মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের ক্ষমা চাইতে হবে : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ২১:০২
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের ক্ষমা চাইতে হবে : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

দেশের সমৃদ্ধি ও জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে একাত্তরে যাদের ভূমিকা বিতর্কিত ছিল, তাদের অকপটে সেই দায় স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান।


শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)’ আয়োজিত ‘দি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল, তাদের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তা না হলে মুক্তিযোদ্ধা ও জাতির জন্য বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া কঠিন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রকে ধারণ করতে হবে।


তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ম্যানেজার বাংলোয় অনুষ্ঠিত সভায় জেনারেল এম এ জি ওসমানীর সভাপতিত্বে মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান যুদ্ধের নাম ‘মুক্তিযুদ্ধ’ রাখার এবং যুদ্ধের নেতৃত্ব জেনারেল ওসমানীর হাতে অর্পণের প্রস্তাব দেন। সেই ঐতিহাসিক সভার স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সেখানে নামফলক স্থাপনের কাজ চলছে।”


পার্বত্য চট্টগ্রামে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে আহমদ আযম খান বলেন, ‘খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা রক্ষায় নিয়োজিত সদস্যদেরও যথাযথ সম্মান জানাতে মন্ত্রণালয় কাজ করবে।


‘সম্মানটাই বড় বিষয়, টাকা নয়’—যোগ করেন তিনি।
ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীকে আরো শক্তিশালী ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা হবে।


তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠনে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। স্বাধীনতার পক্ষ-বিপক্ষের বিভাজন ভুলে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।’


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ​বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত আক্রমণের মুখে যখন জাতি দিশাহারা ও অবদমিত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখনই ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।


এই সংকটময় মুহূর্তে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপ্ত ও অনুপ্রাণিত করেছিল। এটিই হলো প্রকৃত সত্য।’


অনুষ্ঠানে রাওযা ক্লাবের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল হকের সভাপতিত্বে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও অফিসররা বক্তব্য দেন।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com