জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা
প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫৯
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে যুবকের আত্মহত্যা
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

জাতিসংঘের সদর দপ্তরের কাছে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিউইয়র্কের পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নির্বাসিত তিব্বতিদের একটি সংবাদমাধ্যম এবং অধিকার কর্মীরা ওই ব্যক্তিকে একজন তিব্বতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিব্বতের স্বাধীনতা চেয়ে তিনি নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে তারা।


নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একটি জরুরি ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মারাত্মকভাবে দগ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।


পুলিশ জানায়, তাকে বেলভিউ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। তবে পুলিশ ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি এবং আত্মাহুতির কোনও সম্ভাব্য কারণও জানায়নি।


নির্বাসিত তিব্বতিদের সংবাদমাধ্যম ‘ভয়েস অব তিব্বত’ জানিয়েছে, তিব্বতের স্বাধীনতা ও ঐক্যের জন্য লাইভে এসে আহ্বান জানানোর পর তিব্বতি অধিকার কর্মী লোবগা রংজেন ‘নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে আত্মাহুতি দেন’।


স্থানীয় নিউজ সাইট ‘অ্যামনিউইয়র্ক’ জানিয়েছে, রংজেন পেশায় একজন উবার চালক ছিলেন। তিব্বতের পতাকা নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন তিনি। ওয়েবসাইটটি লোবসাং পালজোর নামে অন্য এক উবার চালকের বরাত দিয়ে জানায়, তিব্বতি সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমাবেশ থেকে রংজেনকে চিনতেন তিনি।


পালজোর ওই নিউজ ওয়েবসাইটকে বলেন, ‘চীনের সরকার তাঁর দেশবাসীর ওপর যে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তা নিয়ে রংজেন অত্যন্ত ক্ষুব্ধ ছিলেন।’


চীনের নতুন ‘জাতিগত ঐক্য আইন’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। চলতি সপ্তাহে কার্যকর হওয়া এই আইনটি বেইজিংকে দেশের সীমানার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়ার আইনি ভিত্তি দিয়েছে।


এই আইনটির মাধ্যমে তিব্বতি ও উইঘুরসহ চীনের ৫৫টি জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে একটি ‘অভিন্ন’ জাতীয় পরিচয় তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর অনেকেই চীনা শাসনের অধীনে অসন্তুষ্ট। বিশ্বজুড়ে থাকা তিব্বতিরা এই আইনের বিরোধিতা করে আসছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৫০ সালে তিব্বতের নিয়ন্ত্রণ নেয় চীন। যদিও বেইজিং একে সামন্ততান্ত্রিক দাসত্ব থেকে তিব্বতের ‘শান্তিপূর্ণ মুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে।


শুক্রবার এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এই ‘আত্মাহুতির’ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, প্রাচীনকাল থেকেই তিব্বত চীনের ভূখণ্ডের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। বেইজিং বিশ্বাস করে ‘সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ আইন অনুযায়ী এই বিষয়টি মোকাবিলা করবে’।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com