আজ বাইশে শ্রাবণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০৬
আজ বাইশে শ্রাবণ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী আজ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

বর্ষার মেঘ, বৃষ্টির ছন্দ আর প্রকৃতির নিবিড় সৌন্দর্যের সঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছিল গভীর আত্মিক বন্ধন। যে বর্ষাকে তিনি অসংখ্য কবিতা, গান ও সাহিত্যে চিরস্থায়ী রূপ দিয়েছেন, সেই ঋতুতেই তিনি বিদায় নিয়েছিলেন পৃথিবী থেকে। আজ ২২ শ্রাবণ (৬ আগস্ট) কবিগুরুর ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী।


১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ কলকাতার জোড়াসাঁকোর পৈতৃক বাড়িতে তাঁর জীবনাবসান হয়েছিল।


মাত্র আট বছর বয়সে সাহিত্যচর্চা শুরু করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলা সাহিত্যকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, যা বিশ্বসাহিত্যে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, চিঠিপত্র, শিশুসাহিত্য এবং চিত্রকলাসহ সৃজনশীলতার প্রায় সব ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। দুই হাজারেরও বেশি গান রচনা করে তিনি বাংলা সংগীতকে সমৃদ্ধ করেছেন। আজও তার রচিত রবীন্দ্রসংগীত বাঙালির আবেগ, অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি।


১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এশিয়ার প্রথম নোবেলজয়ী সাহিত্যিক হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন। তার এই অর্জন শুধু বাংলা সাহিত্য নয়, সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন পরিচিতি এনে দেয়।


সাহিত্য ও শিল্পচর্চার পাশাপাশি শিক্ষা, সমাজসংস্কার এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন অগ্রগামী। শান্তিনিকেতনে প্রতিষ্ঠা করেন বিশ্বভারতী, যেখানে মুক্তচিন্তা, মানবিকতা ও প্রকৃতিনির্ভর শিক্ষার আদর্শ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষকের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং পল্লী পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করেন। ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া ‘নাইট’ উপাধি প্রত্যাখ্যান করে মানবতা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে তার দৃঢ় অবস্থানের পরিচয় দেন।


১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদা সুন্দরী দেবীর ১৫ সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন ১৪তম। সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে ওঠা রবীন্দ্রনাথ পরবর্তী সময়ে বাংলার নদী-প্রকৃতি, গ্রামীণ জনজীবন এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখকে নিবিড়ভাবে অনুভব করেন, যার গভীর প্রভাব পড়ে তার সাহিত্যকর্মে।


বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ এবং ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’—দুটি দেশের জাতীয় সংগীতই তার রচনা। বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তার গান মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী মানুষের অনুপ্রেরণার অন্যতম উৎস ছিল। মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, স্বাধীনচেতা মনন এবং বিশ্বমানবতার যে দর্শন তিনি তুলে ধরেছেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।


বিশ্বকবির প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে আজ দেশজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, স্মরণানুষ্ঠান, কবিতা আবৃত্তি, রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয় গীতিনাট্য ‘শ্যামা’। এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বকবির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবে।


দেহগতভাবে তিনি আমাদের মাঝে না থাকলেও তার সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধ আজও কোটি মানুষের জীবনে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিরকাল অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবেন।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com