
গাজায় এবার যেন বর্বরতার সব সীমা অতিক্রম করল ইসরাইল। প্রিয়জনকে দাফন করে বাড়ি ফেরার পথে শোকার্ত মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। এ রকম দুটি হামলায় অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে জানাজা-দাফন শেষে কবরস্থান থেকে ফেরার পথে শোকার্ত মানুষের ওপর ড্রোন হামলা চালায় ইসরাইল। এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে একই এলাকায় দাফন শেষে ফেরার সময় ফিলিন্তিনিদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে, উত্তর গাজা ও গাজা সিটিতে আলাদা হামলায় নারীসহ আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এসব হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, হামাস যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই এ অভিযান। এ ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির প্রকাশ্য ও পরিকল্পিত লঙ্ঘন অভিহিত করে হামাস বলছে, নেতানিয়াহু বাহিনীর আগ্রাসনে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।
গাজা কর্তৃপক্ষের মতে, এই হামলার ফলে শুক্রবার ভোর থেকে গাজাজুড়ে ইসরাইলি হামলায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে ১৩-তে এবং ৭২ ঘণ্টায় ২৫-এ দাঁড়ায়।
নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-আওদা হাসপাতাল এক বিবৃতিতে জানায়, আল-বালাতা বাজার এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের এক সমাবেশে ইসরাইলি হামলায় তারা আটজনের মৃতদেহ গ্রহণ করে এবং ২০ জন আহতকে চিকিৎসা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আহমদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে জানাজার মিছিল শুরুর অপেক্ষায় থাকা ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, ইসরাইলি বাহিনীর হাতে নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাটিতে বেশ কয়েকটি মৃতদেহ ও আহত ব্যক্তি পড়ে আছে এবং তাদের পোশাক ও শরীর রক্তে ভেজা।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইল ক্রমাগত লঙ্ঘন করে চলেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইসরাইলি যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় ১ হাজার ১২৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৩ হাজার ৬৪৩ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক সামরিক অভিযানে ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি আহত হয়েছেন। এছাড়া এই ছিটমহলের প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে।
এদিকে গাজায় নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করার দাবি করেছে ইসরাইল। দেশটির গণমাধ্যম জানিয়েছে, বর্তমানে উপত্যকার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ বলছে, গাজার সীমান্তজুড়ে তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে দুটি ডিভিশন মোতায়েন আছে।
হামলাার কারণে ক্রমাগত বাস্তুচ্যুতি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে গাজায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, নানা বাধা সত্ত্বেও খাদ্য, কৃষি ও শিক্ষা সহায়তা অব্যাহত আছে।
চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে আড়াই লাখের বেশি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন শিক্ষা কর্মসূচিতে অংশ নেয়া প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার শিশুর জন্য পাঁচ হাজারের বেশি শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে। তবে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]