পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি করে ৩.হিংসা ও বিদ্বেষ দূর করে ৪. সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করে।
রসলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, الراحمون يرحمهم الرحمن যারা দয়া করে, রহমান তাদের প্রতি দয়া করেন। (সুনানু আবি দাউদ: ৪৯৪১)


রমজান কেবল ইবাদতের মাস নয়; এটি মানবিকতা জাগ্রত করার মাস। দানশীলতা ও সহমর্মিতা রমজানের মূল চেতনা। যে ব্যক্তি এ মাসে তার সম্পদ, সময় ও ভালোবাসা অন্যের জন্য ব্যয় করে, সে প্রকৃত অর্থেই রমজানের শিক্ষা গ্রহণ করে। রমজান আমাদের শেখায় নিজে ভালো থাকা নয়, অন্যকেও ভালো রাখা।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com