
সিলেটে আলোচিত শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া অপর দুই আসামিকে লাস প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় প্রদান করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকির হোসেন (৩০) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের পশ্চিম পাড়ার ধন রায়ের চক গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। । এছাড়া জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
ফাহিমার বাবা রাইছুল হক জানান, খালাসপ্রাপ্তরা তার মেয়ের মরদেহ লুকানোর সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা খালাস পেয়ে গেল। দুই আসামি খালাস পাওয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানানন, আদালত দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা করেছেন। যা নজিরবিহীন। এতে আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭মে একই গ্রামের প্রতিবেশী রাইছুল হকের মেয়ে ফাহিমাকে জাকির হোসেন সিগারেট নিয়ে আসার জন্য দোকানে পাঠায়। শিশু ফাহিমা সিগারেট নিয়ে ফিরলে তাকে নিজের ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় ফাহিমা অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে ফাহিমাকে গলাটিপে হত্যা করে মরদেহ গুম করতে দুইদিন নিজ ঘরে একটি সুটকেসে লুকিয়ে রাখে। সময় বুঝে রাতে বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেয়া হয়। ৮ মে জালালাবাদ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় ঘাতক জাকিরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তদন্তে পুলিশ জাকিরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় পুলিশ জাকির ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। জাকিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ এবং দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মরদেহ গুমে সহায়তার অভিযোগ করা হয়।
গত ১ জুলাই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার রায় দেন আদালত।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]