
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হামলা আরও জোরদারের ঘোষণা দেয়ার পর দেশটিতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর চালানো এই হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যুদ্ধবিরতির পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর বিবিসি
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহর শতাধিক অবকাঠামো ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিকে সবচেয়ে তীব্র বোমাবর্ষণের একটি রাত বলে উল্লেখ করা হচ্ছে।
এর আগে গত সোমবার নেতানিয়াহু বলেছিলেন, হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে হামলায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে তিনি সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। পরদিন মঙ্গলবার নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আমরা লেবাননে আমাদের অভিযান আরও জোরালো করছি।’
তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) স্থল অভিযানে বড় আকারের বাহিনী ব্যবহার করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। নেতানিয়াহুর দাবি, উত্তর ইসরায়েলের জনগণকে হিজবুল্লাহর হামলা থেকে রক্ষার জন্য নিরাপত্তা অঞ্চল আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
অবশ্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দুই পক্ষই তা বারবার লঙ্ঘন করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান জটিল আলোচনাও হুমকির মুখে পড়েছে। ইসরায়েল প্রতিদিনই বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় এখনও ইসরায়েলি সেনা মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বেকা উপত্যকার মাশগারা গ্রাম এবং দক্ষিণ লেবাননের বুর্জ আল-শামালিসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা হয়েছে। কিছু হামলা হয়েছে প্রায় ৯০০ বছরের পুরোনো বোফোর্ট দুর্গের কাছেও। ইউনেস্কো এই দুর্গকে মধ্যযুগীয় দুর্গ স্থাপত্যের অন্যতম সংরক্ষিত নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সোমবার দেয়া ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, ইরান-সমর্থিত শিয়া গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরায়েল আরও বেশি ও আরও তীব্র হামলা চালাবে। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যেতে সক্ষম ফাইবার-অপটিক ড্রোন ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা তাদের চূর্ণবিচূর্ণ করে দেব’।
তার এই ঘোষণার পর বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় মানুষজন নিরাপদ স্থানে সরে যেতে শুরু করেন। রাস্তাজুড়ে দীর্ঘ গাড়ির সারি দেখা যায়।
যদিও রাজধানী বৈরুত রাত্রিকালীন হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছে, তবুও পুরো রাতজুড়ে লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]