যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪৪
যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

১০ বছর আগে ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামী দুলাল হোসেন ওরফে দুলু ওরফে জুয়েলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।


রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় দেন। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- দুলালের ভাই হারুন, ভাবি মোরশেনা, বোন সুমাইয়া এবং বোন জামাই রাজু।


সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) সাজার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আসামির স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তারা খালাস পেয়েছেন।


মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০০১ সালে দুলালের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন শারমিন। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে অপর আসামিদের কু-পরামর্শ ও প্ররোচনায় দুলাল শারমিনের পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে মারধর করতো। ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আসামিরা যৌতুকের জন্য তাকে মারধর করে। ঘটনার বিষয়ে শারমিন তার মাকে জানায়, আসামিরা শরীরে কেরোসিন ঢেলে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। শারমিনের চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের ভর্তি করা হয়।


এ সংবাদ পেয়ে শারমিনের মা মোসা. মোমেলা হাসপাতালে গিয়ে মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানতে পারেন। ৩০ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শারমিন।


এ ঘটনায় তার মা মোমেলা কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় দুলালের মা জরিনা, এই পাঁচ আসামিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি মামলার তদন্ত শেষে ৬ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এ, কে এম সাইদুজ্জামান। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। মামলার বিচার চলাকালে জরিনা বেগম মারা যান।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com